সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন

মাদ্রাসা খুলে দিতে সরকারকে যেভাবে আশ্বস্ত করছেন আলেমরা

মাদ্রাসা খুলে দিতে সরকারকে যেভাবে আশ্বস্ত করছেন আলেমরা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হলেও কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়া নামে একটি সংগঠন।

আগামীতে কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না, মাদ্রাসাগুলোয় শিক্ষা ও দোয়া কালাম ইত্যাদির পরিবেশ সর্বদা বজায় থাকবে বলে সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন তারা।

মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে এ নিয়ে সংগঠনটির নেতারা বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশের আহ্বায়ক মাওলানা ড. মুশতাক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, সদস্য সচিব মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান।

বৈঠকের বিষয়ে ড. মুশতাক আহমদ যুগান্তরকে বলেন, দেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক, কওমি মাদ্রাসা কখনো বন্ধ হতে দেওয়া যায় না। যেহেতু অধিকাংশ কওমি মাদ্রাসায় সাংবিধানিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। যা মাদ্রাসার ভর্তি ফরমের অঙ্গিকারনামায়ও উল্লেখ রয়েছে। সে হিসাবে এখানকার ছাত্রদের কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়ানোর সুযোগ নেই। বিভিন্ন মাদ্রাসার পরিচালকরা এ বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। মাদ্রাসাগুলোয় শিক্ষা ও দোয়া কালাম ইত্যাদির পরিবেশ সর্বদা বজায় রাখবেন।আমরা বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

মাদ্রাসা খোলার বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে আগামী ২৪ এপ্রিল একটি ওলামা সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ বলেন, কওমি মাদ্রাসায় এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এটি মূলত আকাবির তথা পূর্বসূরিদের আদর্শ ও কর্মকৌশল থেকে সরে আসার কারণে তৈরি হয়েছে। রাজনীতি বা মাঠপযায়ের কর্মকাণ্ডে ছাত্রদের সরাসরি অংশগ্রহণ আমাদের পূর্বসূরিদের নীতিবিরুদ্ধ কাজ। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে এখন থেকে মাদ্রাসার পরিচালকরা সতর্ক থাকবেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নুরানি ও হেফজ বিভাগ খুলে দিতে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে শিগগিরই ভালো খবর পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়ার নেতারা।

আবেদনে বলা হয়, হেফজখানার ছাত্রদের পড়াশোনার দীর্ঘদিন বিরতি হলে পড়ার ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে না এবং ছাত্ররা পড়া ভুলে যায়। যদি মক্তব ও হেফজ বিভাগগুলো খুলে দিয়ে ছাত্রদের তিলাওয়াতের সুযোগ করে দেওয়া হয়, তা হলে তারা কোরআন ভুলে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com