রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

একজন দাঈ’র রমজানের প্রস্তুতি যেমন হবে

একজন দাঈ’র রমজানের প্রস্তুতি যেমন হবে

মাওলানা সৈয়দ আনেয়ার আবদুল্লাহ

গতকাল পবিত্র রমজানের চাঁদ উঠেছে। আজ পহেলা রমজান । সকল মুমিনের জন্য এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে রমজান পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। কারণ যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমেই ভালো কিছু করা সম্ভব। রমজান থেকে পরিপূর্ণ উপকৃত ও পরিপূর্ণ লাভবান হওয়া সম্ভব। তবে প্রত্যেক  মুমিন যেভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিবে, সেই তুলনায় একজন দাঈ রমজান প্রস্তুতি হবে ভিন্ন। নিজের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সাথে সাথে উম্মাহর বিষয় নিয়েও তাকে ভাবতে হবে। তিনি উম্মতের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। নববী মেহনতের ওয়ারিস হিসাবে তার জিম্মাদারী একটু বেশি। দাঈদের উপযোগি  করে আমরা প্রতিদিন করে একটি দরস দিব ইনশাআল্লাহ।

প্রথমত একজন দাঈকে পবিত্র রমজান মাসের ২৪ ঘণ্টার একটি রুটিন তৈরি করতে হবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিউটিতে আমি কোন মুহূর্ত কিভাবে অতিবাহিত করবো? কিভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করব? কিভাবে আমার ঈমানকে তাজা রাখব। কখন তালিম আর মাশওয়ারা পুরা করব এটিকে সামনে রেখে ২৪ ঘন্টার একটি রুটিন আমাকে তৈরি করতে হবে।

আমি প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত কোন সময় করব? কোন সময় কত পারা কুরআন তেলাওয়াত করব? কখন কুরআনের তরজমা আর তাফসির পড়বো? আমি প্রতিদিন কত টাকা করে দান করব? প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যার কোন কোন দোয়া, জিকির, তাসবিহাত গুলো আমি নিয়মিতভাবে পাঠ করবো? প্রতিদিন আমি কতবার নিয়মিতভাবে দরুদ শরীফ পড়ব? একটা তালিকা করে নিতে হবে।
 সবার আগে  নিজে ঈমানী, আমলী ও চারিত্রিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। তাওবা ইস্তেগফারের মাধ্যমে পুতপবিত্র হয়ে নতুনভাবে একটি জীবন শুরু করতে চেষ্টা করবে। মানসিকভাবে পূণ্যের বসন্ত থেকে সব ধরণের বরকত হাসিলের প্রস্তুতি নিবে।
নবী করীম (সা.) রমজান আসার আগেই সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতেন, অভিনন্দন জানাতেন, সুসংবাদ দিতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের সামনে রমজান মাস চলে এসেছে। মুবারক মাস চলে এসেছে। এই মাসের অনেক ফজিলত রয়েছে। এভাবে তিনি সকলকে অভিনন্দন জানাতেন। তাই একজন দাঈ ও খতিব রাসূল (সা.) এর উত্তসূরি হিসেবে সবাইকে রমজানের সুসংবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে আমলের ফাজায়েল বলব। ফাজায়েলে রমজান পড়ে পড়ে সেই মাহল তৈরি করবো।

শেষ রাতে সেহরীতে যখন উঠব তখন তাহজ্জুদ পড়া ও লম্বা দোয়া করার ইহতেমাম করব।

ফজরের আগেই কোরআনে পাকের তেলাওয়াত জিকির  করে নিব।

ফজরের পর তাসবিহাত ঘরে মোন্তাখাবের তালিম ও এশরাকের আমল করে বিছানায় ঘুমাতে যাব।
৯টার দিকে উঠে চাশতের নামাজ ৪-১২ রাকাত ও সালাতুত তাসবিহ পড়ে নিব।
১১টা থেকে যোহর পর্যন্ত ঘরের রান্নাবান্না ও বাচ্চাদের খেদমতে সময় দিবো। এসম মাস্তুরাতকে কুরআন তেলাওয়াত বা অন্য কোন আমলের সুযোগ করে দিব।
জোহরের নামাজ ও ফাজায়েলে আমালের তালিম করব। এরপর একটু কাইলুলা বা ইনফেরাদী আমল সেরে নিব।
আছরের পর তাসবিহাত ও কোরআনে পাকের তেলাওয়াতের ইহতেমাম করবো। ইফতেরের আগে ঘরের সবাইকে নিয়ে দেয়ার ইহতেমাম করব। ইফতারী তৈরিতে মাস্তুরাতকে সাহায্য করবো।
 মাগরীবের পর আওয়াবীন পড়ে নিব। একটু সময় নিজের কোন মশগুলাত বা নেট দেখে নিতে পাড়ি( যারা ব্যাবহার করেন)
ঘরের সবাইকে নিয়ে জামাতে নামাজ ও তারাবি পরে নিব। ধীরে ধীরে তারাবির পরে নিয়ে ৫ আমলের সাথে ঘরের তালিম পুরা করবো। সুরায়ে আলিফ লাম সেজদা, ওয়াকিয়া ও মূলক পড়ে নিব।
যে কোন নামাজের পর ঘরের সকলকে নিয়ে ১ ঘন্টা এই আমল করা- সুরা তওবার শেষ আয়াত, সুরা এখলাস, ঈমানী মোজাকারা দোয়া ও দাওয়াতের মাহাল তৈরি করবো।
 ব্যক্তিগতভাবে রহমত ও মাগফেরাতের  বিশদিনে  নূন্যতম পাঁচ খতম কুরআন ও নাজাতের দিনগুলোতে পাঁচ খতম কুরআন কমপক্ষে  পড়ে নিব।
আমার সাধ্যনুযায়ী প্রতিদিন ইফতারে আল্লাহর মেহমান রোজাদারদের সঙ্গী রাখব। জনসেবামূলক কিছু উদ্যোগ গ্রহন করা। বিশেষত ইফতারি উপলক্ষে কিছু খেজুর, কিছু ছোলাসহ ইফতারি সামগ্রী হাদিয়া হিসেবে প্রতিবেশী ও আশে পাশের মানুষকে পাঠানো যেতে পারে। ইফতারের আয়োজন বা অনুষ্ঠান যেহেতু এ বছর করা যাবে না, তাই ইফতার পৌছানোর ব্যবস্থা করাই ভালো।
তাহাজ্জুদকে কমপক্ষে ত্রিশদিনের জন্য হলেও অলংকার বানাব। পাশাপাশি কিয়ামুল লাইলের ইহতেমাম করা।
স্পেশালি ইফতার ও সেহরি পূর্ব সময়টাকে তওবা, ইস্তিগফার  ও কান্নাকাটির জন্য বরাদ্দ রাখব।
গুনাহ, পাপ,অশ্লীলতা, অন্যায়,গীবত,মিথ্যা থেকে দুরে থাকব। নজরের হেফাজত করবো।
চলবে…
আগামী কাল পড়ুন দরসে রমজানের ২য় পর্ব।
সাথে ইফতার ও সেহরীর সময় জানতে চোখ রাখুন তাবলীগ নিউজ বিডি ডটকমে।

 

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com