রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

রমজানে যেভাবে আমলের দ্বারা ঘর সাজাবো

রমজানে যেভাবে আমলের দ্বারা ঘর সাজাবো

দরসে রমজান ২

রমজানে যেভাবে আমলের দ্বারা ঘর সাজাবো

মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

রমাজান মাস আল্লাহ তা‘আলার এক বিশেষ নিয়ামাত। সাওয়াব অর্জন করার মৌসুম। এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস-রমজান মাস।আল্লাহ তাআলা মানুষকে কল্যাণের জন্য ভালো কাজের একটি মৌসুম উপহার দিয়েছেন। যে মৌসুমে মানুষের ভালো কাজের প্রাপ্তি বেড়ে যায় আবার মন্দ কাজের প্রভাব একেবারেই কমে যায়।

রমজান সিয়াম সাধনার মাস। আল্লাহ তাআলার একান্ত সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য পাওয়ার মাস রমজান। সব গোনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার মাস রমজান। এ মাসের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভে অধীর আগ্রহ তৈরি হয় মুমিন বন্দা ও দাঈদের ভিতর।

ভালো কাজের এ পবিত্র মৌসুমে মুমিন মুসলমানের অন্তর শুধুমাত্র আল্লাহর তাআলার দিকে ঝুঁকে যায়। ভালো কাজের শ্রেষ্ট মৌসুমটি হলো পবিত্র রমজানুল কারিম।

 কুরআন পাকে এসেছে ‘‘রমাদান মাস, যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী [সূরা আলবাকারাহ : ১৮৫]

এবছর এক অন্যরকম রমজান কাটছে। আমাদের গোনাহ ও পাপের কসরণে খোদা আমাদেরকে মসজি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। রহমানুর রাহিম জান্নাতের দরজা খুলে দিলেও আমাদের সীমাহীন অপরাধ আমাদেরকে মসজিদ বিহীন করেছে।  হোম কোয়ারেন্টাইনে এখন দুনিয়ার কোটি কোটি মুসলমান রমজান কাটাচ্ছেন।  ঘরে কোয়ারেন্টাইন বা নফল ইতেকাফের এই রোজার সময়গুলোকে ঈমান, আমল ও দাওয়াতের সাথে অতিবাহিত করা একান্ত জরুরী।

“এই সময়ে ইয়াকিনী আসবাব দোয়া, ইস্তেগফারের আমল, আল্লাহর দিকে মতুয়াজ্জু এবং ব্যাক্তিগত এবাদতে মশগুল থাকা। নিজের ঘরে থেকে দাওয়াত তালিম ও তেলাওয়াতের এহতেমাম করা। এই আমলগুলো আযাবকে দূর করার এবং আল্লাহ তালার গোস্বা ঠান্ডা করার আসল মাধ্যম।

রমজান মাসেই মুমিন মুত্তাকির আধ্যাত্মিক বাগানে ফুটবে নব-বসন্তের ফুল। জান্নাতি পরিবেশে প্রত্যেক মুমিন-মুত্তাকির বান্দার হৃদয় হয়ে উঠছে আলোকিত। আল্লাহর রহমতের বারিধারায় সিক্ত হবে মুবাল্লীগদের অন্তর। করোনাকালে ব্যাথিত হৃদয়ে রহমতের সুধা পান করে তৃষ্ণা মেটাবে মুমিন।

ঈমানী মোজাকারা: রমজানে ঘরে প্রতিদিন ঈমানী মোজাকারা করা। ঘরে নিজ সন্তানদের সাথে ঈমানী আলোচনা করা। ঘরের ভিতর বিবি বাচ্চাদের ঈমানী কথা বলে মশক করা। ঘরে নিজের জন্য এতো বেশি দাওয়াতি কাজ করা ঘরে যেন মারকাজের পরিবেশ কায়েম হয়ে যায়। এতে আমলের স্বাদ লাভ হবে।

তালিমের ইহতেমাম করা: ৫ আমল সহ ঘরে তালিমের ইহতেমাম করা। তরবিয়ত ওয়ালা ইলমের জন্য রোজানা হায়াতুস সাহাবা পড়া। ঘরের ভিতরই ‘মাকামি আমল’ এর ইহতেমাম করা। র বচ্চাদের তরবিয়ত ও মাস্তুরাতের আমলের ফিকীর করা। ঘরে এতো বেশি তালিম করা ঘরে যেন মাদরাসার পরিবেশ কায়েম হয়ে যায়।

নামজ: ঘরে  জামাতে নামাজের ইহতেমাম করা। ফরজ নামাজ দু তিনজন মিলে জামাতের সাথেই ঘরে আদায় করে নেয়া। নফল নামাজের ইহতেমাম করা। আওয়াবিন, ইশরাক, চাশত ও তাহাজ্জুদের খুব ইহতেমাম করা। প্রতিদিন দিন ও রাতে সালাতুত তাসবিহর নামাজ পড়া।সালাতুত তারাবীহ পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবীহ পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদীসে এসেছে: ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমাদানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবীহ) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে’ [সহীহ আল-বুখারী : ২০০৯] সালাতুত তওবার নামাজ পড়া। সালাতুল হাজতের নামাজ পরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। ঘরের ভিতর এতো বেশি নামাজ পড়া ঘরে যেন মসজিদের পরিবেশ কায়েম হয়ে যায়। সিয়াম পালনের সাথে সাথে সময়  নামাজের ইহতেমাম করালে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হবে।

তাসবিহাত: আল্লাহ আল্লাহ ‘ইসমেজাত’ ১০০০ বার পড়া। লাইলাহা ইল্লাল্লাহু  সকালে ১০০ বার, সন্ধ্যায় ১০০বার পড়া।
ইস্তেগফার ১হাজার বার। সকাল বিকাল ধ্যান ও ইহতেমামের সাথে ৩ তাসবিহাতের মামুল আদায় করা। ঘরে এতে বেশি জিকির ও তাসবিহাত আদায় করা ঘরে যেন খানকার পরিবেশ কায়েম হয়ে যায়।

তওবা ও ইস্তেগফার করা: এক হাজার বার প্রতিদিন ইস্তেগফার করার কথা মারকাজ থেকে বলা হয়েছে। হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা. বা. বলেছেন, ‘ এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়া তওবা করা। যেমন নূহ আঃ তার কওমকে বলেছিলেন তোমরা আল্লাহর দিকে রুজু হও এবং তার কাছে মাফ চাও। তিনি তোমাদের হালত দুরস্ত করে দিবেন এবং তোমাদের সন্তানাদি ও বাগানে বরকত ঢেলে দিবেন। গুনাহের কাজ আর না করার সিদ্ধান্ত নেয়া। এ মাস তাওবাহ করার উত্তম সময়। আর তাওবাহ করলে আল্লাহ খুশী হন। আল্লাহ বলেেছেন ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাটি তাওবা; আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত’’ [সূরা আত-তাহরীম : ৮]

হাদিসে অনেক ইসতেগফার এসেছে। এর যে কোনোটি পড়লেই হবে-
– اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اِنَّ اللهَ غَفُوْرُ الرَّحِيْم
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।
অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

– اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اّللَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাবো।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘হে মানবসকল! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর, আর আমি দিনে তাঁর নিকট একশত বারের বেশি তাওবাহ করে থাকি’’ [সহীহ মুসলিম : ৭০৩৪]  তবে তাওবাহ ও ইস্তেগফারের জন্য উত্তম হচ্ছে, মন থেকে সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার পড়া,

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ

ফযিলাত: ‘‘যে কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা এই দু‘আটি (সাইয়েদুল ইসতিগফার) পাঠ করবে ঐ দিন সন্ধ্যা হওয়ার আগে মৃত্যু বরণ করলে সে জান্নাতবাসী হবে এবং যে কেউ ইয়াকিনের সাথে রাত্রিতে পাঠ করবে ঐ রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করলে সে জান্নাতবাসী হবে।’’ [সহীহ আল-বুখারী : ৬৩০৬]

বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা: এটি কুরআনের মাস। তাই এ মাসে অন্যতম কাজ হলো বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ’’ [সুনান আত-তিরমিযী: ২৯১০, সহীহ] :প্রতিদিন ৫পারা কুরআনুল কারিম তেলাওয়াত করা। প্রতিদিন ২বার সুরায়ে ইয়াসিন তেলাওয়া। ২বার সুরায়ে কাহফ পড়া। না পারলে প্রথম ও শেষ রুকু তেলাওয়াত করা। সুরা তাওবার শেষ দুই আয়াত পড়া। রমজান মাসে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ মাসের অন্যতম আমল হলো সহীহভাবে কুরআন শেখা। আর কুরআন শিক্ষা করা ফরয করা হয়েছে। কেননা কুরআনে বলা হয়েছে:‘‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’’ [সূরা আলাক : ১]রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদান ব্যতীত কোন মাসে এত বেশি তিলাওয়াত করতেন না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘‘রমাদান ব্যতীত অন্য কোনো রাত্রিতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করতে, কিংবা ভোর অবধি সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোযা পালন করে কাটিয়ে দিতে দেখি নি’’ [সহীহ মুসলিম : ১৭৭৩]

রাতে ঘুমানোর আগে নিম্নোক্ত আমল গুলো ১ঘন্টা পুরো করা। আয়াতুল কুরসী১০০ বার পড়া, সুরায়ে কাফিরুন ১০০ বার, সুরায়ে ইখলাস ১০০ বার, সুরায়ে ফালাক ১০০বার, সুরায়ে নাস ১০০বার পড়া। এশার সাথে সাথেই আমল করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়া। শেষ রাতে উঠে তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ ও দোয়ার ইহতেমাম করা।

তাহাজ্জুদের ইহতেমাম করা:
-হযরতজী দা. বা বলেছেন, রাতে তাহাজ্জুত পড়ে আল্লাহ’র কাছে দোয়া করি।রমাজান মাস ছাড়াও সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যে বিরাট সাওয়াব এবং মর্যাদা রয়েছে। রমাদানের কারণে আরো বেশি ফজিলত রয়েছে। মহামারি থেকে বাঁচার জন্য অযথা আলোচনা না করে জিকিরের খুব এহতেমাম করি। প্রত্যেকে নফল রোজা, নামাজ, তাহাজ্জুত, রাত্রের কিয়াম ও দোয়ার এহতেমাম করি আর কোন আমল যেন ছুটে না যায় বা ছেড়ে না দেই।  যেহেতু সাহরী খাওয়ার জন্য উঠতে হয় সেজন্য রমাজান মাসে সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করার বিশেষ সুযোগও রয়েছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল রাতের সালাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সালাত’’ [সহীহ মুসলিম : ২৮১২]

বেশি বেশি দান-সদাকাহ করা: এ মাসে বেশি বেশি দান-সাদাকাহ করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ইয়াতীম, বিধবা ও গরীব মিসকীনদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া ও বেশি বেশি দান খয়রাত করা। হিসাব করে এ মাসে যাকাত দেয়া উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে বেশি বেশি দান খয়রাত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল আর রমাদানে তাঁর এ দানশীলতা আরো বেড়ে যেত’’ [সহীহ আল-বুখারী : ১৯০২]

বিশ্বাসীদের হাতিয়ার দোয়া: সকাল ও বিকালে প্রতিদিন কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে এক ঘন্টা ইনফেরদী দোয়ার এহতেমাম করা। দোয়া ও দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভী হাফিজাল্লাহু আরো বলেছেন, ” আল্লাহ তায়ালা সকল সংকট সমাধান তার দ্বীনের ভেতরে রেখেছেন। সুতরাং রমজানে আমাদের সকলকে তার কাছে তওবা ইস্তেগফার করা উচিত। পাশাপাশি মানবজাতীর এই মসিবত থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়ার মাধ্যমে সাহায্যে চাওয়া উচিত।”

জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া-
– اَللَّهُمَّ اَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَ اَجْرِنَا مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝিরনা মিনান নার।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।’

– اَللهُمَّ انَّ نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান নার।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।’

হাদিসে পাকে আরো এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা ৩ বার জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুলে সুপারিশ করবে।সেজদাবনত হয়ে মহান রবের কাছে রহমতের মাস রমজানে এ দোয়া করি, হে আল্লাহ! আপনি রমজানের রহমতের উসিলায় পুরো বিশ্বকে মহামারি করোনা মুক্ত করে দিন

দাওয়াতের কাজ করা: রমাদান মাস হচ্ছে দ্বীনের দাওয়াতের সর্বোত্তম মাস। আর মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকাও উত্তম কাজ। হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভী দা. বা. আরো বলেছেন, বর্তমান সময়ে উম্মতের বড় গুনা হচ্ছে তারা তাদের ফরজ দায়িত্বের ব্যাপারে সীমাহীন অবহেলা করছে এবং নবীওয়ালা ঐ আলমী মেহনতের ব্যাপারে অলসতা করছে। যার দ্বারা সমস্ত ফরজ ওয়াজিব ও সুন্নত জিন্দা হবে। সুতরাং আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে আমরা সবাই অনুতপ্ত হই ও ইস্তেগফার করি এবং এই নিয়ত করি যে ভবিষ্যতে ঐ কাজকে নিজের জিন্দেগীর মাকসদ বানাইব যা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জিন্দিগির মাকসদ ছিল। এজন্য এ মাসে মানুষকে দ্বীনের পথে নিয়ে আসার জন্য আলোচনা করা। আলকুরআনের ঘোষণা : ‘‘ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে ডাকলো, নেক আমল করলো এবং ঘোষণা করলো, আমি একজন মুসলিম’’ [সূরা হা-মীম সাজদাহ : ৩৩]

ইফতার করা: সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা বিরাট ফজিলাতপূর্ণ আমল। কোন বিলম্ব না করা । কেননা হাদীসে এসেছে: ‘‘যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি হলো অধিক পবিত্র ’’ [সুনান আবু দাউদ : ২৩৫৭, সহীহ]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন : “পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সিক্ত হল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হল।” [সুনান আবূ-দাউদ: ২৩৫৯, সহীহ]

অপর বর্ণনায় যে এসেছে- “হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোযা রেখেছি, আর তোমারই রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।” এর সনদ দুর্বল। আমাদের উচিত সহীহ হাদীসের উপর আমল করা। [সুনান আবু দাউদ :২৩৫৮]

ইফতারের দোয়া

ইফতারের কিছুক্ষণ পূর্বে এ দোয়াটি বেশী বেশী পড়তে হবে

يَا وَا سِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ: ইয়া ওয়াসিয়াল মাগফিরাতি, ইগফিরলী। অর্থঃ হে মহান ক্ষমা দানকারী! আমাকে ক্ষমা করুন। (শু‘আবুল ঈমান: ৩/৪০৭)

بِسْمِ اللهِ وَعَلى بَرَكَةِ اللهِ

বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আলা বারাকাতিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করবে এবং ইফতারের পর নিম্নের দুটি দোয়া পড়বেঃ

اَللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلي رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়ালা রিযকিকা আফতারতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি, এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করলাম। (আবূ দাঊদ: ১/৩২২)

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْـتَلَّتِ العُرُوْقُ وَثَبَتَ الاَ جْرُ اِنْ شَاءَ الله تَعَا لى উচ্চারণ: যাহাবাযযমা ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহু তায়ালা।

অর্থঃ পিপাসা দূরিভূত হয়েছে, ধমনীসমূহ সতেজ হয়েছে, এবং ইনশাআল্লাহ রোজার সওয়াব নিশ্চিত হয়েছে। (আবূ দাঊদ: ১/৩২১)

কারো দাওয়াতে ইফতারি করলে মেজবানের উদ্দেশে এই দোয়া পড়বেঃ

اَفْطَرَعندكم الصائمون واكل طعامكم الابرار وصلت عليكم الملئكة

উচ্চারণ: আফতারা ইনদাকুমুস সায়িমুন ওয়া আকালা তাআমুকুমুল আবরার ওয়া সাল্লাত আলাইকুমুল মালাইকা।

অর্থঃ আল্লাহ করুন যেন রোজাদাররা তোমাদের বাড়ীতে রোজার ইফতার করে এবং নেক লোকেরা যেন তোমাদের খানা খায় এবং ফেরেশতারা যেন তোমাদের উপর রহমতের দু‘আ করে। (আসসুনানুল কুবরা, নাসাঈ ৬:৮১)

ইফতার করানো: অপরকে ইফতার করানো একটি বিরাট সাওয়াবের কাজ। প্রতিদিন কমপক্ষে একজনকে ইফতার করানোর চেষ্টা করা দরকার। কেননা হাদীসে এসেছে: ‘‘যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে, তাদের উভয়ের সাওয়াব হতে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না’’ [সুনান ইবন মাজাহ : ১৭৪৬, সহীহ]

এহতেমামের সাথে ও পূর্ণাঙ্গ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজের জন্য ও পুরো উম্মতের জন্য দোয়া করি। এখলাস ও এই মেহনতের বাসিরাত কামনায় করে এহতেমামের সাথে এ দোয়া করি,আল্লাহ তায়ালা যেন পুরো দুনিয়াতে আমান,নিরাপত্তা ও সুস্হ পরিবেশ সৃষ্টি করে দেন।

 মিসওয়াক করা: মেসওয়াকের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদীসে এসেছে: অর্থাৎ মেসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রকারী, এবং রবের সন্তুষ্টি আনয়নকারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা রেখেও মেসওয়াক করতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। [সহীহ ইবন খুযাইমাহ : ১৩৫]

রমজানে  যা করবো না:

রমাজান মাসের ফজিলত হাসিল করার জন্য এমন কিছু কাজ রয়েছে যা থেকে বিরত থাকা দরকার, সেগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা হলো :

1. বিলম্বে ইফতার করা
2. সাহরী না খাওয়া
3. শেষের দশ দিন কেনা কাটায় ব্যস্ত থাকা
4. মিথ্যা বলা ও অন্যান্য পাপ কাজ করা
5. অপচয় ও অপব্যয় করা
6. তিলাওয়াতের হক আদায় না করে কুরআন খতম করা
7. জামা‘আতের সাথে ফরয সালাত আদায়ে অলসতা করা
8. বেশি বেশি খাওয়া
9. রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদাত করা
10. বেশি বেশি ঘুমানো
11. সংকট তৈরি করা জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধির জন্য
12. অশ্লীল ছবি, নাটক দেখা
13. বেহুদা কাজে রাত জাগরণ করা
14. বিদ‘আত করা
15. দুনিয়াবী ব্যস্ততায় মগ্ন থাকা

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com