সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

তাবলীগে সংকট তৈরি উলামায়ে ‘ছু্ঁ’দের কাজ: নদওয়াতুল উলামার মুহতামীম

তাবলীগে সংকট তৈরি উলামায়ে ‘ছু্ঁ’দের কাজ: নদওয়াতুল উলামার মুহতামীম

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | ভারতের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নদওয়াতুল উলামার মুহতামিম,বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ আলেম আল্লামা রাবে হাসান নদভী-এর এক অডিও বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি আলেমদের উদ্দেশ্যে প্রদান করেন। তা আমদের পাঠকদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। তাই পূনরায় পাঠকের স্ববিস্তারে জন্য তুলে ধরা হল।
——————————————–

তাবলিগের বর্তমান সমস্যা নিয়ে ভারতের নদওয়াতুল উলামা-এর মুহতামীম  আল্লামা রাবে হাসান নদভী তাঁর এক বক্তব্যে বলেছেন, আমি ইসলামের ইতিহাস যতটুকু পড়েছি, এতে দেখেছি- এমন কোন সময় ছিলো না যার একদিকে উলামায়ে হক, অন্যদিকে উলামায়ে ছুঁ ছিলেন না।

এমন কোন সময় যায়নি, যখন উলামাদের মধ্যে এমন এক গ্রুপ ছিলো না, যারা উলামায়ে হকের কথাকে ভুল ব্যাখ্যা করে ফিতনা সৃষ্টি করেনি। বিভিন্ন সময় উলামায়ে ছুঁরা গোটা উম্মতকে পথভ্রষ্ট করেছে। জঙ্গে জামল, জঙ্গে সিফফিন থেকে শুরু করে ইমাম হাসান-হোসেনের সময় এবং এরপর তাবিঈন, তবে তাবিঈনের সময়ের কথা মনে করুন। এরপরে যদি আমরা আমাদের সময়ে দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং তা ভেঙে দুভাগে বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস দেখি, তবে অনেক কিছুই দেখতে পাবো। যদি আমরা কারি তৈয়ব সাহেবের সময় দারুল উলূম দেওবন্দের ইতিহাস দেখি তবে দেখবো সেই সময় কিছু আলেমের ভুল ধারণায়, ভুল চিন্তায় এবং অপপ্রচারের কারণে দারুল উলূম দেওবন্দকে দুভাগে বিভক্তি করেছে। এখানে মূলত এমন কিছু স্বার্থ কাজ করেছে যা নিজেদের ব্যক্তিগত পদ, পদবী এবং অর্থের জন্য ছিলো। কেউ কেউ এমন করতে চেয়েছেন নদওয়াতুল উলামাকে দু’ভাগে বিভক্ত করার জন্যও।

আফসোসের কথা, হিন্দুস্থানে যে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানই বড় হয়েছে তা ভেঙে ফেলার চেষ্টায় উলামায়ে ছু-এর গোষ্ঠি প্রত্যেক সময় প্রস্তুত থেকেছে। ইসলাম বারবার খন্ড বিখন্ড হয়েছে উলামায়ে ছু’দের দ্বারাই। তাবলীগের পেছনে তারাই লেগেছে। একটি বড় সংগঠন ছিলো জমিয়তে উলমা, তা ভেঙে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। কারি তৈয়ব সাহেবের সময় কিছু উলামা, কিছু মাদরাসার ছাত্র তাঁকে প্রকাশ্য দৌড়িয়ে মাদরাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন কারো কারো হাতে পিস্তলও ছিলো। এই কথাগুলো আমরা ভুলতে পারছি না।

আমার বন্ধুগণ! যে তাবলিগ জামায়াত দ্বীনের জন্য, দ্বীন রক্ষার জন্য কাজ করছে। হিন্দুস্থানের ৮০ ভাগ মাদরাসার ছাত্র তাবলিগ জামায়াতের সাথীদের সন্তান। আমরা প্রতিদিন দেখছি বড় বড় অনেক আলেমের ছেলে-মেয়ে মাদরাসায় লেখাপড়া না করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজে পড়ছেন, অথচ তাবলিগের সাথীদের সন্তানেরা মাদরাসায় পড়ছেন একটা চিন্তা থেকে, যে পৃথিবীব্যাপি দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাবেন। সাধারণ মানুষ তাবলিগের মেহনতে যাওয়ার কারণে মনে মনে চিন্তা করেন, তাদের সন্তানদের যে মাদরাসায় পড়িয়ে কোরআন শিখাবেন, আলিম বানাবেন এবং তা দিয়ে ইসলাম এবং মুসলমানদের ফায়দা করবেন। ইসলামের শান-শওকত বৃদ্ধি করবেন। যদি তাবলিগের আকাবিরদের চিন্তায় কিংবা কাজে কোনো প্রকার ত্রুটি থাকতো, তাহলে এমন হতো না।

তাবলিগে হযরত মাওলানা ইলিয়াস (র.)-এর সময় গেলো, হযরত মাওলানা ইউসুফ (র.)-এর সময় গেলো, হযরত মাওলানা এনামুল হাসান (র.)-এর সময় গেলো, তখন হযরত শায়খুলহাদিস জাকারিয়া (র.) উপস্থিত ছিলেন। আমরা যদি দেওবন্দের দিকে দৃষ্টি দেই, দেখব সেখানে মাওলানা আশারাফ আলী থানবি (র.), মাওলানা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানি (র.) উপস্থিত ছিলেন। হযরত মাওলানা কাসেন নানুতুবী (র.)-এর সন্তানেরাও উপস্থিত ছিলেন। মুফতি মাহমুদ, মুফতি কেফায়েতুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। হযরত মাওলানা ইলিয়াস (র.), হযরত মাওলানা ইউসুফ (র.), হযরত মাওলানা এনামুল হাসান (র.), শায়খুলহাদিস হযরত মাওলানা জাকারিয়া (র.) তারা মেহনত করতে থাকেন এবং কাজ সামনে যেতে থাকে।

মাওলানা সাদ (হাফিজাহুল্লাহ) তাবলিগের মেহনতকে নিজের জীবনের মকসুদ বানিয়ে নিয়েছেন। তিনি তাঁর চিন্তা এবং কর্মকে আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের জন্য, দ্বীনের ইজ্জতের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন। যারা তাবলিগকে নিজেদের রুটি-রুজি এবং সম্মানের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছিলেন মাওলানা সাদ ওদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি যখন এগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিলেন, কিছুটা সংস্কার করতে চাইলেন, তখন একটি গ্রুপ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে দিল। ওরা অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের কিছু উলামাকে বিভ্রান্তও করে ফেলেছে। এ কারণে তারা তাহকিক ছাড়াই বক্তব্য দিতে শুরু করলেন। ফলে আজ উম্মতের মধ্যে এক আশ্চর্যজনক সংঘাত শুরু হয়ে গেছে। এখন উলামারা এমন ভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, যেন হক আর বাতিলের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমাদেরকে এই যুদ্ধ থেকে বাঁচতে হবে। হযরত আলী (র.) ও হযরত মোয়াবিয়া (র.)-এর মধ্যে যখন যুদ্ধ হয়, তখন সাহাবাদের একগ্রুপ উভয়কে বুঝিয়েছেন, বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।

খেলাফতের সময় নানা বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার ইতিহাস আমাদের সামনে।আমি মাওলানা আরশাদ মাদানি হাফিজাল্লাহ, মাওলানা আবুল কাসেন নোমানী হাফিজাল্লাহ এর কাছে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের ওই উলামাদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেনো তাদের চিন্তার পরিবর্তন করে দ্বীনি কাজকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন। দরখাস্ত করছি, আপনারা আপনাদের চিন্তা মধ্যে পরিবর্তন আনুন, দ্বীনি ফিকিরকে গুরুত্ব দিন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com