সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

হৃদয়ের দরজা খুলে দিন,প্লিজ!!!

হৃদয়ের দরজা খুলে দিন,প্লিজ!!!

হৃদয়ের দরজা খুলে দিন,প্লিজ!!!

মাওলানা আবু ইউছুফ

২০১৮ ইং নিজামুদ্দিনে বাংলাদেশীদের জোড়ে মাজলুমানা ব্যথিত হৃদয়ে আমরা জোড়ে শরিক হই। আশা ছিল, হজরতজী এমন কিছু বয়ান করবেন যে,আমাদের হৃদয় প্রশমিত হয়,সান্তনা লাভ করে। কিন্তু তাঁর টোটাল বয়ানের আন্দাজ ছিল এমন যে,আমরা নিজেদেরকে জালেম অনুভব করতে লাগলাম। এত জুলুম সহ্য করেও মনে হতে লাগলো, আমাদের ভাইদের কাছে আমাদের আরে নত হওয়া দরকার ছিল।
আমি নিজামুদ্দিনের গেটে মাওলানা আশরাফ আলী সাহেবকে বললাম যে,হুজুর! হজরতজীর বয়ান শুনেতো আমাদের নিজেদেরকেই আরো জালেম মনে হচ্ছে। হুজুর বললেন,এটাই তাঁর হক্ব হওয়ার দলীল।

হালত দাঈর জীবনে আসবেই। এটা এ কাজ হক হওয়ার দলীল।কিন্তু হালতে সাথীদের দিলের কাইফিয়ত কী হবে? হজরতজীর বয়ানগুলোতে ছিল তার সীরাত ভিত্তিক দিকনির্দেশনা।

হজরতজীর উল্লেখযোগ্য কিছু কথা পেশ করছি,যার দ্বারা বোঝা যাবে,আমরা আসলে কোথায় অবস্হান করছি।

১//উনি বলেন,সাহাবায় কেরাম রাযিঃ তাদের কোন সাথী ইসলাম ছেড়ে মুরতাদ হলেও তার ব্যাপারে আশা ছেড়ে দিতেন না। আর আমরা কতো ছোট কারনে সাথীকে ছেড়ে দেই।
২//উনি বলেন,যাদের দিলে এন্তেকামের (প্রতিশোধের) জজবা থাকবে আল্লাহ তাদের দ্বারা নবী ওয়ালা এই হেদায়াতের কাজ নিবেন না।
৩//আরো বলেন,কারো দিলে
প্রতিশোধ ও উম্মাতের হেদায়াতের জজবা এক হতে পারেনা।
৪//আমাদের গাইরের(অন্যদের চক্রান্তের) দ্বারা আমাদের মেহনতের কোন ক্ষতি হবেনা,ক্ষতি হবে আমাদের নিজেদের সাথীরা যখন এতাআতের উপর না চলবে। এক্ষেত্রে হজরতজী উহুদের ঘটনা উল্লেখ করেন যে, ৩০০ মুনাফেক যুদ্ধে না গিয়ে ফিরে আসার দ্বারা কোন ক্ষতি হয়নি।বিজয় মুসলমানদের পদচুম্বন করেছে।
কিন্তু মুসলমানদের এতাআতের ৭০০ জনের মধ্যে থেকে ৫০ জন, যাদেরকে পাহাড়ী পথ পাহারায় হুজুর সঃ রেখেছিলেন এবং তাদেরকে হেদায়েত দিয়েছিলেন যে আমার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা এখান থেকে সরবেনা। কিন্তু সাহাবারা যখন যুদ্ধে জয়ী হন, তখন তারা ভুল করে রসুল সঃ নির্দেশের আগেই ঐ জায়গা ছেড়ে চলে আসেন। এতে মুসলমানদের নিশ্চিত জয় পরাজয়ে রূপান্তরিত হয়।
তাই মুসলমানদের মধ্যে থেকে যখন ঐক্য ও মানার যোগ্যতা নষ্ট হবে তখন আল্লাহর সাহায্য থেকে তারা বন্চিত হবে।
৫//আল্লাহর মদদ আমাদের পক্ষে আসার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, যারা স্বীয় গুনাহের কারণে আল্লাহর আজাবের উপযুক্ত হয়ে গেছে তাদেরকে বাঁচানোর ফিকির করা।
৬//আমাদের কাজ সাথীকে কাজে জুড়িয়ে রাখা,আর এ কাজ সাথীকে এসলাহ করবে।
৭//কারো বিপদে ফায়দা নেয়া সবচে নিকৃষ্ট মানুষের কাজ।
সাহাবারা তো শত্রুর বিপদেও খুশি হতেন না,এই গুনের কারনে এক কওমের সাহাবাদের রসুল সঃ বলেন তোমরা তো এই গুনের কারনে নবী হওয়ার কাছাকাছি এসে গিয়েছো।
৮//ইসলামের তরীকা হচ্ছে, কোন মুসলনান থেকে গুনা প্রাকাশ পেলে ছুপিয়ে সংশোধন করো। আর বাতিলের তরীকা হলো,এটাকে ব্যাপক প্রচার করো। অথচ এর দ্বারা গুনাহ আরো ব্যপকতা পায়।

এ কথাগুলোর আলোকে আমরা যদি চিন্তা করি,তাহলে বেড়িয়ে আসবে যে আমরা কতটুকু এতাআতে আছি।

বর্তমান সময়ে অন্যদের ভুলত্রুটি নিয়ে অনেকেই আজ চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। জানিনা নিজামুদ্দিন থেকে কবে আমাদেরকে এ হেদায়াত দেয়া হলো? আমরা যারা ফেজবুকে অমুক জাগা থেকে নিজামুদ্দিন, তমুক জাগা থেকে নিজামুদ্দিন, বিশ্ব আমীরের সমর্থক গ্রুপ ইত্যাদি নামে পেজ খুলে গীবত চর্চা করছি,তারা কি আসলেই নিজামুদ্দিনের সাথী?? ভাই নিজামুদ্দিনকে যদি আমরা মানতে না পারি,আপনা খাহেশাত মিটিয়ে নিজামুদ্দিনের বদনাম কেনো করছি?! কই,আমাদের কাকরাইলের শুরা হজরতরাওতো এমন নির্দেশনা দেননি।
যদি বলেন,হজরতজীর মহাব্বতে করছি,তাহলে বলবো আপনি ঐ নির্বোধ ভাল্লুকের মত কাজ করছেন যে মহাব্বতে মালিকের মাথার মাছি তাড়াতে যেয়ে মালিককেই মেরে ফেলেছে।
ভাই, আপনার খাহেশাতের কারনে আজ লাখো দাঈর কোরবানিতে পানি পরে যাচ্ছে। প্রত্যেকে তার নিজের কর্মের পরিনতি ভোগ করবে। বদ আমলের পরিনতি থেকে বাঁচতে পারে,এমন শক্তিমান মানুষ পৃথিবীতে জন্ম হয়নি। তার জন্য আমরা কেন আমাদের দামান নোংড়া করছি। “সংশোধন করা যাদের জিম্মায় তারা যদি সংশোধন না করে আসাবিয়াতের উপর সাপোর্ট দেয়, তাহলে হাূীসের ভাষ্যমতে তারাও ছাড় পাবেননা”।দেখুননা, যারা আগুন নিয়ে খেলেছিল, তাদের ঘরই আজ দাবানলে পুড়ছে। হজরতজী বলেন,হজরত আবু বকর রাঃ এক ব্যাক্তির সাথে বিতর্কের সময় যতক্ষণ চুপ ছিলেন,ফেরেশতারা তার পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছিলেন। আর যখন উনি মুখ খুললেন তো আল্লাহর সাহায্য উঠে গেল। তাই আমরা সর্বক্ষেত্রে নিজামুদ্দিনকে সামনে রাখি,যদি মুলধারার তবলিগওয়ালা হই। আর নিজামুদ্দিনের নাম ব্যবহার করে নিজামুদ্দিনের বদনাম করতে চাইলে পরিনতি এমনি হবে। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন,আমীন।
May be an image of one or more people, outdoors and text that says "REDMI NOTE QUAD CAMERA"
Like

Comment
Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com