শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

কর্মে যিনি অমর

বিংশ শতাব্দীর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ শায়খুল হাদীস। তিনি হলেন শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.। কুরআনের পর বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ ‘ফাজায়েলে আমাল’ রচনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন সকলের মাঝে। তিনি ছিলেন একাধারে বিদগ্ধ আলিম, মহান সংস্কারক, হৃদয়গ্রাহী পথ নির্দেশক, মুসান্নিফ ও মুহাদ্দিস। ইলমে হাদীসের সাথে তাঁর নিবিঢ় সম্পর্ক ও হাদীস শাস্ত্রে তাঁর মহান খেদমত এতো গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে যে, সারা পৃথিবীতে তিনি ‘শায়খুল হাদীস’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর এই উপাধি এতো পরিচিতি লাভ করে যে, অনেক স্থানে তাঁর নামের চেয়ে এই উপাধিটি অধিক প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেকে তাঁর নাম বললে চিনে না, কিন্তু শায়খুল হাদীস বললেই চিনে ফেলে।

জন্ম ও শিক্ষা
এই মহান ব্যক্তিত্ব ভারতের কান্ধালার অধিবাসী ছিলেন। হাদীস ও ইলমের জগতে তাঁর অনবদ্য কীর্তিসমূহ থেকে পুরো পৃথিবী উপকৃত হচ্ছে। তিনি মহান বুযুর্গ হযরত ইসমাঈল রহ.-এর নাতি এবং দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের প্রবর্তক হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ.-এর ভাতিজা। তাঁর সম্মানিত পিতার নাম হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া। ১৩১৫ হিজরীর ১১ই রমযানের রাত্রিতে কান্ধালায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকালের দশ বছর তিনি কান্ধালায় ছিলেন। অতঃপর তিনি গাঙ্গোহ শহরে গমন করেন। এখানে তাঁর পিতা হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া রহ. কুতুবে আলম হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গোহী রহ.-এর সাহচর্য্যে অবস্থান করতেন। এখান থেকেই তাঁর অভ্যন্তরে ইলমি যোগ্যতা ও চারিত্রিক উৎকর্ষতার বীজ অঙ্কুরিত হয়- যা পরবর্তীতে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। সাত বছর বয়সে তাঁর শিক্ষা শুরু হয়। স্বীয় পিতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমস্ত নিসাবী কিতাবের পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর হাদীসের ইলম অর্জনে তিনি আত্মনিয়োগ করেন।
তাঁর পিতা দুই রাকাত নামায আদায় করে তাঁর সামনে বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ ‘মিশকাত’-এর দরসের সূচনা করেন। এভাবে তাঁর হাদীসের ইলম অর্জনের সূচনা ঘটে। অতঃপর তিনি স্বীয় উসতাদ হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারণপুরী রহ.-এর কাছে হাদীসের ইলম অর্জন করেন। ওই সময়ই তিনি স্বীয় উসতাদের তত্ত্বাবধানে হাদীসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘বাযলুল মাজহুদ’ সংকলনের কাজে অংশগ্রহল করেন।

শিক্ষা পরবর্তী জীবন
শিক্ষা থেকে ফারেগ হওয়ার পর ১৩৩৫ হিজরীতে বিশ বছর বয়সে মাযাহিরল উলূম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। অল্প সময়েই যোগ্যতার বলে উচ্চ শ্রেণীর বিভিন্ন কিতাব পড়ানো শুরু করেন। এরপর নিজের প্রিয় হাদীস শাস্ত্রের কিতাব ‘মিশকাত’ পড়ান। অতঃপর ১৩৪৪ হিজরীতে তাঁকে তাঁর সম্মানিত উসতাদ হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারাণপুরী রহ. শায়খুল হাদীস পদে মনোনীত করেন। সাথে সাথে তাঁকে একই সাথে চার সিলসিলার মাধ্যমে বাই’আতের ইজাযত প্রদান করেন। তিনি নিজের হাদীসের খেদমতের বিবরণ এভাবে উল্লেখ করেন-
‘১৩২২ হিজরীর ৭ই মুহাররম যোহরের নামাযের পর আমার ‘মিশকাত’ কিতাবের দরস শুরু হয়। আমার পিতা তখন নামাযে ইমামতি করতেন। তিনি যোহরের নামাযের পর গোসল করে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করেন। এরপর তিনি কিবলার দিকে ফিরে ‘মিশকাত’ কিতাবের বিসমিল্লাহ ও খোতবা আমাকে দিয়ে পড়ান। অতঃপর কিবলার দিকে ফিরেই প্রায় পনেরো মিনিট পর্যন্ত অনেক দো’আ করেন। আমার জানা ছিলো না, তিনি কি দো’আ করেছিলেন। তবে আমি তাঁর সাথে থেকে শুধু একটা দো’আ বারবার করছিলাম- হে আল্লাহ! আমার হাদীস শিক্ষা অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে। আপনি আমাকে মৃত্যু পর্যন্ত হাদীসের সাথে সম্পৃক্ত রাখেন। আল্লাহ তা’আলা আমার অযোগ্যতা ও অকর্মণ্যতা সত্ত্বেও আমাকে এতো গ্রহণযোগ্যতা দান করেছিলেন যে, ১৩২২ হিজরী থেকে ১৩৯০ হিজরী পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলার অপার অনুগ্রহে এমন কোনোদিন অতিবাহিত হয়নি, যেদিন আমি হাদীসের সাথে জড়িত ছিলাম না।’ (আপ বীতীঃ পৃ-৯১-৯২)

লেখালেখি ও রচনা
হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর অনেক প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত রচনা রয়েছে। লেখালেখির কাজ তিনি ছাত্র যামানা থেকেই শুরু করেছিলেন। যার বিস্তারিত বিবরণ তিনি নিজে ‘আপ বীতী’ নামক স্বীয় জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম নিম্নরূপঃ

আরবী ভাষায় লিখিত কিতাব

বাযলুল মাজহুদ
১৩৩৪ হিজরীতে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. দ্বিতীয়বার হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারাণপুরী রহ.-এর কাছে হাদীসের ইলম অর্জন করেন। তাঁর কাছে হাদীস শিক্ষা শুরু হওয়ার দুই মাসের মাথায় হযরত মাওলানা সাহারাণপুরী রহ. একদিন তাঁর কাছে ‘সুনানে আবি দাউদ’ নামক হাদীসগ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগুলো সংকলন করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ওটাই পরবর্তীতে বৃহৎ আকারে মোট পাঁচ খন্ডে ‘বাযলুল মাজহুদ’ নামে পৃথিবীব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।
উক্ত গ্রন্থটি সংকলনের সময় হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারাণপুরী রহ. হাদীসের ব্যাখ্যা ও এর সূত্রগুলো দেখিয়ে দিতেন। আর হযরত শায়খুল হাদীস রহ. সেগুলো অধ্যয়ন করে এই সম্পর্কে আরো বিভিন্ন বিষয়বস্তু একত্রিত করে নিয়ে আসতেন। সেগুলো হযরত সাহারাণপুরী রহ. সম্পাদনা করে লিখাতেন। লেখা ও পান্ডুলিপি সংশোধনের কাজ হযরত শায়খুল হাদীস রহ. নিজে করতেন। এই সংকলন কর্মের ফলেই হযরত শায়খুল হাদীস রহ. লেখালেখি ও রচনাকর্মে দক্ষতা অর্জন করেন এবং লেখালেখিতে তিনি উৎসাহিত হন।
আওজাযুল মাসালিক
হযরত শায়খুল হাদীস রহ. পঁচিশ বছর বয়সে এই গ্রন্থ লিখা শুরু করেন। ১৩৪৫ হিজরীতে তিনি এর লেখার কাজ শুরু করেন। আল্লাহ তা’আলার ফযলে অল্প কয়েক মাসে এই গ্রন্থের লেখা এতোদূর এগিয়ে যায়- যা ভারতবর্ষের প্রতিষ্ঠাকালীন কয়েক বছরেও হওয়া সম্ভব ছিলো না। নামাযের অধ্যায় পর্যন্ত লেখার পর মদীনা মুনাওয়ারা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর ভারতে দীর্ঘদিন অবস্থান করে এই গ্রন্থ রচনার কাজ চালিয়ে যান।
আনুমানিক ত্রিশ বছর লাগাতার চেষ্টা ও পরিশ্রমের পর ১৩৭৫ হিজরীর ২৮শে জিলহজ্জ ছয় খন্ডে এর লেখার কাজ শেষ হয়। উক্ত গ্রন্থটি ‘মুয়াত্তা’ কিতাবের সর্বাধিক বিন্যস্ত ও বিস্তারিত পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ‘মুয়াত্তা’ কিতাবের অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখাকে অনাবশ্যক করে দেয়। আলিমগণের নিকট এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি খুবই সমাদৃত। হযরত শায়খুল হাদীস রহ.-এর প্রিয় শাগরেদ হযরত তাকীউদ্দীন নাদাবীর বিশ্লেষণ সহকারে এই গ্রন্থটি আঠারো খন্ডে ছাপিয়ে প্রকাশিত হয়।
লামিউদ দুরারি আলা জামিইল বুখারী
এই গ্রন্থটি মূলত হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ.-এর সহীহুল বুখারী সম্পর্কিত বিভিন্ন বাণী সংকলন। যা তাঁর খাদিম হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া কান্ধলবী রহ. সহীহুল বুখারীর দরস চলাকালীন লিপিবদ্ধ করেছেন। এই গ্রন্থে সহীহুল বুখারীর বিভিন্ন পরিভাষার ব্যাখ্যা এবং জটিল স্থান সমূহের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অতঃপর শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. স্বীয় পিতার এই দরসী নোটকে আরো বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও টিকার মাধ্যমে সংযোজন করে একে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থে রূপ দেন। ফলে এটা সহীহুল বুখারীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থে পরিণত হয়।
আল-আবওয়াবুত তারাজিম
এটা মূলত সহীহুল বুখারীর অধ্যায় এবং শিরোনামের বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এই গ্রন্থে হাদীসের সাথে অধ্যায় এবং শিরোনামের সমন্বয় সম্পর্কিত বিভিন্ন নিতীমালা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ইমাম বুখারী রহ.-এর শিরোনামকে প্রত্যেক যুগেই জটিল মনে করা হয়েছে। এসব শিরোনামের কেউ কেউ চৌদ্দটি আবার অনেকে পনেরোটি নীতিমালা বর্ণনা করেছেন। শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. এসব নীতিমালা এবং হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. ও হযরত শাহ ওলীউল্লা রহ.-এর পুস্তিকাকে সামনে রেখে এবং সহীহুল বুখারীর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখিত বিভিন্ন মতামত এবং হযরত গাঙ্গোহী রহ. কর্তৃক উল্লেখিত শিরোনামের বিভিন্ন বিশ্লেষণ ইত্যাদি সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করে মোট সতেরোটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন। এরপর এসব নীতিমালার আলোকে তিনি অধ্যায় এবং শিরোনামের মাঝে সমন্বয় করেন।
আল-কাউকাবুদ দুররী
এটাও হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ.-এর সুনানে তিমিযীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সম্বলিত গ্রন্থ। হযরত মাওলানা ইয়াহয়া রহ. দরস চলাকালীন আরবি ভাষায় তা সংকলন করেন। পরবর্তীতে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. আরো কিছু প্রয়োজনীয় টিকা সংযোজন করে বিভিন্ন ও দুর্বোধ্য বিষয়গুলোকে সহজ করে দেন। এছাড়া এই সম্পর্কে বিভিন্ন ইমামগণের মতানৈক্যকে কারণসহ উল্লেখ করেন। ফলে এটা সুনানে তিরমিযীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
জুযউ হাজ্জাতিল ওয়াদাই ওয়ার উমরাত
এটাও তাঁর আরবি সংকলন গ্রন্থ। যা তিনি ‘মিশকাত’ কিতাবের দরস চলাকালীন মাত্র একদিন এবং দুই রাতে লিখে শেষ করেন। এই গ্রন্থে তিনি বিদায় হজ্জ সম্পর্কিত সমস্ত বর্ণনা এবং আলোচনা একত্রিত করেন। এমনকি সফরের মানযিল নির্ধারণ, এর নাম সমূহ এবং বিদায় হজ্জের সফরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনাবলী বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেন।

উর্দূ রচনাবলী

ফাযায়েলে আমাল
এটা হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য কিতাব। এই গ্রন্থের ব্যাপক পরিচিতির কারণে এর পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা ফাযায়েলে তাবলীগ, ফাযায়েলে কুরআন, ফাযায়েলে নামায, ফাযায়েলে যিকির, ফাযায়েলে রমযান, ফাযায়েলে সাদাকাত, ফাযায়েলে হজ্জ, ফাযায়েলে দরুদ, হেকায়াতে সাহাবাহ এবং মুসলামানদের বর্তমান অধঃপতন এবং এর থেকে মুক্তির উপায় ইত্যাদি বিষয় সমূহের সমষ্টির নাম। পৃথিবীর প্রায় ৩২টি ভাষায় এই গ্রন্থটি অনূদিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থের প্রতিটি শব্দ ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতে পরিপূর্ণ। আল্লামা আবুল হাসান আলী নাদাবী রহ.-এর বক্তব্য অনুযায়ী এই গ্রন্থের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার অসংখ্য বান্দা বেলায়াতের স্তরে পৌঁছে গেছে।
আল-ইতিদাল ফী মারাতিবির রিজাল
এটাও হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর দাওয়াতী ও ইসলাহ মূলক রচনা। যার দ্বারা তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি, ভারসাম্যপূর্ণ মিযাজ এবং বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কে আঁচ করা যায়। এই গ্রন্থটি ‘ইসলামী রাজনীতি’ নামেও প্রসিদ্ধ। এর রচনার মূল প্রেক্ষাপট হলো, ১৩৫৬ হিজরী এবং ১৩৯৭ হিজরীর প্রথম দিকে কংগ্রেস ও লীগের পারস্পরিক মতানৈক এতোটা প্রকট হয়ে উঠেছিলো যে, উভয় পক্ষের বড় বড় বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গকে মারাত্মকভাবে কটাক্ষ করা শুরু হলো। অবস্থা এমন চরম আকার ধারণ করলো যে, একজন আরেক জনের পিছনে নামায পড়া ছেড়ে দিলো। তখন তিনি এক ছাত্রের চিঠির উত্তরে “ইসলামে রাজনৈতিক মতানৈক্যের অবস্থান” শিরোনামে বিস্তারিতভাবে এটা লিখেছিলেন।
আপ বীতী
উক্ত গ্রন্থের সাতটি অংশ দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এটা তাঁর নিজস্ব আত্মজীবনী গ্রন্থ। তিনি এই গ্রন্থে স্বীয় জীবনের বিভিন্ন দিক এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে, এতে তালিবুল ইলম থেকে শুরু করে ভক্ত ও শিষ্যবৃন্দ, আলিম, উসতাদ, তরীকতের মাশায়েখ এবং বুযুর্গানে দ্বীনের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কাহিনী ও অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। এটা অধ্যয়ন করার দ্বারা অন্তরে দরদ-ব্যথা সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয় অর্জিত হয়।
ফাযায়েলে নববী শরহে শামায়েলে তিরমিযী
‘শামায়েলে তিরিমিযী’ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বভাব-চরিত্র এবং গঠন-আকৃতি সম্পর্কে সর্বাধিক মূল্যবান ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. উর্দূ ভাষায় এর অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেন। সর্বসাধারণ ও আলিমগণ সবার জন্য এটা অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ।
আমরা তাঁর ইলমী যোগ্যতা তুলে ধরার লক্ষ্যে তাঁর রচিত বিখ্যাত কিছু গ্রন্থাবলীর পরিচয় উল্লেখ করেছি। অন্যথায় হযরত মাওলানা শাহেদ সাহেবের মত অনুযায়ী তাঁর রচিত গ্রন্থ মোট ১০৩ টি।

তন্মধ্যে এই পর্যন্ত ৪২টি ছাপিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। বাকী ৬১টি এখনো অপ্রকাশিত রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনীর তালিকা নিম্নরূপঃ
 ইলমে তাফসীর সম্পর্কে ২ টি।
 ইলমে হাদীস সম্পর্কে ৬০ টি।
 ইলমে ফিকাহ সম্পর্কে ৪ টি।
 ইতিহাস ও জীবনী সম্পর্কে ২২ টি।
 ইলমে কিরাআত সম্পর্কে ২ টি।
 ইলমে নাহু ও মানতিক সম্পর্কে ৩ টি।
 ইলমে সুলূক ও ইহসান সম্পর্কে ৩ টি।
 ইসলামের ওপর আরোপিত প্রশ্নের জওয়াব সম্পর্কে ৪ টি।
 অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে ৩ টি।

আরব-অনারব আলিমগণের দৃষ্টিতে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর ইলমী অবস্থান
তৎকালীন যামানায় হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর মহান ব্যক্তিত্ব, তাঁর ইলমের গভীরতা, হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অতুলনীয় খেদমত কি রকম সমাদৃত হয়েছিলো- তা সমকালীন যুগে আরববিশ্ব ও এশিয়া মহাদেশের অনেক মণীষীগণের অভিব্যক্তি থেকেই বুঝা যায়। নিম্নে আমরা তাঁর সম্পর্কে কয়েকজন বিখ্যাত মণীষীর মূল্যায়ন উল্লেখ করছি।

হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারাণপুরী রহ. (মৃত্যু-১৩৪৬ হিজরী)
হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর আলোচনা আসলেই সর্বপ্রথম যে বুযুর্গের কথা উল্লেখ করতে হয়, তিনি হলেন- ‘বাযলুল মাজহুদ’ গ্রন্থের লেখক হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহরাণপুরী রহ.। হযরত শায়খুল হাদীস রহ. তাঁর ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। হযরত সাহরাণপুরী রহ. তাঁকে বাই’আতের ইজাযত প্রদান করেন। তিনি তাঁর প্রিয় ছাত্র হযরত যাকারিয়া রহ.-এর প্রতি এতো আস্থাশীল ছিলেন যে, তিনি তাঁকে শায়খুল হাদীস পদে মনোনীত করেন এবং তিনিই তাঁকে শায়খুল হাদীস উপাধিতে ভুষিত করেন।
১৩৪১ হিজরীতে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.কে হযরত সাহরাণপুরী রহ. সহীহুল বুখারীর একটি অংশ পড়ানোর নির্দেশ দেন। হযরত যাকারিয়া রহ. এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি বললেন-
তোমার মতো নওজোয়ানকে আমি চিনি। অন্যরা তোমাকে কি চিনবে। যদি কেউ আপত্তি করে, তাহলে আমার প্রতি করবে, তোমাকে কেউ কিছু বলবে না। (হায়াতে খলীলঃ পৃ-৬০৬)

যরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. (মৃত্যু-১৩৬২ হিজরী)
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.কে খুবই মূল্যায়ন করতেন। অপরদিকে শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ.ও হযরত থানবী রহ.-এর প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি স্বীয় জীবনীগ্রন্থ ‘আপবীতী’-এর মধ্যে লিখেন-
একবার আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে হযরত হাকীমুল উম্মত থানবী রহ.-এর নিকট আরয করলাম- মানুষ অনেক দূর থেকে আপনার মজলিসে উপস্থিত হয়, কিন্তু আমি কাছে এসেও আপনার মজলিসে অংশগ্রহণ করতে পারি না। তখন হযরত থানবী রহ. এমন এক উত্তর দিলেন- যা মৃত্যু পর্যন্ত আমার আনন্দ বয়ে আনবে। তিনি বললেন- মৌলবী সাহেব! এ নিয়ে আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আপনি যদিও আমার মজলিসে উপস্থিত হন না, কিন্তু আমি নিজেই যোহর থেকে আসর পর্যন্ত আপনার মজলিসে উপস্থিত থাকি। আমি বারবার আপনাকে দেখি আর ঈর্ষান্বিত হই। কাজ তো এভাবেই হয়ে থাকে। যোহর থেকে আসর পর্যন্ত আপনাকে মাথা উঠাতে দেখি না। (আপবীতীঃ ১/৩৫৯)

শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমাদ মাদানী রহ. (মৃত্যু-১৩৭৭ হিজরী)
হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর সাথে শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর গভীর মুহাব্বত এবং আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো। হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. ‘আপবীতী’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘মুয়াত্তা’ কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আওজাযুল মাসালিক’ রচনা করার পর শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমাদ মাদানী রহ. তাঁর খুব প্রশংসা করেছিলেন। এই সম্পর্কে শায়খুল হাদীস রহ. নিজে লিখেন-
একবার আমি দেওবন্দে আসার পর হযরত মাদানী রহ. বললেন- তুমি ‘আওজায’ গ্রন্থে হজ্জের অধ্যায়ে এমন সুন্দর কথা লিখেছো- যা পড়ে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। ইমাম বুখারী রহ.-এর অনেক অভিযোগ তোমার লেখা দ্বারা খন্ডন হয়ে যায়। এই ঘটনা ওই সময়ের, যখনও ‘আওজায’ গ্রন্থ ছাপানো হয়নি। হযরত মাদানী রহ. এই গ্রন্থ খুবই আগ্রহ সহকারে অধ্যয়ন করতেন। একবার তিনি খুবই আফসোসের সাথে বললেন- আমার জীবদ্দশায় এটা প্রকাশ পেলে খুবই উপকৃত হতে পারতাম। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর ছাপানো হলে আমার কি ফায়দা হবে? (আপবীতীঃ ১/৪০৪)

হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. (মৃত্যু-১৩৬৩ হিজরী)
তিনি হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর চাচা ছিলেন। তিনি তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা এবং তরবিয়তের ক্ষেত্রে তাঁর পিতা হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া রহ.-এর সমান অংশীদার ছিলেন। হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর ব্যাপারে এতো আস্থাশীল ছিলেন যে, ফাযায়েলের কিতাব সমূহ তিনি তাঁর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানেই লিখেন। (শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়াঃ পৃ-২৫২)

হযরত মাওলানা মানাযিরে আহসান গীলানী রহ. (মৃত্যু-১৩৭৫ হিজরী)
হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর ‘আওজাযুল মাসালিক’ গ্রন্থ সম্পর্কে তিনি বলেন-
আমি হযরতের ‘আওজাযুল মাসালিক’ কিতাব সামান্য পড়েছিলাম, কিন্তু ‘মুয়াত্তা’ কিতাব পড়ানোর সময় এই কিতাবের পুরোপুরি অধ্যয়নের সুযোগ হয়। তখন অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার মনে হচ্ছিলো, তাকে মুবারকবাদ জানাই। একবার তিনি তাঁকে বলেন- আপনার এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে কোনো কোনো বিষয় এমন রয়েছে- যা অন্য কোথাও আমি পাইনি। বিশেষ করে ইমামের পিছনে কিরাআত পড়া সম্পর্কিত মাসআলায় আপনার কিছু ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন শহরের ইমামগণের মতামত সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে গিয়ে আপনার উঁচু দৃষ্টিভঙ্গি দেখে আনন্দিত হয়েছি।
এছাড়া সুনানে তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-কাওকাবুদ দুররী’ ছাপানোর পর হযরত মাওলানা মানাযিরে আহসান গিলানী রহ. এক সাক্ষাতে তাঁকে বলেছিলেন-
যদিও আজকে সরাসরি আপনার সাথে আমার সাক্ষাত হয়েছে, কিন্তু রুহানীভাবে প্রতিদিন এক ঘন্টা আপনার সাথে আমার সাক্ষাত হয়। ‘আল-কাওকাবুদ দুররী’ নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছাপানোর পর সুনানে তিরমিযী পড়ানোর জন্য আমি তা গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করি। তখন মনে হয়, আমি যেনো আপনার মজলিসেই আছি। (ফিহরিস্তে তালীফাতঃ ৩/২৭২)

শায়খুল আদব হযরত মাওলানা এ’যায আলী রহ. (মৃত্যু-১৩৭৪ হিজরী)
আরবী ভাষা ও সাহিত্যের প্রাণপুরুষ শায়খুল আদব হযরত মাওলানা এ’যায আলী রহ. ‘আল-কাওকাবুদ দুররী’ নামক গ্রন্থ অধ্যয়ন করার পর শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.কে এই কথা বলে চিঠি লিখে পাঠালেন-
‘আল-কাওকাবুদ দুররী’ নামক গ্রন্থের দুই খন্ড এই মাত্র আমার পড়া শেষ হলো। আমি এখন এই সংকটে পড়েছি যে, আপনার প্রশংসা করলে ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাবে। আর চুপ থাকলে অকৃতজ্ঞতা হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশি আর কি বলতে পারি যে, আপনি সুনানে তিরমিযী পড়ানোকে সহজ করে দিয়েছেন। (ফিহরিস্তে তালীফাতঃ ৩/২৭৯)

মাওলানা সাইয়্যেদ আহমাদ আকবার আবাদী রহ. (মৃত্যু-১৪০৫ হিজরী)
তিনি হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. সম্পর্কে বলেন-
হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. সমকালীন যুগের ইবনুল জাওযী এবং ইমাম গাযালী ছিলেন। বর্তমান যামানার আলিমগণের মধ্যে হযরত মাওলানা আব্দুল হাই ফিরাঙ্গী মুহাল্লী রহ. ছাড়া অন্য কাউকে আমি তাঁর সমপর্যায়ের দেখি না। (আল-ফুরকানঃ পৃ-৯৯)

হযরত মাওলানা ইউসূফ বিননুরি রহ. (মৃত্যু-১৩৯৭ হিজরী)
তিনি হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. কর্তৃক রচিত ‘জুযউ হাজ্জাতিল ওয়াদাই’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন। উক্ত ভূমিকার শেষে তিনি লিখেন-
বাস্তবতা হলো, পূর্বসুরীগণের মাঝে কিছু লোক অমর হয়ে থাকে। যারা পরবর্তী যামানার উত্তরসুরীগণের জন্য উত্তম নমুনা হয়ে থাকেন। তাঁরা ইলম ও ফিকাহর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা স্বীয় ইলম এবং বুযুর্গীর ক্ষেত্রে পুর্বসুরীগণের প্রতিচ্ছবি। তাঁদের মধ্যে ইলম ও আমলের পূর্ণতায় ঈর্ষণীয় এবং একক ব্যক্তিত্ব যদি কেউ থাকেন, তাহলে তিনি হলেন বিভিন্ন বিষয়ের গ্রন্থপ্রণেতা হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.।

শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ.
তিনি বর্তমান আরব বিশ্বের প্রসিদ্ধ আলিম ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি একটি চিঠিতে ‘আওজাযুল মাসালিক’ গ্রন্থ সম্পর্কে নিজের অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করেন-
‘মুয়াত্তা’ কিতাবের এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ. অন্তরকে খুলে দিয়েছেন। বিবেক-বুদ্ধি এবং দৃষ্টিকে তিনি আলোকিত করে দিয়েছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় উপকারিতা পৌঁছানোর লক্ষ্যেও তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। (ফিহরিস্তে তালীফাতঃ ১/৮২)

শায়খ আব্দুল্লাহ রহ.
তিনি মসজিদে নববীর ইমাম ছিলেন। হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর ‘আওজাযুল মাসালিক’ গ্রন্থ সম্পর্কে লিখেন-
এর ফুল এমন এক আলিমের অন্তর থেকে ফুটেছে- যিনি ইলমের সমুদ্র। এই কারণে তাঁর প্রত্যেকটি লাইনও যদি একটি কিতাবের সমানও হয়, তাহলে তা আশ্চর্য্যরে কিছুই হবে না। তিনি একটা সমুদ্র ছিলেন। ছোটো ছোটো নদীগুলোর মোহনা ছিলেন। মুহাদ্দিসগণের ছায়া ছিলেন। তিনি বাছাইকৃত মনি-মুক্তা ছিলেন। মহৎ কর্মের বাগিচা ছিলেন।
উপরোক্ত মণীষীগণের বক্তব্যের মাধ্যমে এতোক্ষণ হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর ইলমি যোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যথায় তাঁর জীবন এতো বর্ণাঢ্য ও কর্মবহুল যে, বিস্তারিতভাবে তা লিখতে গেলে বৃহৎ আকারের গ্রন্থ হয়ে যাবে।

ওফাত
দাওয়াত ও ইসলাহে সংস্কারমূলক ঈর্ষণীয় খেদমত আঞ্জাম দেওয়া ইলমের এই মণীষী যে নবীর কথা, কাজ-কর্ম ও জীবন চরিতের সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ করেছেন- সেই নবীর আবাস ভূমি মদীনা মুনাওয়ারায় মহান রবের ডাকে সাড়া দেন। ১৪০২ হিজরীর পহেলা শাবান মুতাবেক ১৯৮৯ সনের ২২শে মে সোমবারে বিকাল ৫টা ৪০মিনিটে তিনি ইনতিকাল করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। এশার নামাযের আগে বাবুস সালাম দিয়ে তাঁর জানাযা হারাম শরীফে নিয়ে যাওয়া হয়। এশার নামাযের পর মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ আব্দুল্লাহ যাহেম তাঁর জানাযায় ইমামতি করেন। এরপর বাবে জিবরীল দিয়ে তাঁর মরদেহ জান্নাতুল বাকীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই সময় হারাম শরীফের চত্বর এলাকায় প্রচন্ড ভীড় ছিলো। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী আহলে বাইতের বরাবর এবং হযরত খলীল আহমাদ সাহারাণপুরী রহ-এর কবরের নিকটে কবর খনন করা হয়। আশেপাশে অসংখ্য সাহাবায়ে কেরামের সাথে রহমাতুল লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছাকাছি জান্নাতুল বাকীর বরকতময় মাটিতে হাদীসের মহান এই খাদিম সমাহিত হন।

إنا لله وإنا إليه راجعون-
এর দ্বারা তাঁর সারা জীবনের ওই ইচ্ছা পূরণ হয়- যার জন্য তিনি দিনে-রাতে অস্থির চিত্তে সময় কাটাতেন।
جزاهم الله خير الجزاء- ونور الله مرقده إلي يوم القيامة

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com