বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩০ অপরাহ্ন

নিযামুদ্দীনের বিদ্রোহের ঘটনা

সৈয়দ আনেয়ার আবদুল্লাহ

দাওয়াত ও তাবলীগের আলমী মার্কাজ নিযামুদ্দীন থেকে সারা দুনিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার বাতিলদের ষড়যন্ত্র নতুন নয়। হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস রহ এর জামানা থেকে যেই গোটা ভারতবর্ষ ও এশিয়াতে দাওয়াতের কাজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লো তখন থেকেই ষড়যন্ত্রও শুরু হল। আমরা তো কেবল চিল্লা, মাশোয়ারা, সবগুজারী আর পাঁচ কাজে ব্যস্থ আর বাতিল এই মেহনত আর কাজকরনেওয়ালাদের নিয়ে কত গভীর ষড়যন্ত্র করেছে তা জানলে আৎকে উঠতে হয়।

নিযামুদ্দীনের মার্কাজ নিয়ে আজকের যে ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা তা নতুন নয়। তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়া ছিল না বলে তা প্রচার হত না আমভাবে। সেই তখন থেকে মার্কাজ থেকে বড়বড় মুরিব্বিদের ভুল তথ্য দিয়ে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চলে আসছিল। বিশেষ করে ৪৭সালে দেশ ভাগের সময় কি পরিমান চক্রান্ত হয়েছে নিযামুদ্দীন মার্কাজকে সারা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার সে ইতিহাস পাঠ করলর অবাক হতে হয়। এর কিছু বর্ননা শায়খুল হাদীস রহ আপবিতী গ্রন্থে উল্ল্যখ আছে।

শুধু নিযামুদ্দীনের মার্কাজ নয় হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ এর খান্দানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে এমন কোন জঘন্য কাজ নেই তারা করে নি। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ইহুদী লবি বরাবরই পাকিস্তানের আইএসআইকে ব্যাবহার করেছে। দ্বীতিয় হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহকে পাকিস্তান সফরবস্থায় বিষ প্রযোগ করে শহীদ করা হয়েছিল বলে আজো ব্যাপক জনশ্রুতি আছে। এর পর তারপুত্র মাওলানা হারুন রহ এর উপর চলে নির্যাতন আর ষড়যন্ত্রের স্টীম রুলার। সাদ সাহেবের পিতা হারুন রহকেও খাবারের মধ্যে বাতিলরা বিষ মিশিয়ে হত্যা করে। এর পর তাদের চোঁখ পরে আজকের উম্মাহর দরদী রাহবার মাওলানা সাদ কান্ধালভীর উপর। তাকে বারবার হত্যার চেষ্টা, সেহের (জাদু+টুনা) করার ঘটনা সবারই জানা।

মসজিদ-ই-যাকারিয়া, বোল্টন গত ২৫ মার্চ ২০১৮ তারিখে এক বয়ানে শায়খুল হাদীস রহ এর খলিফা হযরত মাওলানা ইউসুফ মুত্বলা দামাত বারকাতুহুম সেই হৃদয়বিদাড়ক কথাগুলো বলেন, মাওলানা সাদ সাহেবের পিতার অকাল মৃত্যুর পর সাদ সাহেবের মুহতারামা আম্মা হজরত শায়খুল হাদীস রহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকটে লিখেন, মহান আল্লাহর ফজলে আপনি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে অবগত আছেন আমার স্বামীর সাথে কি কি হয়েছে এবং কারা এর সাথে জড়িত। মেহেরবানী করে আপনি তাদের নামগুলো আমাকে জানান, যাতে আমি আমার প্রত্যেক দুআতে তাদের বিরুদ্ধে অভিশাপ এবং বদদুআ করতে পারি।
প্রত্যুত্তরে হযরত শায়খুল হাদীস রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেন, স্নেহের বেটি! কারা কি করেছে এ নিয়ে আর কখনো মন খারাপ করিস না। এরপর তিনি ঐ চিঠিতে মূহতারামাকে সান্ত্বনা দেন এবং কিভাবে তাঁর মরহুম স্বামীর (রহিমাহুমুল্লাহ) উপকার হয় সে ব্যাপারে উপদেশ দেন।

কাছে থেকে এসব দেখেছিলেন যে কজন মানুষ তাদের একজন ভাই হাজী আব্দুল ওয়াহাব ছাহেব দা.বা। তিনি দিল্লী থেকে রায়বেন্ড মার্কাজে যাবার পর থেকে এসব ষড়যন্ত্র তার প্রভাবে বন্ধ হয়েছিল। তিনি বারবার বলতেন, নিযামুদ্দীনের মার্কাজের নিশ্বাসের মাঝেও হেদায়ত আছে। মেওয়াতের অলি গলিতে হেদায়ত পাওয়া যায়। যেসব সাথী নিযামুদ্দীন এখনো যেতে পারেন নি, তাদের তওবা করার দরকার। হাজী সাহেব এটিও বলতেন, তোমরা যেদিন নিযামুদ্দীন থেকে বিচ্ছিন্ন হবে, নিযামুদ্দীন ছেড়ে দিবে, সেদিন থেকে দুনিয়াতে তাবলীগ বলতে কিছু থাকবে না। এমনকি মাওলানা সাদ ও যুবায়েরও যদি তাবলীগ ছেড়ে দেয়, তখন তোমরা নিযামুদ্দীনকে আকড়ে থাকবে” ইত্যাদি। এসব কথা সাড়া দুনিয়াতে বারবার বলার কারনে, হাজী সাহেবকে দুনিয়া থেকে সড়িয়ে দিতে কম ষড়যন্ত্র করা হয় নি। হাজী সাহেবের খাছ খাদেম তাকে খাবারের মাঝে বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ধরা পরে। পরে তার কাছে ইসরাইলি পাসপোর্ট পাওয়া যায় এবং পুলিশ গ্রেপ্তার করে (বিস্তারিত এই ঘটনা লিখে একটি পোষ্ট দিব ইনশাললাহ) যেই হাজী সাহেব অসুস্থ হয়ে একেবারে অচল হয়ে গেলেন, ওমনি তার অবতর্মানে নিযামুদ্দীনকে সারা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করতে “আলমি শুরার” ফেৎনা শুরু করা হয় হাজী সাহেবের নাম ভাঙ্গিয়ে।

এর আগে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহ আমীর হবার পর তিনি যখন মসজিদ আবাদির মেহনত ও ৫কাজ চালু করলেন, তখন এটাকে বিদআত কাজ ও তিনি তার পিতার মেহনতের নকশে ক্বদম ও সহী নেহেজের উপর নেই বলে বাহিরের লোকজনের চক্রান্তে খোদ নিযামুদ্দীনের মার্কাজের ভিতর থেকেই দ্বীতিয় জযরতজীর বিরোদ্ধে আওয়াজ উঠল। নানান অপবাদ আর এশকালাতে তিনি আক্রান্ত হলেন। সেই চক্রের ফাঁদে পড়ে ইউসুফ রহ এর পাশ থেকে মাওলানা এহতেশামুল হাসান রহ সহ ইলিয়াস রহ এর একাধিক সাথী, কাজ নিয়ে চলনেওয়ালা পুরানোরা দুরে সড়ে দাড়ালেন। এসব বুজুর্গ মুকিমরা কেবল বের হয়েই ক্লান্ত হন নি, রীতিমত আলাদা মার্কাজ ও সহী নেজাজে তাবলীগ নামে আলাদা জামাত বের করেছেন। বিন্তু বেশি দিন এসব ঠিকেনি এখলাস না থাকার কারনে। বড়দের কাজ করনেওয়ালাদের পা পিছলে যাওয়ার এসব ঘটনা নতুন নয়। তারা নিযামুদ্দীন থেকে বের হয়ে কখন কিতাবও লিখেছেন হযরতজী ইউসুফ রহ ও মেহনতের বদনাম করে। কিন্তু কিছুই সফল হয় নি। বিস্তারিত দেখুন, তাবলীগ জামাত আওর মুফতি মাহমুদ গাঙ্গুহী রহ গ্রন্থে।

হযরত সাঈদ খান সাহেব রহঃ এর কাছে কিছু হযরতরা একটা মাসায়েল জিজ্ঞাস করছিল, হযরত, প্রত্যেক জামানাতেই এমন দেখা যাচ্ছে যে, হযরত ইলিয়াছ সাহেব রহঃ যমানার কিছু হযরতরা
পরবর্তীকালে হযরত ইউছুফ সাব রহঃ কে মানতে পারেনি, এবং নিজামুদ্দিন থেকে চলে যায়ে, আবার ইউছুফ সাব রহঃ যমানার কিছু হযরতরা পরবর্তীকালে হযরত এনামুল হক সাহেব রহঃ মনতে পারেনিনিজামুদ্দিন থেকে চলে যায়ে, তখন হযরত সাঈদ খান সাহেব রহঃ উত্তরে বলেন,।দেখো ভাই, প্রত্যেক জামানাতেই এমন হয়েছে, আবার সামনেও এমন হবে, এর কারন হচ্ছে, যারা ছুটে যাচ্ছে বা চলে যাচ্ছে এরা আসলে।”কাজের সাথে সম্পর্ক করেনি,
এরা করেছে কাজের ব্যাক্তির সাথে সম্পর্ক”তাইতো ঐ ব্যাক্তির সাথে দুরত্ব হলে তারা কাজের সাথে দুরত্ব তৈরি করে মার্কাজ থেকে চলে যান।

হযরত সাঈদ খান সাহেব রহঃ এর সাথে উদাহরণ স্বরূপ আরো একটা দলিল দিলেন যে, আমাদের নবী করিম সাঃ এর যখন ওফাত হয়ে।তখন হযরতে ওমর রদিঃ আনহু উলঙ্গ তরবারি নিয়ে বলেছিলেন।যে বলবে নবীর ইন্তেকাল হইছে তার গরদানকে আমি দেহ থেকে আলাদা করে দিব, এই কথা আমরা সবাই জানি, এবং সাধারন সাহাবা রদিঃ কি আবস্থ তা সহযেই বুঝা যায়ে,তখন একা হযরত আবু বক্কর রদিঃ নিজেই নিজেকে সামলিয়ে উম্মতের ময়দানে হিদায়াতের কথা বলছিল, সেইদিন হযরত আবু বক্কর রদিঃ আনহু নবীর রেখে যাওয়া কাজের উপর হিদায়াতের কথা বলেছিলেন কারন।হযরত আবু বক্কর নবীর সাথে সম্পর্ক করছেন এবং। নবীর কাজের সাথেও মজবুতের সাথে সম্পর্ক করছিলেন,।
এই জন্য একমাত্র হযরতে আবু বক্কর রদিঃ নবী সাঃ এর ওফাতের পর ঠিক থাকতে পারছিলেন,কিন্তু এখানে শিক্ষনিও ব্যপার হলো যখন, আবু বক্কর রদিঃ যখন নবীর ওফাতের পর নবীর কাজকে।সামনে নিয়া যে হিদায়াতের কথা বলেন, তখন কিন্তু।সবাই মেনে নিয়ে ছিলেন হযরত আবু বক্কর রদিঃ আনহুর কথা, আর তখন সবার হুশ ফিরলো, এবং সবাই আবার কাজকে সামনে নিয়া আগে বারে,.তো তখন হযরতে সাঈদ খান সাহেব রহ. বলেন,ব্যাক্তি চলে যাবার পর কিছু এমন হবেই, সাহাবা রদিঃ এমন হইছিলো, কিন্তু সাহাবা রদিঃ আবার ফিরে এক সাথে কাজ করছেন,।

কিন্তু যারা ফিরবেনা, তখন বুঝেনিতে হবে তারা কখনোই এই কাজের সাথে সম্পর্ক করেনি এরা করেছিলো ব্যাক্তির সাথে সম্পর্ক, তাইতো ব্যাক্তি চলে গেছেন বা ব্যক্তির কথা মনপূত না হওয়ায় এরাও চলে গেছেন, সামনের জামানাতেও এমন হবে, কিন্তু আমাদের।মজবুতের সাথে এই কাজকে আকড়ে ধরতে হবে, তহলে কখনো বা কোনো মছিবতে পা পিছলা হবে না।

দয়াময়, কবুল কর।

আগামি পর্বে পড়ুন, দ্বীতিয় বিদ্রোহের ঘটনা

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!