শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:১৫ অপরাহ্ন

২১ই রমজান হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে যেভাবে শহীদ করা হয়েছিল

২১ই রমজান হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে যেভাবে শহীদ করা হয়েছিল

২১ই রমজান হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে যেভাবে শহীদ করা হয়েছিল

মুফতি মু’আয বিন নূর

আজ ২১ রমজান। ১৩৯৯ বছর পূর্বে আজকের এই দিনে ইসলামের ৪র্থ খলিফা হযরত আলীর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে নির্মমভাবে শহিদ করা হয়েছিল। কুফার মসজিদে ফজরের নামাজে ইমামরত অবস্থায় তার উপর তরবারির আঘাত করা হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণে তিনি ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইলাইহি রাজিঊন।

প্রেক্ষাপটঃ তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদতের পর হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু চতুর্থ খলিফা নিযুক্ত হন। এই সময় চতুর্দিকে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকে। হযরত মুআাবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে খিলাফত নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়। মুনাফিকরা একের পর এক অভিযোগে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে মুসলমানদেরকে উত্তেজিত ও বিদ্রোহীরূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে থাকে। হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু্ আনহু পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান হত্যার বিচার করতে পারছিলেন না। বিশৃংখলা এড়িয়ে হজরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় খেলাফতের রাজধানী মদিনা থেকে ইরাকের কুফা শহরে স্থানান্তরিত করেন। তিনি প্রায় তিন বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে পারষ্পরিক মুসলিমদের জঙ্গে জামাল (উষ্ট্র যুদ্ধ) ও জঙ্গে সিফফিন (সিফফিন যুদ্ধ) সংঘটিত হয়।

হযরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু সন্ধিচুক্তি করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে মুসলমানদের পারস্পরিক শান্তি ও শৃঙ্খলা আবার ফিরে আসে। মুসলমানদের খুনে মুসলমানদের হাত রক্তাক্ত হবার লজ্জাজনক অধ্যায়ের বাহ্যিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

কিন্তু ইসলামের শত্রুরা, বিশেষতঃ মুনাফিকরা তা কিছুতেই বরদাশত করতে পারেনি। তাই ছদ্মবেশী মুনাফিকরা নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। উম্মতকে আমীরশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা অপপ্রচার ও চক্রান্ত চালিয়ে যেতে থাকে। যুগে যুগে বাতিল ও ইসলামের দুশমনদের প্রথম কাজই ছিল, মুসলিমদের জীবনযাত্রাকে আমীরবিহীন ও খেলাফতশূন্য করা। যাতে আমীরকে কেন্দ্র করে মুসলিমরা কখনো ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে। সর্বযুগের বাতিল ও বাতিলপন্থীরা ভাল করেই জানে ও বুঝে যে, মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হলেই বাতিল খতম হয়ে যাবে। তাই এরা সকল যুগে ছদ্মবেশি মুসলিম তৈরি করে আমীরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে আসছে।

যেভাবে শহীদ হলেন চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুঃ মুহাম্মদ বিন আবু বকর নামে এক নরাধম আব্দুর রহমান বিন মুলজিম নামে এক ঘাতককে মিশর থেকে কুফায় প্রেরণ করে। অভিশপ্ত আব্দুর রহমান বিন মুলজিম বাহ্যিকভাবে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ভালবাসা ও মুহাব্বতের দাবী করতো। কুফায় এসে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাতে খিলাফতের বাইয়াত নিতে চায়। কিন্তু হযরতে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু তার বাইয়াত নিতে অস্বিকৃতি জানান। এই লোক লাগাতার তিনদিন পর্যন্ত বাইয়াতের জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে। বাধ্যগত থাকার অঙ্গীকার করতে থাকে। অবশেষে হযরত আলী রাঃ এ অভিশপ্তকে তার অঙ্গীকারের উপর বিশ্বাস করে তাকে বাইয়াত করে নেন। [তাবকাতে ইবনে সাদ-৩/১৫৯, উর্দু সংস্করণ]

এভাবেই সে বাহ্যিকভাবে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর মুহাব্বতকারীদের দলে শামিল হয়। ধীরে ধীরে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে এবং অত্যন্ত সন্তোর্পণে ছদ্মবেশে তার অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে যেতে থাকে। প্রথমদিকে সে মুখে মুখে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতো। আর তলে তলে মুসলমানদের পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত করার ভয়ানক ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকে। সে ভিতরে ভিতরে বিচ্ছিন্ন খারেজীদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকে। সেই সময় মুসলিম জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও মান্যবর তিনজন নেতা ছিলেন। যারা জ্ঞান-গরিমা, বুদ্ধিমত্বা, দ্বীনের জন্য কুরবানী, তাক্বওয়া-পরহেযগারী, ইত্যাদি গুণে গুণান্বিত ছিলেন। যাদের প্রত্যেকেই পুরো মুসলিম মিল্লাতকে নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা রাখতেন। প্রত্যেকেই কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম ছিলেন। তাদের সর্বাগ্রে হলেন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু। অপরজন কাতিবে ওহী হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু। আর তৃতীয়জন হলেন, মিশরবিজেতা হযরত আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহু।

ইসলামের দুশমনেরা চিন্তা করল, যতক্ষণ পর্যন্ত এ তিন ব্যক্তিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে। কেনান, যেকোন সময় মুসলমানরা এই তিন মহান নেতার কোন একজনের নেতৃত্বে আবার একতাবদ্ধ হয়ে কাফির মুশরিকদের ঘুম হারাম করে দিতে পারে।

মুনাফিক গোষ্ঠী একথা ভাল করেই জানতো যে, মুসলমানদের একতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ সামাজিকতা অমুসলিম ও মুনাফিকদের জন্য মৃত্যুতূল্য। মুসলমানদের বিভেদ, বিবাদই হল তাদের জন্য শক্তি ও কামিয়াবীর চাবিকাঠি। অতএব, মুসলমানদের একতাবদ্ধ করার এই তিন পথিকৃত দুনিয়াতে থাকলে তাদের জন্য কখনোই শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব হবে না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল, যেকোন মূল্যে এই তিন ব্যক্তিত্বকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

শুধু হয় হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে শহীদ করার চূড়ান্ত কার্যক্রম। অভিশপ্ত তিন খারেজী মক্কায় একত্রিত হয়। যাদের একজন হলো, আব্দুর রহমান বিন মুলজিম। দ্বিতীয়জন হলো, বাররাক বিন আব্দুল্লাহ তামিমী তৃতীয়জন হলো, আমর বিন বকর তামিমী। তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামের এ মহান তিন পুরোধাকে ৪০ হিজরীর রমজানের ১৭ বা ২১ তারিখে হত্যা করা হবে। যেন বিশ্বমুসলিম অভিভাবকশূণ্য হয়ে যায়। আমীর না থাকার ফলে একতাবদ্ধ হওয়ার আর কোন জায়গাও থাকবে না। সম্ভাবনাও থাকবে না। এবার গোত্রে গোত্রে নিজেরা নিজেরা মারামারিতে লিপ্ত হবে। মুসলিমদের এই দ্বন্দ-কোন্দলের সুযোগে অমুসলিমরা রাজত্ব ও কর্তৃত্ব হাতিয়ে নিয়ে বিশ্বব্যপী অনৈসলামিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলবে।

এবার শুরু হয় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। হযরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার দায়িত্ব গ্রহণ করে বাররাক বিন আব্দুল্লাহ তামীমী। হযরত আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার দায়িত্ব নেয় আমর বিন বকর তামীমী। আর আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার দায়িত্ব গ্রহণ করে অভিশপ্ত আব্দুর রহমান বিন মুলজিম। এই তিন নরাধম নিজ নিজ দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে যার যার লক্ষ্যবস্তুর দিকে রওনা হয়ে যায়।

নির্ধারিত তারিখে মিশরের কেন্দ্রীয় মসজিদে খঞ্জর নিয়ে ফজরের নামাযের সময় আমর বিন বকর তামিমী হযরত আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওঁৎ পেতে বসে থাকে। সৌভাগ্যবশতঃ সেদিন শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে হযরত আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে আসতে পারেননি। নামায পড়ান হযরত খারেজা বিন হুজাইফা। তাকেই আমর বিন আস মনে করে আমর বিন বকর তামিমী হামলা করলে খারেজা বিন হুজাইফা শহীদ হয়ে যান।

অন্যদিকে বাররাক বিন আব্দুল্লাহ তামিমী দামেশকের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ফজরের নামাযের সময় আমীরে মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুকে শহীদ করার জন্য হামলা করে। কিন্তু আঘাত ভুল করায় হযরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু আহত হলেও শহীদ হওয়া থেকে রক্ষা পেয়ে যান। আল্লাহ তাআলা কুদরতীভাবে তাকে রক্ষা করেন।

অপরদিকে আব্দুর রহমান বিন মুলজিম কুফার জামে মসজিদের বাহিরে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর অপেক্ষায় ছিল। যখন তিনি আসলেন তখন অভিশপ্ত ইবনে মুলজিম বিষমাখা তলোয়ার দিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে যখন করে। এতে তিনি মৃত্যুকোলে ঢলে পড়েন। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম খুব চতুরতার সাথে আবদুর রহমান বিন মুলজিমকে গ্রেফতার করেন। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে তার ঘাতকের গ্রেফতারীর কথা জানালে তিনি বলেন, فإن أعِشْ فأنا وَلِىُّ دَمِي، عفوٌ أوقصاص যদি আমি বেঁচে যাই তাহলে তাকে হত্যা করো না। আমার রক্তের বিচার আমি করবো। হয়তো ক্ষমা করে ছেড়ে দিবো অথবা কিসাস গ্রহণ করবো। তারপর বললেন, وإنْ أمُتْ فألْحِقُوه بي أُخاصمه عند ربّ العالمين আর যদি আমি মারা যাই তাহলে তাকেও আমার সাথে পাঠিয়ে দিয়ো (অর্থাৎ হত্যা করে দিয়ো)। আমি তার ব্যপারে আল্লাহর দরবারে মামলা দায়ের করবো। কথা বলতে বলতে প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে তিনি শহীদ হয়ে যান।

কে এই আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম? যুগে যুগে যেসব ছদ্মবেশী মুনাফিকদের আঘাতে আঘাতে মুসলিমরা নেতৃত্বশূন্য হয়েছে, যাদের ষড়যন্ত্রে বারবার ইসলামী সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে, এমনই একজন ভয়ঙ্কর আমীরবিদ্বেষী খারেজীর নাম হলো, আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম।

হাদীসে পাকে খারেজীদের পরিচয় দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমানঃ يخرج فيكم قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم ، وصيامكم مع صيامهم ، وأعمالكم مع أعمالهم ، يقرءون القرآن ولا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية অর্থাৎ, অতিসত্বর তোমাদের বিরুদ্ধে এমন একটি দল খুরুজ (বিদ্রোহ) করবে, যাদের নামাজের একাগ্রতা ও ধীরস্থিরতা দেখলে তোমাদের নামাজকে তুচ্ছ মনে করবে। (অর্থাৎ, তারা খুবই উত্তমরূপে নামাজ আদায় করবে) অনুরূপভাবে তাদের রোজা ও অন্যান্য আমল দেখলে নিজেদের রোজা ও আমলকে তুচ্ছ মনে করবে (কেননা, তারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে রোজা রাখবে ও অন্যান্য আমলগুলো করবে।) তারা মুখে মুখে কুরআন পড়বে। অথচ তাদের তেলাওয়াত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করতে পারবে না। (অর্থাৎ তারা শুধু মুখে মুখে কুরআনের ধারক-বাহক দাবী করবে। অথচ এই কুরআনের উপর তারা কোন আমল করবে না। কণ্ঠনালীর তেলাওয়াতেই তারা সীমাবদ্ধ থাকবে।) তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমনিভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৫৬৫। এই হাদীসটি স্পষ্টতঃ ঘোষণা করছে, কেউ পাগড়ী, জুব্বা পড়ে যতই সুমধুর সূরে কুরআন তেলাওয়াত করুক, যতই সুন্দরভাবে নামাজ-রোজা ও যিকির-আযকার করুক, যদি সে মুসলিমদের ঐক ও আমীরের আনুগত্যের বাহিরে চলে যায় তাহলে সে ধনুক থেকে তীর বের হয়ে যাওয়ার মত ইসলাম থেকেও বের হয়ে যায়।

হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর ঘাতক ইবনে মুলজিমের ক্ষেত্রেও এর কোন ব্যত্যয় ঘটে নাই। সে বাহ্যিকভাবে অনেক বড় যিকিরকারী ও ইবাদতকারী ছিল। লোকজন যখন তাকে ধরে ফেলল তখন সে বলল, আমার গলা কেটে নিও কিন্তু জিহবায় আঘাত করো না। যেন আমি জিকির করতে করতে মরতে পারি। হায়, এত বড় যিকিরকারীও ধোঁকায় পড়ে প্রথম মুসলিম যুবক সাহাবীকে হত্যা করেছে। আমীরের ইতা’আত না থাকার কারণে তার সুন্দর সুন্দর নামাজ-রোজা তাকে বাঁচাতে পারে নি।

রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার আলীকে যে হত্যা করবে সে এই উম্মতের সর্বনিকৃষ্ট লোক। এই হাদীসের আলোকে আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমের মত বাহ্যিকভাবে এত বড় বুযুর্গ ও আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে উম্মতের সর্বনিকৃষ্ট হিসেবে। [আলবিদায়া ওয়াননিহায়া, বাংলা সংস্করণ- ৭/৫৭৮-৫৮৫, তারীখে তাবারী, আরবী সংস্করণ- ৫/১৪৩-১৪৯, তবক্বাতে ইবনে সাদ, উর্দু সংস্করণ-৩/১৬১]

কী শিখতে পারলাম এই ঘটনা থেকে?

১. ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয় অসম্ভব।
২. আমীর ব্যতীত ঐক্যবদ্ধ হওয়াও অসম্ভব।
৩. উপরোক্ত দু’টি চিরন্তন বাস্তবতা মুসলিমরা না বুঝলেও ইসলামের দুশমনেরা কখনো এব্যপারে ভুল করে নি।
৪. তাই যুগে যুগে ইসলামের দুশমনেরা মুসলিমদের মাঝে অনৈক্য ও বিভেদ ছড়িয়ে দিতে ইমারত তথা ইসলামী নেতৃত্ব ধ্বংসের মাষ্টারপ্লান তৈরী করেছে।
৫. আর সেই মাস্টারপ্লান তথা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে নিজেদের ছদ্মবেশী কিছু লোককে নিয়োগ দেয়।
৬. প্রত্যেক আমীরের নিকস্থদের মাঝেই তাদের ঘাতকেরা লুকিয়ে থাকে।
৭. আমীরের নিকটস্থ ও অতিবিশ্বাসী এই ছদ্মবেশী আমলারাই সুযোগ বুঝে সরাসরি আমীরের উপর মরণহামলা করে বসে।
৮. আমীরবিরোধীরা অন্যদের তুলনায় বাহ্যিকভাবে অতিধার্মিক হয়ে থাকে। আবার এরা কুরআনের পঠন-পাঠনের কার্যাদিও সম্পাদন করে থাকে। যদিও হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে না। সর্বাঙ্গে কুরআনের ছিটেফোটা না থাকলেও মুখে মুখে তারা কুরআনের ধারকবাহক দাবীদার হয়ে থাকে।
৯. মুসলিমদের অনৈক্যের একমাত্র দায়গ্রস্ত হচ্ছে আমীরবিরোধীরা।
১০. হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী আমীরের বিরুদ্ধে লাগলে নামাজ-রোজা, যিকির-আযকার যাই থাকুক, ধনুক থেকে তীর বের হয়ে যাওয়ার মত আমীরবিরোধীরাও দ্বীন থেকে বের হয়ে যায়।
১১. অতএব, ইসলামে টিকে থাকতে হলে আমীরের আনুগত্য মেনে নিতে হবে। আনুগত্যশীল তথা ইতা’আতী হতে হবে।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাউফীক দান করুন। আমীন।ভালোবাসতে নির্দেশ দিয়েছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com