শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.

এক আল্লাহ জিন্দাবাদ…

এক আল্লাহ জিন্দাবাদ…

মাওলানা হাকীম সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
=============================
শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিজাহুল্লাহু । শত বছরের বয়োঃবৃদ্ধ বর্ষীয়ান আলেম। বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে অনন্য উচ্চতার অধিকারী। কুতবে আলম শায়খুল ইসলাম মাওলানা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানীর সর্বশেষ জীবিত খলিফা। আমাদের জন্য বড় এক নেয়ামত। আধ্যাত্মিকতার জগতে একজন কিংবদন্তির শায়েখ ও ওলীয়ে কামেল। হাটহাজারী থেকে হেফাজত, বেফাক থেকে হাইয়া, কওমী স্বীকৃতি থেকে দেশের সকল কওমী মাদরাসার আলেম ত্বোলাবা ও সাধারণ মুসলমান চলতেন তাঁর আঙ্গুলের ইশারায়।

শতধা বিভক্ত বাঙালি মুসলিম সমাজের ইতিহাসে একক ব্যক্তি হিসেবে তাঁর চেয়ে অধিক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা কেউ পেয়েছিলো কিনা আমাদের জানা নেই। অবাক করা বিষয় হচ্ছে ইসলামী অঙ্গনের বাইরের গণমানুষের কাছে তিনি পরিচিতি পান মূলত আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমানের প্রচেষ্ঠায় যোদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর দাবীতে গঠিত শাহবাগ গন জাগরণ মঞ্চের বিরোদ্ধে মাঠে নেমে ২০১৩ সালে ১৩ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

এরপর থেকে আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন, বরং ওলামায়ে কেরামের শীর্ষ রাহবার ও দেশপ্রেমিক ইসলামী জনতার ঐক্য ও সংহতির প্রতীক৷ তিনি বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদবিরোধী অভূতপূর্ব গণজাগরণের মহানায়ক৷ ইসলামবিরোধী অপশক্তির সাক্ষাৎ আতংক৷ দীর্ঘ কর্মজীবনে সাফল্যের ধাপগুলো একে একে অতিক্রম করে তিনি এখন অনন্য উচ্চতায় আসীন অবিসংবাদিত এক নেতা৷ বাংলাদেশের ইসামের ইতিহাসের তিনি বাঁক নির্মাতা। তিনি ছাড়া আর কাউকে ঘিরে এমন নজিরবিহীন ঐক্যের ইতিহাস রচিত হয় নি।

শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উত্থানের বিপরীতে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দাবি যেনো বাঙালি মুসলমানদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়। যদিও সেদিন ১দফার আন্দোলনকে ১৩দফায় রূপ দেয়া ছিল মাহমুদুর রহমান, কবি আব্দুল হাই শিকদার সহ আমারদেশ পরিবারের পলিটিকাল ম্যাকানিজম। যেন সরকার কোনভাবেই মানতে না পারে। আর ১৩দফাকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলন তরান্বিত হতে পারে। এর পরেও এই ১৩ দফার হেফাজতে ইসলামের অপরিকল্পিত আবেগী আন্দোলনই মূলত আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে যায় এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি পান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও কোটি হৃদের বুকভরা ভালোবাসা। এদেশের কওমী অঙ্গনকে নিয়ে তিনি অনন্য এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করেন।

আপামর নবীপ্রেমিক জনতা থেকে শুরু করে ভারত বিরোধী সকল শক্তির আস্থার প্রতীকে পরিণত হন তিনি। আমার এখনো মনে পড়ে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল জামায়াত পরিচালিত দিগন্ত টেলিভিশনে হেফাজতের মহাসম্মেলনের লাইভ টেলিকাস্টে দিগন্ত রিপোর্টারের কথাগুলো। সেদিন সাংবাদিক আল্লামা আহমদ শফীর পরিচয় দিচ্ছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে। ঠিক যেভাবে ইরানে শিয়া ইমাম খোমিনীকে ইরানের সুপ্রিম ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

সেদিন একেবারে ভিন্ন মেরুর ইসলামি ব্যাক্তিত্ব মুফতি জসীম উদ্দিন রহমানী মতো নজদীধারা প্রভাবিত আলেমও বলেছিলেন,আলহামদুলিল্লাহ আমাদের আমীর হয়ে গেছে। তিনি মাওলানা শফীকে আমীর হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছিলেন। জৌনপুরী পীর মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর মতো মিলাদ-কিয়ামপন্থী পীর শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। কট্টর মাজহাববিরোধী আহলে হাদীস আন্দোলনের আমীর প্রফেসর আসাদুল্লাহ গালিবের মতো ব্যক্তিরাও ১৩ দফায় সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। জামায়াত-শিবির থেকে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ, আহলে হাদিস থেকে নানান পীরের মুরিদ, বিপ্লবীধারা থেকে নিদেন জুমার নামাজ পড়া মুসল্লি সবার মুখে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছিলো, “আহমদ শফী দিচ্ছে ডাক নাস্তিকতা নিপাত যাক ” শ্লোগান।

৫মে নিজ চোখে দেখেছিলাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তাবলীগের ছেলেরা কিভাবে দলে দলে আল্লামা আহমদ শফীর ডাকে সারাদিয়ে হাজির হয়েছিল শাপলায়। তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে লংমার্চে আসা মুসল্লীদের জন্য কাকরাইলের দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল। ব্যাবস্থা করা হয়েছিল হাজার মুসল্লীদের জন্য ফ্রি খবারের। তাবলীগের বড়বড় চিকিৎসকরা সদলবলে এসে সেদিন হাসপাতাল বানিয়েছিলেন কাকরাইল মসজিদকে আহতদের সেবাশুশ্রূষা করার জন্য। যা ছিল আল্লামা আহমদ শফি ও উলামায়ে কেরামের প্রতি তাবলীগের সাথীদের ভালবাসার নজিরবিহীন উদাহরণ।

৫ই মে ২০১৩ সালের সেদিন নিজামুদ্দীন মারকাজে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর কাছে কাকরাইলের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হেফাজতের এই আন্দোলনে আমরা পাশে থাকবো কী না। হযরতজী জবাবে বলেছিলেন, “প্রত্যেক মুসলমানের ইকরাম করা আমাদের জিম্মাদারী। আর উলামায়ে কেরামের জেয়ারত ও নুসরত তো আহাম ইবাদত। আপনারা আজকের দিনে তাদেী ইকরাম করুন।তাদের সেবা করুন”। হেফাজতের সেই আন্দোলনে কেবল ঢাকার সাধারণ তাবলীগের সাথীরা জান মাল দিয়ে সেদিন উলামায়ে কেরামের আবেগকে যে সম্মান দেখিয়েছিল কোন প্রকার প্রচার প্রচারনা ছাড়া একমাত্র আল্লাহর জন্য, এমন ভালবাসার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

এমনকী ১৩ দফার পক্ষে গণমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছিলেন কট্টর বামপন্থী ফরহাদ মজহার (যদিও তিনি পরবর্তীতে আমীরে হেফাজতের প্রপস সেক্রেটারী মুনির আহমদসহ অনেকের গুরু হয়ে উঠেছিলন উপরের ইশারায়) পিয়াস করিম, আসিফ নজরুলের মতো ভিন্ন ঘরনার বহু বুদ্ধিজীবী।

কিন্তু কয়েকজন জাতীয় গাদ্দারের বেঈমানী, সংসদ -সচিবালয় দখলের সাউন্ড গ্রেনেডের অপরিপক্ক হুংকার। আহমদ শফীকে রাষ্টপ্রতি জুনাইদ বাবুনগরীকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠনের ঘোষনা দিয়ে সেফ আল্লাহর জন্য গড়ে উঠা ঈমানী আন্দোলনকে নৎসাত করে দেন। শাপলা চত্তরে আল্লামা শাহ আহমদ শফি কওমীয়ানকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তা ‘দফ’ করে মাটিতে মিশি যায় কয়েকেজন বেঈমানের জাতীয় ষড়যন্ত্রে।

সেদিন হাজার হাজার অবুঝ কওমী ত্বোলাবাকে বন্দুকের নলের সামনে রেখে নেতরা পালিয়েছিলেন ময়দান থেকে। আল্লামা আহমদ শফীকে লালবাগে আটকীয়ে রেখে মাদরাসার ছাত্রদের দিয়ে লাশের রাজনীতির সিড়ি বানানোর ভয়ংকর পরিকল্পনা সে রাতে ধুলায় মিশে যায়।

হেফাজত উত্তান পতনের পরেও এদেশের কোটি কোটি মানুষের রাহবারে পরিণতি হন এককভাবে আল্লামা আহমদ শফী। তার নামের সাথে লিখা হতে থাকে শায়খুল ইসলাম। হাজারো আশেকে রাসূল জীবন বিলাতে প্রস্তুত শুধু তাঁর একটি হুকুমের অপেক্ষা মাত্র। অকস্মাৎ বিস্ফোরিত হওয়া এই আন্দোলন শক্ত হোঁচটে মাঝপথে থেমে গেলো। খুন ঝড়লো, শহীদ হলো, মামলা হয়রানি হলো। তবুও আহমদ শফী হুজুরের প্রতি মানুষের সম্মান একবিন্দু কমেনি। মানুষ সীমাবদ্ধতা বোঝার চেষ্টা করেছে। এরপর শুরু হলো ‘মাসের পর মাস জুড়ে ‘তেঁতুল হুজুর’ তত্ত্ব। কোটি মুমিনের হৃদয়ে তখন এসব বিষয় প্রচন্ড দাগ কেটেছিল। আল্লামা আহমদ শফি একটি নাম কেবল মোহময় ভালবাসায় গেঁথে ছিল।

কয়েক বছর যেতেই তেঁতুল বনে বসন্ত এলো, পাল্টাতে শুরু করলো হযরতের বয়ানের ধরন। সনদের উষ্ণ হাওয়ায় উবে গেল ১৩ দফা, শহীদের রক্তের দাগ, আর শতশত পবিত্র কোরআন পোড়ানোর আলাপ। ভাটা পড়লো জনপ্রিয়তায়, আপামর মুসলিমদের নেতা থেকে হয়ে গেলেন ফের কেবল কওমীদের নেতা। তিনি চারপাশের মানুষদের শেখানো ভুলি আওড়াতে লাগলেন। জাতীর মিমাংসার মসনদ থেকে তাকে তার স্বজনরা কিছু কাচা-টাকার বিনিময়ে নামিয়ে আনেন একেরপর এক বির্তকৃত কাজে।

তাবলীগ জামাতের ইমামারত বনাম আমীর বিহিন শূরা প্রদ্ধতির অভ্যান্তরিন বিরোধে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি আর্দশ উসুল কার্যক্রম, চিন্তাধারা, দর্শনকে ডিঙ্গিয়ে পাকিস্তানে সৃষ্টি কথিত আলমি শূরাকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে আল্লামা আহমদ শফীকে ব্যাবহার করা হয় প্রধান শক্তি হিসাবে। ইমেজ ব্যাক্তিত্ব প্রভাব, সম্মান, সরকারের কাছে গ্রহনযেগ্যতাকে ডাল বানিয়ে ব্যাবহার করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দিনের পর দিন ঢাকার ওজাহাতি নেতারা হাটহাজারী যেতে থাকেন সদলবলে হেলিকপ্টার ভাড়া করে। রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আহমদ শফী সাহেবকে আনা হতো ওজাহাতি নামক জোড়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করে। কে দিত সে টাকা? কোথায় থেকে আসতো ? আমরা কী কখনো জানতে চেষ্টা করছি। দিনের পর দিন বেফাককে ব্যাবহার করে আল্লামা আহমদ শফীর পড়ধান খলিফা মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের মাধ্যমে মাদরাসা বন্ধ করে লাখ লাখ টাকা ব্যায় করে ওজাহাতি জোড় হতে থাকলে মিথ্যা বয়ানের ফুলজুড়ি দিয়ে।

তখন কেবল এই একটি নাম ছিল মূল পুঁজি। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নাম ভাঙ্গিয়ে এদেশে তাবলীগের কাজকে দখলে নেয়ার, নববী মেহনতকে তছনছ করার সুগভীর ফাঁদ তৈরী করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রের জালে কেবল আল্লামা শফীর নামের খাতিরে চোখ বুঝে এদেশের লক্ষ লক্ষ ইমাম, আলেম উলামা তাবলীগের মূলধারাকে প্রতিহত করতে মাঠে নামেন। একেকটি জেলা ইজতেমা ঠেকাতে দিনের পর দিন সরাসরি উচ্চ মহলে আমীরে হেফাজত আল্লামা শফী সাহেবকে দিয়ে ফোন করিয়ে প্রভাব সৃষ্টি করে বাধাগ্রস্ত করতেন।

এসব পেশি শক্তির মোকাবিলায় তাবলীগ সাথীদেরমহান মালিক ও খালিকের দরবারে রাতভর চোখের পানি আর রোনাজারিই ছিল একমাত্র হাতিয়ার। এ তিনটি বছর কেবল হাটহাজী হযরতের নাম ভাঙ্গিয়ে সারাদেশে তাবলীগের নিরিহ সাথীদের উপর দিয়ে কী ঝড় চালানো হয়েছে তা কেবল আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। ফতোয়ার মিছিল, লিফলেট পোস্টারিং, ওজাহাতি মাহফিল, সাথীদের উপর মারধর সহ আল্লাহর ঘর মসজিদ থেকে কত শত জামাতকে যে নির্দয়ভাবে বের করে দেয়া হয়েছে!
আমাদের এক একজন সাথীর জীবন এক একটি ইতিহাস হয়ে আছে। হয়ত সে ইতিহাস কোনদিন ছাপবেনা বা পড়া হবে না।

এমনকী পহেলা ডিসপম্বরের ঘটনার পর আমীরে হেফাজতকে দিয়ে প্রভাব সৃষ্টি ও আজকের আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের দুর্নীতি আড়াল করতে পুত্র পবিত্র সাফাই নামার মতো, সাফাই নামা যেতে থেকে আহমদ শফীর সাক্ষরে মিডিয়া থেকে উচ্চ মহলে,দেশের মসজিদে মসজিদে। তার নামে চিঠি সাক্ষার করে ইজতেমা বয়কটের চিঠি যায় গ্রামে বন্দরে সারাদেশের ইমামদের হাতে।

আমরা যারা তখন বলতাম,আল্লামা শফীকে ব্যাবহার করা হচ্ছে,মিস গাইট করা হচ্ছে, তার নাম ব্যাবহার করে মাঠ গরম করা হচ্ছে,তখন হেফাজত নেতার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব কথার বিরোধীতা করে, আল্লামা শফীর কথার সাথে সাথে স্বদলবলে ত্বোলাবাদের নিয়ে ঠককককককককককক আওয়াজ তুলতেন। আজ তাড়াই বলছেন সব বেঠিক।

তাবলীগের সাথে বিরোধের পরই মূলত জনপ্রিয়তায় ভাটায় পড়েন এই মহান সিপাহসালার। তার কপালে একের পর এক কলঙ্কের শিল বসাতে থাকেন হেফাজত নেতারা। তাঁর চারপাশের লোকজন তাকে নিয়ে এমন এক আত্মঘাতী মিশনে নামেন যা একজন আল্লাওয়ালা মানুষ চিন্তাও করতে পারেন না। আহমদ শফীর জনপ্রিয়তায় সেদিনই ধস নেমেছিল যেদিন আনাস তার বাপকে নিয়ে হেলিকপ্টার চড়ে মুহাম্মদপুরের ঈদাগহের ওজাহাতি জোড়ে এসে আব্বর পক্ষে লিখিত বক্তৃতা দিয়েছিল। তাবলীগ ধ্বংসে এই আনাসকে ক্রয় করা হয়েছিল বাবার ইমেজকে ব্যাবহারের জন্য। আর তাই হয়েছিল। বিনিময়ে আনাসগংরা অনেক কিছু পেয়েছেন হয়তো বিনময়ে আজ হারিয়েছেন সবকিছু।

তখনি আল্লামা আহমদ শফীর জনপ্রিয়তা ও শ্রদ্ধা এদেশের দ্বীনদ্বার মানুষের হৃদয় থেকে উঠে যান। তাবলীগের বিশাল জনগোষ্ঠী ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর শিক্ষক ব্যাবসায়ী লক্ষ লক্ষ তাবলীগের সাথীদের কাছে অগ্রহনযোগ্য হয়ে পড়েন। কিন্তু একজন অতিশয়পর দেশ বরেন্য আলেম হিসাবে ভিন্নমতের পরেও ছিলেন পরম শ্রদ্ধার আসনে। আহমদ শফীর উদাহরন দিতে গিয়ে তাবলীগের এক আলেম বলেছিলেন, কুরআনে ভুল ছাপা হলে,আমরা তা পড়ি না। তবে এটিকে অসম্মানও করি না। সম্মানের সাথে মাথার উপর রেখে দেই। আল্লামা আহমদ শফী সাহেব বয়েসের কারণে ভুল বললে আমরা তার অসম্মান করব না সম্মানীত ব্যাক্তি হিসাবেই মাথার উপর রাখব।

তাবলীগ ইস্যুতে মাওলানা মামুনুল হক এক ওজাহাতি বয়ানে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, “এদেশে নেতা একজন, তার নাম আহমদ শফী। আল্লামা আহমদ শফী হায়াতে থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে কথা না বলে, বাংলাদেশে চলে না,বাংলাদেশ চলতে পারে না,চলতে দেয়া হবে না। আল্লামা শফীকে মাইনাস করে এদেশে ইসলামের নামধারী,ইসলাম ধ্বংসের চক্রান্তকারীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের প্রশাসন চলতে দেয়া হবে না।”

আজ সেই মামুন সাহেবরা আল্লামা শফি পুত্র আনাসগংদের নিয়ে কী বলছেন তা জাতীর সামনপ স্পষ্ট। আজ যারা আল্লামা শফিকে মাইনাস করার কথা বলছেন, কথা বলছেন নানান অনিয়ম নিয়ে তারাই সেদিন এই বয়োবৃদ্ধ মানুষটিকে নিয়ে নিজেদের মাঠ দখলে টানা হেছড়া করেছিলেন। বড়বড় নীতিহীন হুংকার ছুড়েছিলেন তার নাম ব্যাবহার করে। কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন তার নাম ভাঙ্গিয়ে।এসব নষ্ট কাজে হযরতকে মাঠে না নামিয়ে তিনি যদি কেবল মাদ্রাসার দরস আর খানকা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বা বয়সে শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অবসরে চলে গেলও কোটি সাধারণ মানুষের কাছে মহানায়ক হয়েই থাকতেন। এর জন্য দায়ী কারা???

এত কিছুর পরেও আল্লামা আহমদ শফি হাফি: প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। যুগ শ্রেষ্ট একজন ওলামাকে; আমীরে হেফাজতকে এভাবে অপমানিত করা কোনভাবে বৈধ হতে পারেনা। মানুষ হিসেবে তারও ভুল-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। উম্মত বার বার তাদের আমীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই ডেকে আনছে। হুকুম হলো আমীরের এতেয়াত করে যদিও আমীর তোমার উপর জুলুম করে। আমীরের কাজে অসন্তোষ হলে সবর কর। কুফুরের হুকুম দেয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর ইতাআত কর।

আজ খবর পেলাম গতরাতে শায়খুল ইসলাম এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেন নি। কেবলি ছিল তাঁর দুচোখ পানি। মুনাজাতে বারবার শিশুর মতে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। এই বয়েসে এসে তার বুকের ভিতর কী পরিমান কষ্ট তা সহজে অনুমেয়। তিনি বিষয়টি মানতেই পারছেন না, তার ছাত্ররা তার বিরোদ্ধে তারই মাদরাসায় এভাবে মাঠে নামবে। আর তার সেবাশুশ্রূষা ও সারক্ষন খেদমতের সঙ্গী কলিজার টুকরো পুত্রের বিরোদ্ধে এমন আন্দোলন! তারই সাক্ষরে অব্যাহতি যেন নিজ হাতে পুত্রকে জবাই করার মতো ঘটনা। আর দিনভর এমন অকথ্য ভাষায় শ্লোগান। বুক ভেঙ্গে কান্না আসবে নাতো কী আসবে এই মানুষটির।

প্রয়োজনে সময়ে অসময়ে নিজেদের স্বার্থে বাপ-বেটাকে বারবার ব্যাবহার করেছেন। উড়জাহাজ দিয়ে বারবার হাটহাজারীতে গিয়ে বিরক্ত করে ওজাহাতি মাঠে নামাতে বাধ্য করেছেন আর আজ আপনারাই তার ছাত্রদেরকে তাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুললেন। অন্ধকার থেকে কলকবজি নেড়ে ফের কওমীর কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা করলেন। এয়ারপোর্ট ঘেরাও এর মধ্য দিয়ে যে বেয়াদবী আপনারা শিক্ষা দিয়েছিলেন আজ সেই বেয়াদবি উম্মুল মাদারিসকে তছনছ করে দিচ্ছে। উস্তাদের ঘেরাও করছে। দুনিয়া হল ধার-উদ্ধারের জায়গা। কাকে কে ঘারাও করে। খোদা তোমার লীলা বুঝা বিষণ দায়! এয়ারফোর্ট ঘেরাও কারীরা আজ হাটহাজারী মাদ্রাসা ঘেরাও করলো!!

হাটাজারীর ছাত্রদেরকে দিয়ে যারা তাদের শিক্ষকদের মালপত্র তছনছ করিয়েছেন তারাও অপেক্ষা করুন নিজ ছাত্র-শিষ্যরা একদিন আপনার মালপত্রও তছনছ করবে নিশ্চয়। তাবলীগের আমীরের বিরোধীতা করতে গিয়ে যে বেয়াদবীর সিলসিলা শুরু হয়েছিল, তা আজ আমীরে হেফাজতকে ঘেরাও করে উম্মুল মাদারিস হয়ে তা অনেক দূর গড়াবে।

তা আর শেষ হবে না আর কিয়ামতের আগেও। বরং কিছুদিন পর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মাদরাসাগুলোতে অহরহ শিক্ষক ও প্রিন্সিপালকে ঘেরাও করা হবে, বেইজ্জত করা হবে। সিলসিলা শুরু হলো।

আমি ভবিষ্যত বাংলাদের কওমী অঙ্গন নিয়ে শঙ্কিত। হাটহাজারীর চলমান পরিস্থিতি আমাদের জাতীয় বিপর্যয়ের প্রমাণ। তবুও শায়খুল ইসলাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানীর জানেশিন হ৭সাবে তিনি আমাদের মাথার উপর এক সুবিশাল ছায়াবৃক্ষ। তার সম্মান রক্ষায় উদার হতে হবে। ঢাকার আলেমরা পাল্টা সমাবেশ করে ময়দানকে উত্তেজিত না করে তাঁর সম্মান রক্ষায় হাটহাজারী গিয়ে তাদের সাথে বসে বিষয়টির সুরাহা করতে পারতেন। আমাদের অপরিপক্ক নেতারা জীবন সায়হ্নে এই মানুষটির সাথে হিংসা বিদ্ধেষ আর নিন্দাবাদের বদলে সেই উদারতা সাম্য ও শান্তির পরিচয় দিতে পারেন নি।

জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলামের ভাষায়
উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ; আমরা বলিব/“সাম্য, শান্তি, এক আল্লাহ্ জিন্দাবাদ।”
উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ/আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ…

নিন্দাবাদের এই রাজনীতি বন্ধ নাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল থেকে জটিল হবে বলে মনে হচ্ছে।আহমদ শফী সাহেবপর মতো সরলপ্রাণ এই মহান ব্যক্তির সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা ও অভূতপূর্ব নেতৃত্বকে নিয়ে আজ দুটিপক্ষ অনভিপ্রেত টানা-হেঁচড়া শুরু করেছে৷ একটিপক্ষ তার বিপুল জনপ্রিয়তাকে পূঁজি করে ক্ষুদ্র স্বার্থ হাসিল ও নানান অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছে, তো অন্যপক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও ক্ষোভের গ্লানি তার উপর আরোপের কসরত করছে৷ আফসোস, একজন নবতীপর অসুস্থ মহান বুযুর্গকে নিয়ে এ কেমন নিষ্ঠুর জুলুমের খেলা চলছে! আমরা উভয়পক্ষকে অনুরোধ জানাই, আল্লাহর ওয়াস্তে এই বিপজ্জনক আত্মঘাতি খেলা বন্ধ করুন৷ যারা নিজেদের অভিলাস পূর্ণ করতে আল্লামা আহমদ শফীর নামকে ঢাল বানাচ্ছেন তারা থামুন। যারা বিরেধীতা করছেন তারা বসে সমাধান করুন। ভাই ভাই হয়ে কওম আর কওমীর সবাইকে নিয়ে চলুন। নয়তুবা পরিস্থিতি আরো জটিল ও ঘোলাটে হবে।

হাটহাজারী, হেফাজত ও বেফাকের ইস্যুতে চলমান অস্থিরতা নিরসনে বাংলাদেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামকে আমরা যথাসময়ে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। শুরুতে অস্বচ্ছতার লাগাম টেনে ধরতে পারলে জল আজ এতদূর গড়াত না। পাল্টা হুংকার আর উস্কানী ক্রমশ পতনের আওয়াজ কানে আসছে। রহম কর খোদা। তুমি সবই পার মহান সর্ব শক্তিমান।

এই যে কালচার শুরু হলো, এটা কি প্রথম? বেফাকীয় নির্দেশে, নেফাকীয় ত্বরীকায় এয়ারপোর্ট ছাত্র বিক্ষোভ ঘটিয়ে এক মহান ওলীর বিরোদ্ধে আহমদ শফীর নাম ভাঙ্গীয়ে আনাস রুহি আর আ.কু’দের ষড়যন্ত্রে যে ঘেরাও শুরু হয়েছিল এর হাওয়া গিয়ে আজ লেগেছে আমীরে হেফাজতকে ঘেরাও করে উম্মুল মাদারিসে। এটাই কি শেষ? ব্যাপারটা কি আশা জাগানিয়া? এই ধারা অব্যাহত থাকবে না- কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে? ঐতিহ্যের নীতিগত মৃত্যুর আর বাকি আছে?
তারপর কী?
তারপরে কে?

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com