শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

দাওয়াতের ময়দানে কারো প্রতিশোধ নেয়া যাবে না

দাওয়াতের ময়দানে কারো প্রতিশোধ নেয়া যাবে না

দাওয়াতের ময়দানে কারো প্রতিশোধ নেয়া যাবে না
হযরতজী মাওলানা সাদ সাহেব (দা:বা:)

নিযামুদ্দীনে বাংলাদেশের জোড়ের মোজাকারা ১৬/০৪/২০১৮ বাদ মাগরীব শেষ অংশ:
মানুষ তো নুসরত করে কিন্তু এটা চিন্তা করা দরকার নুসরত কাকে বলে। ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍আনসার এই শব্দটা খুব মর্যাদাবান শব্দ।হুযুর(সা:)বলেছেন যদি হিজরতের ফজীলত না হত তাহলে আমি আনসারদের মধ্যে হতাম।হুযুর(সা:)বলেছেন আনসাররা আমার শরীরের ভিতরের জামা।এই হল আনসারদের ফাজায়েল।

“আনসার” শব্দটা আল্লাহর কাছেও প্রিয় এবং আল্লাহর রাসূল(সা:)কাছে ও প্রিয়।একই শব্দ কিন্তু বলনেওয়ালা দুই ধরণের।দুইটা ঘটনায় এই “আনসার” শব্দটা ব্যাবহা৭র করা হয়েছিল।দুটো ঘটনায় ছিল গজোয়ার ঘটনা।একবার এই শব্দটি ব্যাবহারকারীদের করা হয়েছিল গজোয়ায়ে মুরাসিয়া থেকে ফেরৎ আ।’৭সার সময় এবং আরেকবার এই শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছিল উহুদের ময়দানে।

এই দুই জায়গাতেই একই শব্দ “আনসার” ব্যাবহার করা হয়েছিল এবং যারা বলেছিলেন উনারা মুনাফিক ছিলেন না।একবার এই শব্দ ব্যাবহার করেছিল আনসারা নিজেরাই গজোয়ায়ে মুরাসিয়া তে এবং আরেকবার এই শব্দ হুযুর(সা:)ব্যাবহার করেছিলেন উহুদের ময়দানে।একই শব্দ কিন্তু একবার ব্যাবহার করা হয়েছিল দীনের সাহায্য করার জন্য এবং আরেকবার ব্যাবহার করা হয়েছিল ব্যাক্তিগত সাহায্যের জন্য।

গজোয়ায়ে উহুদে যখন সাহাবাদের পা পিছলে গেল এবং উনারা ময়দান ছেড়ে চলে যেতে লাগলেন এবং হযুর(সা:) একা হয়ে গেলেন। তখন হুযুর(সা:)আওয়াজ লাগালেন “ইয়া আহলাল আনসার” ও দীনের সাহায্যকারীরা তোমরা কোথায় ?এই আওয়াজ শুনেই আনসাররা সবাই আবার একত্রিত হয়ে গেলেন।

এক সাধারণ বিষয় নিয়ে গজোয়ায়ে মুরাসিয়াতে এই একই শব্দ “আনসার” ব্যাবহার করা হয়েছিল। এক সাধারণ বিষয় নিয়ে একজন আনসার ও একজন মুহাজিরের মধ্যে ঝগড়া হয়ে গেল।একজনে পানি লাইন ধরে না নিয়ে আগে গিয়ে নিতে চাইলেন তখন অপরজন বললেন পিছনে গিয়ে লাইনে দাড়াও।হযরতজী এই পর্যায়ে বলেন আমাদের মেজাজ এমনি ছোট বিষয় নিয়ে আমরা বড় পদক্ষেপ নি,আবার কখেনা বড় হাঙ্গামায় জড়ীয়ে পরি, ছোট বিষয়ে বড় সাজা দিয়ে থাকি।আর এই কারণে দুরত্ব তৈরী হয়ে যায়।

উহুদে ব্যাবহার করা হুযুর(সা:)শব্দ “ইয়া আহলাল আনসার” আনসার সাহাবী এই জায়গায় ব্যাবহার করলেন।আনসাররা আমার সাহায্য কর। তখন মুহাজীর সাহাবা বললেন “ইয়া আহলাল মুহাজীরীন”।মুহাজিররা আমার সাহায্য কর।আমি তোমাদের কাওমের মানুষ।

হুযুর(সা:) এই আনসার এবং মুহাজীর শব্দ শুনে বললেন এতো খুব দুরগন্ধময় শব্দ, খুব দুরগন্ধময় শব্দ, খুব দুরগন্ধময় শব্দ এবং আরো বললেন এই আওয়াজ, এই তরীকা তো জমানায়ে জাহলীয়াতের। তোমাদের মধ্যে কেমন করে এই শব্দ আসলো।তোমরা তো ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করেছ।।বাস্তবে তো জমানায়ে জাহেলীয়াতে কোন আনসার এবং মুহাজীর বলে কিছু ছিলনা।আনসার আর মুহাজীর তো ইসলামের পরের কথা। চিন্তা করার বিষয়।

এখানে “ইয়া আহলাল আনসার” এই শব্দ ব্যাবহার করে নিজের দলেক ডাকা হেয়েছে ব্যাক্তিগত সাহায্যের জন্য। উহুদে এই শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছীল দীনের সাহায্যের জন্য। আর এখানে ব্যাক্তিগত সাহায্যের জন্য। যখন ব্যাক্তিগত সাহায্যের জন্য এই শব্দ ব্যাবহার করা হবে তখন গ্রুপ তৈরী হবে, আর যখন দীনের সাহায্যের জন্য এই শব্দ ব্যাবহার করা হবে তখন উম্মত জমা হয়ে যাবে।

এই দুই উদাহারণ থেকে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা থেকে প্রত্যেক সাহায্য করণে ওয়ালার ব্যক্তিগত ভাবে চিন্তা করা লাগবে আমি সাহয্য কার করতেছি?আমি কি দীনের সাহায্য করতেছি নাকি যাদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে তাদের সাহায্য করতেছি? যখন দীনের সাহায্য হবে তখন উম্মত জমা হবে কারণ দীনের মধ্যে এখতেলাফ নাই। শাফি মাজহাব,হানাফি মাজহাব,মালেকী মাজহাব,হাম্বেলী মাজহাব এর মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে এখতেলাফ আছে। কিন্তু সব মাজহাব এক ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করে।হারাম শরীফে গেলে আপনারা তা দেখতে পাবেন।পুরা দনিয়া থেকে মানুষ হজ্বের জন্য আসে।হিন্দুস্থান থেকে,পাকিস্থান থেকে,বাংলাদেশ থেকে।কিন্তু কেও তো এই কথা বলেনা এর পিছনে নামাজ পরবনা এর তরীকা আর আমাদের তরীকা আলাদা।যে রকম ইবাদতেও সবাই একসাথে, দাওয়াতের কাজেও সবাই একসাথে,এখতেলাফের কোন সুযোগ নেই।যেহেতু দীন আর দাওয়াত এক।আমি আপনাদের এক গুরুত্বপূর্ণ কথা বেলেছি তা মনে রাখতে হবে।(হযরতজী এই পর্যায়ে বলেন যদি আমি বাংলা বলতে পাড়তাম)

এটাই প্রশ্ন আমি যে সাহায্য করতেছি,কেন সাহায্য করতেছি ? যদিও সাহায্য হয় আনসারে মদীনার কিন্তু ব্যাক্তিগত সম্পর্কের কারণে,এর পরিণতিও ভাল হবে না।কারণ প্রশ্ন হল আপনি কাউকে সাহয্য করতেছেন তা কী দীনের জন্য নাকি নিজের কাওম,নিজের গোত্র,নিজের বংশ,নিজের হালকা, নিজের সেক্টর ,নিজের জেলার মানুষ হিসেবে?

একটা উদাহারণ দিচ্ছি যাতে আপনাদের বুঝে আসে।এক জন মানুষ ছিল যার নাম কুজমান যে মুসলমান ছিল না।যখন হুযুর(সা:) সামনে তার আলোচনা হত তখন হুযুর(সা:)বলতেন আমি কুজমান কে জাহান্নামে দেখেছি।গজোয়ায়ে উহুদে এক সময় মুসলমানদের পরাজয় হয়ে গেল,ময়দান শত্রু পক্ষের দখলে চলে গেল।হঠাৎ করে কুজমান উহুদের ময়দানে হাজির হল এবং মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করল।মুশরিকদের মোকাবেলা করতে লাগল।মুসলমানরা চিন্তাই পরে গেল আরে এতো জাহান্নমী,এতো মুসলমান না।কখন সে ইসলাম গ্রহণ করল,কবে থেকে আমাদের সাহায্য শুরু করল?কাফেরও চিন্তায় পরে গেল।কখন সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং আমাদের মোকাবেলা শুরু করল।কুজমান খুব জান লাগিয়ে, বাহাদুরীর সাথে যুদ্ধ করল এবং আট জন মুশরীক কে হত্যা করল।যার ফলে ময়দান আবার মুলমানদের হতে চলে আসল এবং মুসলমানদের জয় হল।

কুজমান যুদ্ধে খুব আহত হল। ময়দান থেকে তাকে তার ঘরে নিয়ে যাওয়া হল।সাহাবারা সবাই জমা হয়ে তাকে দেখতে গেলেন এবং তাকে বললেন আজকে তো তুমি দেখায় দিয়েছ,তোমার করণে মুসলমানদের জয় হল।তোমার এই কাজের জন্য সুসংবাদ।কুজমান উত্তরে বললেন আমাকে কেন সুসংবাদ শুনাচ্ছ।আরে আমি তো আনসারদের এই জন্য সাহায্য করেছি কারণ তারা ছিল আমার কাওমের লোক।সুসংবাদ তাদের শুনাও যারা আল্লাহর জন্য সাহায্য করেছে। আমি তো দীনের জন্য সাহায্য করিনি।বুখারী শরীফের রেওয়াতে আছে পরবর্তীতে সে একটা তলোয়ার কে খারা করল এবং নিজের বুক দিয়ে তাতে চাপ দিল। নিজেই নিজেকে হত্যা করল।এই হল ফলাফল।

এইজন্য প্রত্যেক নুসরত কারীর চিন্তা করা দরকার আমি কাওকে সাহায্য করছি তা কি আমি আমার কাওমের,গোত্রের, এলাকার। আত্মীয়তার,জেলার মানুষ হওয়ার জন্য করছি, নাকি আমি সাহায্য আল্লাহর দীনের জন্য করছি।এটাই সবার কাছে প্রশ্ন।কেউ যদি আনসারে মদীনার ও সাহায্য করল তার ফলাফল ও ভাল হবে না কারণ সাহায্য আনসারদের না সাহায্য করতে হবে ইসলামের।ইসলামের সাহায্য কারিই ইখলাসওয়ালা।এই ঘটনা থেকে এটা চিন্তা কার দরকার আমার মেহনত,আমার চেষ্টা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাকি অগ্রহণযোগ্য।এটাই নুসরতের উসুল এবং এটাই বাধা নুসরতের।

একজন অপরজনের তাউন(সাহায্য) এই জন্য করে না করণ একজন অপরজনকে হিংসা করে।এই জন্য আমরা আজম করি ভালইয়ের কাজে,দীনের কাজে আমরা একে অপরকে তাউন করব।একজন অপরজনের তাকাবুন(বাধা)হবনা।কারণ তাকাবুনের দ্বারা দুরত্ব তৈরী হয় আর তাউনের মাধমে ইজতেমায়ীয়াত তৈরী হয়।

সাহাবা(রা:)এক যোগ্যতা এই ছিল যখন কেউ কোন কাজ থেকে পিছনে হাটত তখন অন্যরা তাকে সাহায্য করতেন একসাথে চলার জন্য,উনার ভুল চিন্তাকে দুর করতেন,সাহাবা(রা:)জান,মাল এবং জযবার এক বড় অংশ ব্যাবহার হয়েছে সাথিদের কে এক সাথে নিয়ে চলার পিছনে।এই জন্য দায়ীর মেজায এমন হওয়া উচিৎ না যে কারো ব্যাপারে হতাশ হয়ে যাওয়া,একে দিয়ে আর হবে না।সাহাবারা তো মুশরীরকদের ব্যাপারেও হতাশ হতেন না তাহলে মুমীনদের উপর কী ভাবে হতাশ হওয়া যায়।

এই জন্য আমাদের নিয়ত কে এবং আমাদের দীল কে বড় করা লাগবে,সংর্কীনতা রাখা যাবে না।দীলে সংর্কীনতার দ্বারা ফেরকা তৈরী হয় আর দীল বড় করার দ্বারা উম্মত তৈরী হয়।এই জন্য সাথীদের মাফ করতে হবে কারণ যে ব্যাক্তি নিজের জন্য আল্লাহর কাছে মাফের আশা রাখেনা সে সাথীদেরও মাফ করাকে পছন্দ করে না।কুরআনে কারীমে মধ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তুমি মাফ করে দাও, তুমি কি চাওনা আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দেন।

এই জন্য কাজের মধ্যে এবং সাথীদের মধ্যে ভাগাভাগী তৈরী এটাতো কাজের রাস্তা না বরং রাস্তা হল যেভাবে বলা হয়েছে ঐ ভাবে আমল করা এবং সাথীদের বুঝায়ে সাথে নিয়ে চলতে থাকা।আমাদের একটাই রাস্তা আর তা হল ইকরামের।প্রতিশোধের জযবার কারণে উম্মত ভাগ হবে আর ইকারামের জযবাতে উম্মত জমবে। তাই দ্বীনের কাজে যতো কষ্টই পাব আমরা কারো উপর কোনন প্রতিশোধ নিব না। দাওয়াতের কাজে কষ্ট যতই হয় যাক, এখতেলাফ আর দুরত্ব যতই হয়ে যাক সাহাবা (রা:) ইকরাম করা বন্ধ করতেন না।ইকরামের মাধ্যমেই দুরত্ব কে মিটানো যাবে যা প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যমে সম্ভব হবে না।

আল্লাহ আমাদের সবাই কে আমল করার তৈাফীক দান করুক। তরজমা Sabbir Ahmad

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!