বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ)

তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ)

তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে:

মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ)

মোঃ সায়েম, প্রধান প্রতিবেদক তাবলীগ নিউজ বিডি ডটকম: তাবলীগের কাজকে বাধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপির রফাদফা ও লেনদেন হয়েছে উল্লেখ করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এর সর্বভারতীয় সভাপতি এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূখপাত্র ও সদরুল মুদাররিসিন আওলাদে রাসুল সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী বলেছেন তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়া দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও খারাপ কাজ। আমি মসজিদে মসজিদে তাবলীগের কাজ চালু করতে গনমাধ্যমে ইশতেহার দিয়েছি। মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে কথা বলেছি। নিজামুদ্দীন মারকাজের কাজ বন্ধ কিন্তু সারা দুনিয়ার অনন্য মারকাজ ও মসজিদতো খুলা। সবখানে কাজ চালু করা হোক। সারা দুনিয়ার মসজিদকে দাওয়াতের আমলের দ্বারা মারকাজ বানান।

গত ৬ই অগাষ্ট -২০২০,ভারতের দেওবন্দ এলাকায় করোনায় আটকা পড়া বাংলাদেশের তাবলীগের সাথীরা দেশে ফেরার পূর্বে মাওলানা আরশাদ মাদানী দাঃবাঃ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বাংলাদেশের সাথীরা তখন বললেন- আপনি এত মেহেরবানী করেছেন, আমাদের সবার জন্য এত কষ্ট করেছেন যে, আমরা এর কৃতজ্ঞতা কোনভাবেই প্রকাশ করতে পারবো না?

জবাবে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, কোন মেহেরবানী না। কিসের মেহেরবানী? আপনারা এখানে এসে আটকে গেছেন। আপনারা এখানে তাবলীগ করতে এসেছিলেন। এদেশে আপনাদের যা কষ্ট হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা এর সাওয়াব দান করবেন।

এসময় মাওলানা আরশাদ মাদানী আরো বলেন, আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করা দরকার। প্রত্যেককেই একে অপরের সাহায্য করা দরকার। আপনারাতো মুসলমান আমাদের ভাই। আমরা এখানকার বাসিন্দা আর আপনারা তো বাংলাদেশের।

মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন ভারতে আটকে পরা বাংলাদেশি সাথীদের এক এক করে পরিচয় নেন।

তখন জমিয়ত সভাপতি মাদানী বলেন- এখনতো মাদরাসার (দেওবন্দ) ছুটি। সব জায়গায় দরস পুরোপুরি বন্ধ। তবে একটা কথা যেন মনে করা না হয় যে, যারা দেওবন্দের বাহিরে পড়ে তাদের সাথে দেওবন্দের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা সবাই দেওবন্দি।

মাওলানা আরশাদ মাদানী তখন আরো বলেন- এসব মাদরাসার মাসলাক সেটাই, যেটা হযরত গাঙ্গুহী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ছিলো। ঐসকল প্রতিষ্ঠানই সঠিক, যা দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ লালন করে। তারা সবাই দেওবন্দী। আমি মাওলানা সা’দ সাহেবের সাথে কথা বলেছি। মারকাজে যদিও তালা লাগানো আছে, এটা তো একটা ব্যপক কাম। এরা যদিও মারকাজে তালা লাগিয়ে দিয়েছে, তবে এতে কী? প্রত্যেক মসজিদই মারকজে। প্রত্যেক শহরে মারকায আছে, প্রত্যেক প্রদেশে মারকাজ আছে। এজন্য তাবলীগের কাজ চালু হওয়া দরকার। তাবলীগের কাজ একেবারেই থেমে গিয়েছিলো। আমি পুরা হিন্দুস্থানের পত্রিকাগুলোতে একটা ইশতেহার দিয়েছি। ইশতেহার কাকে বলে আ পনারা জানো?

 মাওলানা আরশাদ মাদানী আফসোস করে বলেন, লাখো রুপির রফা-দফা হয়েছে। আমি সবার কাছে এটা বলেছি যে, তাবলীগের কাজকে বাঁধা দেওয়া সবচেয়ে খারাপ কাজ। হিদুস্থানসহ পুরো দুনিয়ায় মুসলমানদের সাথে বিরোধিতা পোষণকারীরা এটাই চায় যে, তাবলীগের কাম খতম হয়ে যাক। তাই আপনাদের কাজ শুরু করে দেওয়া উচিৎ। দুইজন-তিনজন মসজিদে বসে মাশোয়ারা করে নেন এবং গাশতে গিয়ে কথা বলেন। দিল্লিতে কথা বলেছি বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। 

আল্লাহর শুকরিযা, তাদের কথায় মানুষেরা তাড়াতাড়ি শুরু করে দিয়েছেন। তাই বসে না থেকে কাজ শুরু করে দেওয়া দরকার। দুজন দুজন অথবা তিনজন তিনজন করে কাজ করতে থাকা। জামাতও যদি বাহির হতে হয় তাহলেও দুজন করে বাহির হও। এটা সত্য যে, মারকায অনতিবিলম্বে খুলে দেওয়া জরূরী এবং মারকাযে আসা ও থাকার ব্যবস্থা চালু করার জন্য চেষ্টাও করে যেতে হবে,

বাংলাদেশের সাথীদের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী বাংলাদেশের কাজের হলত ও সার্বিক বিষয়ে খোজ খবর নেন। তখন তিনি কাকরাইলের আহলে শূরা, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি হযরত সৈয়দ ও্য়াসিফুল ইসলাম সাহেব দাঃ বাঃ সাথে ফোনে কথা বলেন।

হযরত সৈয়দ ওয়াসিসিফুল ইসলাম সাহেবকে মাদানী বললেন আল্লাহর ফযল ও করম যে, জীবিত আছি। দুআ করি, আল্লাহ আপনাকে, আপনার খান্দানকে, আপনার সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারীদেরকে এই মহামারী ও দুর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখুন। আপনিও আমার জন্য দুআ করবেন। আমিও আপনার জন্য দু’আ করি। বহুত শুকরিয়া জানাই। জাযাকুমুল্লাহ।
উনারা (আপনার সাথীরা) এসেছেন। এটা খুবই খুশির কথা। তাদের আল্লাহর রাস্তায় বাহির হওয়ার পর যত কষ্ট হয়েছে ও হবে, আল্লাহ সেসবের বিনিময়ে সওয়াব দান করবেন। তাবলীগের কাজ তো জেলের ভিতরেও সমানভাবে চলে।

তো ঠিক আছে। খুব ভালো লাগলো আপনার সাথে কথা হয়েছে। আপনার চিঠিও পেয়েছি। আপনিও আমার জন্য দুআ করবেন। আমিও আপনার জন্য,দোয়া করি।

উল্লেখ যে যে মুহুর্তে দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা আরশাদ মাদানী তাবলীগের কাজ মসজিদে মসজিদে চালু করার ব্যাপারে ইশতেহারের কথা বললেন। আর ইশতেহারে নিজামুদ্দিনের পাশে দাড়ানোকে নিজেদের ফরজ কাজ বলে ঘোষনা দিলেন। প্রতিটি মসজিদকে তাবলীগের কাজের দ্বারা নিজামুদ্দিন মারকাজ বানাতে বললেন। তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়াকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ বললেন,ঠিক সেই মুহুর্তে বাংলাদেশে বসে এক জাতীয় প্রতারক মুহাম্মদ আব্দুল মালেক মসজিদে নিজামুদ্দিন অনুসারী তাবলীগ জামাতকে প্রবেশে বাঁধা দিতে ফতোয়া দিয়েছে।

আবার এই মিথ্যুক কথায় কথায় দেওবন্দের নাম বলে গোটা জাতীকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করছে। সচেতন মহল মনে করে তাদের এসব ফতোয়াবাজী মূলত দেওবন্দ ও আকাবিরে দেওবন্দের সাথে চরম ধৃষ্টতার শামিল। এসব ফতোয়াবাজী বাংলাদেশের আলেম উলামা ও দ্বীনদার মানুষের মাঝে গৃহবিবাদ ও দাঙ্গা সৃষ্টির গভীর চক্রান্ত। লাখলাখ টাকা লেনদেন ও রফাদফা করে বাতিল শক্তি এদের মাঠে নিমিয়েছে তাবলীগের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com