শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৭ অপরাহ্ন

আমি অপারগ ক্ষমা করবেন: মাওলানা রবিউল হক

আমি অপারগ ক্ষমা করবেন: মাওলানা রবিউল হক

এক সময়ের নিজামুদ্দিন মার্কাজের বানানো কাকরাইলের আহলে শুরা ছিলেন, তাবলীগের মুরুব্বীদের অন্যতম মাওলানা রবিউল হক সাহেব। এখন মূলধারার তাবলীগের কাজ থেকে এখন বিচ্ছিন্ন। নিজামুদ্দিন কেন্দ্রীয় আলমী মারকাজ ও বিশ্ব আমীর থেকে বিদ্রোহ করে সারাদেশে অজাহাতি করে বেড়ান। বর্তমান হালতে মেহনতের ভিতর বাহিরের কিছু প্রশ্ন নিয়ে গতকাল মাওলানা রবিউল হক সাহেবের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম এর নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল্লাহ শাকিল  

পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল।

আব্দুল্লাহ শাকিল : আসসালামু আলাইকুম
মাওলানা রবিউল হক : ওয়ালাইকুমস সালাম

আব্দুল্লাহ শাকিল : হুজুর হাজী সাহেব ইন্তেকাল করলেন আপনারা কেউ জানাযায় গেলেন না? পাক ইজতেমায়ও তো গেলেন না। ভিসাতো লাগানোই ছিল? কারনটা কী?
মাওলানা রবিউল হক : এটা উপরের নিষেধ ছিল!

আব্দুল্লাহ শাকিল : কাদের নিষেধ ছিল, বলা যাবে কি?
মাওলানা রবিউল হক : সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধ ছিল। তাই যাওয়া হয়নি।

আব্দুল্লাহ শাকিল : হুজুর টঙ্গীর মাঠে মাদরাসার শতশত ছাত্র আানা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে নিউজ আসতেছে। এটি কী ঠিক হচ্ছে? যদি একটি গন্ডগোল হয়ে যায়, তাহলে এর দায়ভার কে নিবে? ছাত্রদের অবিভাবক ও সরকারের কাছে তখন জবাবদিহি করা লাগতে পারে? আপনার কাছে ছাত্রদের এভাবে ব্যাবহারের বিষয়ে জানতে চাই? এটি কি আসলে ঠিক হচ্ছে?
মাওলানা রবিউল হক : যারা নিচ্ছেন তারা হয়তো বুঝেশুনেই নিচ্ছেন। এবিষয়ে আমার জানা নেই।

আব্দুল্লাহ শাকিল : হুজুর আপনার অভিমত কি? আপনি কি ছাত্রদের ব্যবহারের বিষয়টি সমর্থন করেন?
মাওলানা রবিউল হক : ভাই আমিতো এবিষয়ে এখনো কোন চিন্তা ফিকির করি নি।

আব্দুল্লাহ শাকিল : আপনারাতো আমাদের শুরা। আপনাদের চিন্তা ফিকর ও সিদ্ধান্ত ছাড়া মাঠে কিভাবে দলে দলে ছাত্ররা প্রবেশ করতে পারে? রাতদিন থাকছে। নানান ভাবে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। বিষয়টি কি আপনি জানেন না?
মাওলানা রবিউল হক : আমি জানি না ভাই।

আব্দুল্লাহ শাকিল: এটা কেমন কথা! আপনারা এই মেহনতের কর্ণধার। মূল কান্ডারী। মাঠের ভিতর এতবড় ঘটনা ঘটল আর আপনারা জানেন না! এটি কি কেউ বিশ্বাস করবে? আপনারা না জানলে কে জানবে? তাহলে কি তাবলীগের ওদিকটার নিয়ন্ত্রণ আর আপনাদের হাতে আর নেই?
মাওলানা রবিউল হক : চুপ (নিরবতা ১মিনিট, লম্বা শ্বাস)

আব্দুল্লাহ শাকিল:প্লীজ হুজুর কিছু বলুন?
মাওলানা রবিউল হক: (হতাশার সুরে) কি আর বলব।

আব্দুল্লাহ শাকিল : হুজুর এসব কাজেতো সাথীরা বিভ্রান্ত হছে। ছাত্রদের দিয়ে ইজতেমার মাঠ দখল করে রখলে প্রশ্নতো আরো বাড়বে?
মাওলানা রবিউল হক : নিরব (দীর্ঘশ্বাস)

আব্দুল্লাহ শাকিল : এই মুহুর্তে আপনাদের সঠিক রাহবারি দরকার,?
মাওলানা রবিউল হক : আমি এবিষয়ে কি বলব। কি বলার আছে। আমি এবিষয়ে অক্ষম, আমাকে ক্ষমা করুন।

আব্দুল্লাহ শাকিল : তাহলে কি আপনারা এখন অন্যদের হাতে নিয়ন্ত্রিত?
মাওলানা রবিউল হক : আমি এবিষয়ে জবান খুলতে চাই না। (নিরবতা)

আব্দুল্লাহ শাকিল: হুজুর আপনারা যদি জবান না খুলেন, তাহলে আমরা কার কাছে যাব? হুজুর একটু বলেন প্লীজ!
মাওলানা রবিউল হক:আমার দ্বারা এমন প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব নয়। আামাকে মেহেরবানী করে এজাতিয় প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে মাফ করবেন। আমি অপারগ।

আব্দুল্লাহ শাকিল: আপনারা যদি আজকের সংকটে চলমান প্রশ্নের জবাব না দেন তাহলে কে দিবে হুজুর?
মাওলানা রবিউল হক : নিরব

আব্দুল্লাহ শাকিল : হুজুর আপনারা একরকম বলছেন, মেহনতের বাহিরের আলেমরা আরেক রকম বলছেন, দেওবন্দ অন্যরকম বলছে? এমন কথা বাজারে বলা হচ্ছে যে, সাদ সাহেব আর মুসলমানের মাঝেই পরেন না! আপনারা আমাদের আকাবির। আপনাদের দেখে, আপনাদের কথাশুনে তাবলীগে লেগেছি। এখন পুরো মেহনত বিভ্রান্ত হচ্ছে, আপনারাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। মসজিদ থেকে জামাত বের করা হচ্ছে, আল্লাহর রাস্তার মেহমামদের মারধর করা হচ্ছে। মুমতাখাব হাদীসকে পড়তে বাধা দেয়া হচ্ছে। তাহলে আপনারা কেন এর তরজমা ও সম্পাদনা করলেন ২০বছর আগে। এতদিন কেন এটি পড়ার জন্য বারবার সারাদেশের সাথীদের তরগিব দিলেন। আব্দুল বার সাহেব দা.বা ময়মনসিংহ ওজাহাতি জোড়ে আপনাদের সামনে বললেন, সাদ সাহেব তিন দিনও লাগান নি! আপনারা এতোদিন তার বয়ানের তরজমা করলেন লক্ষ কোটি মানুষের সামনে। এখন এরকম বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে কেন। এর শেষ কোথায় হুজুর?
মাওলানা রবিউল হক : দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেহনত কর। সব আলাহর হাতে। দোয়া কর যেন সমাধান হয়।

আব্দুল্লাহ শাকিল: হুজুর আমার কথার উত্তর দেন? নাকি আামার এসব জানতে চাওয়া নাজায়েজ হচ্ছে?
মাওলানা রবিউল হক: আমি কি বলব। আমিতো আমার সিমাবদ্ধতার কথা আপনাকে বললাম। দোয়া করতে থাক।

আবদুল্লাহ শাকিল: হুজুর আমার এসব প্রশ্ন করা কি জায়েজ হচ্ছে? নাকি নাজায়েজ?
মাওলানা রবিউল হক : বড় বড় আলেম উলামা, মুফতি সাহেব আছেন, আপনি তাদের কাছে এসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

আব্দুল্লাহ শাকিল : হুজুর তিন চিল্লাতো দিছি আপনাদের কথায়। আপনাদের জিজ্ঞাসা করে। দেশ বিদেশে সফর করেছি আপনাদের রাহবারিতে। মেহনত শিখেছি আপনাদের কাছে। ঐসব কোন আলেমকে দেখেতো তিনচিল্লা দেই নি? তাদের কাছে এই কাজ শিখিও নি? তাহলে এখন কেন আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা না করে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা  করব? হুজুর আমাদেরকে এই বিপদ সংকটে মাহরুম করবেন না। আশা করি সঠিক বিষয়গুলো যা আমরা জানতে চাই তা জানাবেন।

মাওলানা রবিউল হক : আমি বলতে পারছিনা।  আপনাকে আগেই বললাম।

 

আব্দুল্লাহ শাকিল : তাহলে কি হুজুর আমরা ধরে নিব,আগামিতে দাওয়াতের মেহনতের ব্যাপারে আর আপনাদের সহি নিগরানী ও রাহবারি আর পাবো না?

মাওলানা রবিউল হক : আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন।

আব্দুল্লাহ শাকিল:আমার জন্যও হুজুর দোয়া করবেন। কোন ভুল হয়ে গেলে ক্ষমা করে দিবেন। আসাসালামু আলাইকুম।

মাওলানা রবিউল হক : ওয়ালাইকুমুস সালাম।

সম্পাদনায়, মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

 

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!