রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

আকাবিরদের রমজান: মুফতী আজীমুদ্দীন

আকাবিরদের রমজান: মুফতী আজীমুদ্দীন

আকাবিরদের রমজান: মুফতী আজীমুদ্দীন

মহিমান্বিত রমজান। রমজান ইবাদতের মাস। কুরআন তেলোয়াতের মাস। রমজানে আল্লাহ ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মিলনমেলার মাস।
ইবাদত মাগফিরাত নাজাত আর রহমতের মাস রমজান। রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। এ মাসে কুরআনে পাকের সঙ্গে প্রতিটি মুমিনের সর্বাধিক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।
কুরআন বিশুদ্ধভাবে শেখা, কুরআনের তিলাওয়াত, তরজমা, তাফসির ও ‍কুরআন পাকের বিধান প্রতিষ্ঠা, দা’ওয়াত ইত্যাদির মাধ্যমে কুরআনি জীবন গঠনের দাবি ছিল অপরিহার্য।
অন্তত কুরআনে কারিম তিলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং আল্লাহ তাআ’লার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের এটাই সুবর্ণ সুযোগ।
আমরা আজকাল রমজানে ইবাদতের মধ্য দিয়ে কাটানোর থেকে ব্যস্ততায় লিপ্ত হয়ে যায়।
অথচ আমাদের আকাবিরদের জীবনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই তার রমজানে আল্লাহর রঙে রঙ্গীন হতেন এ মহিমাময় মাসে।
ইমাম আজম আবু হানিফা রহ.-এর কথা প্রসিদ্ধ আছে তিনি রমজান মাসে ৬১ খতম তিলাওয়াত করতেন।

আমাদের মুরব্বী হযরত শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. তারাবিতে শোয়া পারা শোনাতেন, সাহরি পর্যন্ত তরজমাসহ তা পড়তেন চার-পাঁচ বার। সে অংশটুকু তাহাজ্জুদের সময় শোনাতেন দু’বার। সাহারি খাওয়ার পর ফজরের নামাজের আগে এবং পরে ঘুমানোর আগে সে অংশটুকু একবার তিলাওয়াত করতেন।
সকাল দশটার দিকে ঘুম থেকে ওঠে শীতের দিনে চাশতের নামাজে একবার এবং গরমের দিনে দু’বার তিলাওয়াত করতেন। জোহরের নামাজের পনের মিনিট আগে দেখে দেখে দু’বার তিলাওয়াত করতেন। জোহরের নামাজের ফরজের আগে সুন্নতে দু’বার, পরের সুন্নতে একবার তিলাওয়াত করতেন। জোহরের নামাজের পর বন্ধুদের কাউকে একবার শোনাতেন।
আসরের নামাজের আগে দু’ বা একবার পড়তেন। আসরের পর বয়স্ক কাউকে একবার শোনাতেন। মাগরিবের নামাজের পর নফল নামাজে সে শোয়া পারা আরেক বার তিলাওয়াত করতেন।
প্রতিদিনের আমল ছিল এভাবে। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ত্রিশবারে ত্রিশ পারা তিলাওয়াতে জোর দিতেন। -শায়খ যাকারিয়্যা রহ. এ আত্মজীবনী হতে সংগৃহীত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

হজরত খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহ. বাদ মাগরিব নফলে শোয়া পারা তিলাওয়াত করতেন। আর তাহাজ্জুদে করতেন সাধারণত দু’ পারা। তারাবি তো আমৃত্যু তিনি নিজেই পড়াতেন।

কুতুবে আলম হজরত রশিদ আহমদ গাঙ্গোহী রহ. বাদ মাগরিব আওয়াবিনে দু’ পারা ও তাহাজ্জুদসহ দৈনিক অর্ধ খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

আল্লামা কাসিম নানুতুবী রহ. ১২৭৭ হিজরিতে মক্কা-মদিনা সফরকালে রমজান মাসে কুরআন পাক মুখস্ত করেছিলেন।
এরপর থেকে তিনি বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন। একবার তিনি এক রাকাতে সাতাশ পারা তিলাওয়াত করেছিলেন।
হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কি রহ. সারা রাত বিভিন্ন হাফেজদের থেকে পালাক্রমে নামাজে তিলাওয়াত শুনতেন।

হযরত শাহ আবদুর রহিম রায়পুরী রহ. হাফেজে কুরআন ছিলেন। প্রায় সারারাত কুরআন তিলাওয়াত করতেন। চব্বিশ ঘণ্টায় তিনি শুধু এক ঘণ্টা ঘুমাতেন।

শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি রহ. হাফেজ ডেকে নামাজে সারারাত কুরআন শরিফ শুনতেন। তারাবিতে কখনও ছয় পারা, কখনও দশ পারা পড়া হতো।

শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. বাদ আসর দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক হাফেজ-মাওলানা আবদুল জলিল রহ.-এর সেঙ্গ শোয়া পারা দাওর করতেন অর্থাৎ পরস্পর শোনাতেন।

হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া রহ. রমজান মাসে দৈনিক চল্লিশ পারা তিলাওয়াত করতেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com