সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

বিশ্বের শীর্ষ আলেমগন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর সম্পর্কে কি ভাবছেন?

বিশ্বের শীর্ষ আলেমগন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর সম্পর্কে কি ভাবছেন?

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | তাবলীগনিউজবিডি.কম। শায়খুল হাদীস, হাফেজ, মাওলানা সা’দ কান্ধালভি হাফিজাল্লাহু মজলিসে পৃথিবীর নানান দেশে যে পরিমান আলেম -উলামাগন অংশ গ্রহন করে থাকেন তা নজির বিহীন। পৃথিবীর চার মাজহাবের জমহুর আলেমগণ মাওলানা সাদ সাহেবের সাথেই আছেন। নিম্নে উপমহাদেশের শীর্ষ কয়েকজন আলেমের হযরতজীর সম্পর্কে যা বলছেন তার চুম্বকায়িত অংশ সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হল।

বিশ্বের শীর্ষ আলেমগন হযরতজীকে নিয়ে যা বলছেনঃ
____________________________________
* আল্লামা আবুল কাসেম নুমানী দামাত বারকাতুহুম, দেওবন্দের বর্তমান মুহতামিম। তিনি সবসময়ই সম্মান ও এহতেরামের মাধ্যমে তাজিমের সাথে হযরত জী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা এর নাম নিয়ে থাকেন। গত ২০১৭ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের উপর বিরক্ত হয়ে বলেন আপনারা আপনাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমাদের জড়ান কেন? সাদ সাহেবের ব্যাপারে তিনি দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত সতর্কবাণীর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। ঐ প্রতিনিধি দল দেওবন্দ মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে সন্তুষ্ট কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন সাদ সাহেব দা.বা. কোন এক মজমাতে এলানী রুজু করলেই তাঁরা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট। এর প্রেক্ষিতে মাওলানা সাদ সাহেব নিজামুদ্দিনে ভরা মজলিসে দেওবন্দের আপত্তির উপরে এলানী রুজু করেন। এবং যেই আট বিষয়ে দেওবন্দ আপত্তি করে সতর্ক করেছিলেন সেই আট বিষয়ে সাদ সাহেব এরপর কখনোই কথা বলেন নি।

পরবর্তীতে সাদ সাহেব যখন বাংলাদেশে চলে আসেন তখন স্থানীয় আলেমগণ ব্যাপক আন্দোলন করেন। এর প্রেক্ষিতে কাকরাইল থেকে আল্লামা নুমানী দামাত বারকাতুহুম এর কাছে ফোন করা হলে তিনি জানান এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। আল্লামা কাসেম নুমানী হাফিজহুমুল্লাহ বরাবরই চলমান ফিৎনাকে তাবলীগ ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে আসছেন। তিনি সাদ সাহেব বা নিজামুদ্দিনের বিপক্ষে কোন বক্তব্য দেননি। বরং তিনি তাবলীগের বিবাদমান সকল পক্ষের জন্য দুআ করেছেন।

* আল্লামা হাবীবুর রহমান খায়রাবাদী দামাত বারকাতুহুম, মুফতিয়ে আযম দেওবন্দ।
তিনি গত রমজানের আগে এক মাদরাসার খতমে বুখারী অনুষ্ঠানে সাদ সাহেবের ব্যাপারে বলেছেন তাঁর কয়েকটা কথায় আম্বিয়াদের শানে বেয়াদবী ‘প্রকাশ’ পেয়েছে। এখানে কথাটি লক্ষ করার মত। একটা হল, বেয়াদব। আরেকটা হল বেয়াদব নয় তবে ক্ষণিকের তরে বেয়াদবি করে ফেলেছে। আরেকটা হল বেয়াদবি ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি, তবে হয়ে গেছে। আরেকটা হল বেয়াদবি হয়নি ‘প্রকাশ’ পেয়েছে। সব কটিই ভিন্ন জিনিস। প্রকাশ পাওয়া সর্বনিম্ন পর্যায়ে। যেমন ফিসক, হারাম, মাকরূহ, অপছন্দনীয়। চারটা ভিন্ন ভিন্ন জিনিস। এই পার্থক্য গুলো দেওবন্দ বুঝে বলেই ভারতে কোথাও তাঁরা কোন বাঁধা দেননি।

দেওবন্দ তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া দেননি বরং সতর্ক করেছেন। আল্লামা খায়রাবাদী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন এটা কোন ‘ফতোয়া’ ছিল না বরং সতর্কতামূলক নির্দেশনা ছিল। তিনি এ সময় অত্যন্ত সম্মানের সাথে সাদ সাহেবের নাম উচ্চারণ করেন এবং শেষে দুআ মূলক দামাত বারকাতুহু বলেন। যে ব্যাপারে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট করা হয়েছে।

* বাহারুল উলুম আল্লামা নিমাতুল্লাহ আযমী দামাত বারকাতুহুম, সিনিয়র মুহাদ্দিস দেওবন্দ। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত কালে তিনি প্রথম অজাহাত নামা প্রসঙ্গে বলেন দেওবন্দ তো বলেছেন রুজু কবুল করে নিয়েছে। অজাহাত নামার পরবর্তী বক্তব্যগুলোকে তিনি ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এবং বাংলাদেশের আলেমদের কর্মকান্ডে বিষ্ময় প্রকাশ করেন এবং ভর্ৎসনা করেন। উল্লেখ এই অজাহাত নামাতে মাত্র তিন জনের স্বাক্ষর ছিল। ইফতা বোর্ডের কারো স্বাক্ষর ছিল না।

*হজরত মাওলানা তালহা কান্দলভি (দাঃবাঃ):

হিন্দুস্তানের সমস্ত আকাবিরদের মাঝে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় বুজুর্গ হিসাবে যিনি খ্যাত, সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীরে কামেল, এককথায় বর্তমান সময়ে আকাবিরগনের মাথার তাজ যাকে বলা চলে, শায়খুল হাদীস জাকারিয়া কান্ধালভি রহ এর একমাত্র ছাহেবজাদা ও খলিফা ওলীয়ে কামেল, হজরত মাওলানা তালহা কান্দলভি (দাঃবাঃ)।

হযরতের আহলিয়া নাজমা খাতুন রহ.ইন্তেকাল করেছেন। যার অনেক গুনাবলীর কথা শায়খুল হাদীস রহ এর আত্মজীবনী ‘আপবাতি’র মধ্যে পাওয়া যায়। যিনি হযরত ইফতেখারুল হাসান রহ ( সাদ সাহেব দা.বা. এর নানা ইজহারুল হাসান রহ এর ভাই ) এর মেয়ে। জানাযায় কান্ধালার সমস্ত আকাবির উলামা হযরতগন শরিক ছিলেন। দারুল উলুম দেওবন্দ, দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দ, মাজাহের উলুম সাহরানপুরের ছাত্র শিক্ষকগন এই জানাযাতে শরিক হয়েছেন। এককথায় ভারতের দলমত নির্বিশেষে উলামায়ে কেরাম ও আকাবির হযরাতদের বড় একটি মিলনমেলা ছিল এই জানাজার নামাজে।

হযরত তালহা হাফিজাল্লাহুর আহলিয়ার এই মোবারক জানাজার নামাজ হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভি দা.বা. পড়িয়েছেন। নামাজার আগে দীর্ঘ সময় কথাও বলেছেন। নিজের বুজুর্গ স্বামী, আলেম জামাতা, আলেম হাফেজ সন্তান ও কুল হিন্দের বড়বড় আকাবির, কান্দালার খান্দানের বড়বড় মাশায়েখেদের রেখে দিল্লি থেকে তাকে নিয়ে কেন বরকত হিসাবে জানাজার নামাজ পড়ানো হল। যিনি বাংলাদেশের কিছু আলেমদের কাছে গোমরা, পথভ্রষ্ট! যাকে এসব প্রমান করতে সিরিজের পর সিরিজ বাংলা কিতাব লিখে এউম্মতকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন কিছু ভাই!

জানাজার নামাজ মূলত উপস্তিত বুজুর্গদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানীত ও শ্রদ্ধেয় দেখেই পড়ানো হয়। তার মায়ের চাচাত্ব বোন হিসাবে তিনি ততোটা হকদ্বারও ছিলেন না। যে কেউ বলতে পারতেন, এত বড় বড় আকাবির তাকতে তিনি না পড়ানো ভাল, কারন তাকে নিয়ে বর্তমানে এখতেলাফ আছে, অন্যকেউ পড়াতে পারেন। না, কৈই। এসবতো কেউ বলেন নি। বরং বুজুর্গ আওলাদ ফরজন রেখে কান্ধালারর মাশায়েখগন তাকে বরকত হিসাবে টেলে দিলেন। কান্ধালা ও ঝানঝনার দুই পরিবার সম্পর্কে যাদের নুন্যতম ধারনা নেই, তাদের কাছে বিষয়টি স্বাবাভিক মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের কাছে বর্তমান সময়ে এই ছোট্ট ঘটনা অনেক গুরুত্ব বহন করে।

এতে প্রমানিত কান্ধালার সকল আকাবির হযরতজীর এতেয়াতের উপরেই আছেন। নয়তোবা একজন পথভ্রষ্ট( কারো কারো বিভ্রান্তুর চোঁখে) লোকের পেছনে ভারতের সেরেতাজ উলামায়ে কেরাম কিভাবে জানাজার নামাজ পড়লেন । কিভাবে তালহা সাহের মতো মহান বুজুর্গ ও তার পরিবার স্ত্রীর জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য বরকত হিসাবে মাওলানা সাদ কান্ধালভিকে অনুরোধ করলেন।

*আল্লামা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভীঃ
মুয়াররিখুলহিন্দ খ্যাত, ভারতবর্ষের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, উলুমে হাদীস ও ফিক্বহে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী আল্লামা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী (দাঃবাঃ) ছিলেন, মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা এর দেওবন্দে প্রেরিত সকল রুজুনামার বার্তাবাহক।

আল্লামা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী (দাঃবাঃ) যার সম্পর্কে স্বয়ং মুফতী তাক্বী উসমানী সাহেব হাফিযাহুল্লাহ তাঁর পান্ডিত্ব ও মাকতাবা দেখে নিজ সফর নামায় লিখেছিলেন “হিন্দুস্তান সফরে উনার মাকতাবার মত সবধরণের কিতাবের দ্বারা সমৃদ্ধশীল এমন মাকতাবা আমি আর কোথাও দেখি নাই” ৷
আর বাংলাদেশের অন্যতম মুফতী মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ) হিন্দুস্তান সফরে শুধু তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য ৮৫ কিলোমিটারের দীর্ঘপথ সফর করে তাঁর কাছে যান এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ইলমী আলোচনা করে ফিরে বলেন, “কেউ যদি নিজ ইলমকে পরিপক্ক মনে করে তাহলে সে যেন মাওলানা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী সাহেব (দাঃবাঃ) এর সামনে ৫ মিনিট বসে নিজ জ্ঞানকে যাচাই করে তাহলে ৫ মিনিট পরেই নিজেই নিজেকে বুঝতে পারবে যে, সে কত বড় মূর্খ এবং সাথে সাথে তার আত্ম-অহমিকার চিকিৎসাও হয়ে যাবে”৷

*আল্লামা রাবে হাসান নদভী মুহতামিম নদওয়াতুল উলামা ভারতঃ

ভারতের শীর্ষ আলেমদ্বীন আল্লামা রাবে হাসান নদভী তাবলীগের চলমান সংকট নিয়ে তার এক দীর্ঘ বয়ানের একস্থানে বলেন, মাওলানা সাদ (হাফিজাহুল্লাহ) তাবলিগের মেহনতকে নিজের জীবনের মকসুদ বানিয়ে নিয়েছেন। তিনি তাঁর চিন্তা এবং কর্মকে আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের জন্য, দ্বীনের ইজ্জতের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন। যারা তাবলিগকে নিজেদের রুটি-রুজি এবং সম্মানের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছিলেন মাওলানা সাদ ওদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি যখন এগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিলেন, কিছুটা সংস্কার করতে চাইলেন, তখন একটি গ্রুপ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে দিল। ওরা অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের কিছু উলামাকে বিভ্রান্তও করে ফেলেছে। এ কারণে তারা তাহকিক ছাড়াই বক্তব্য দিতে শুরু করলেন। ফলে আজ উম্মতের মধ্যে এক আশ্চর্যজনক সংঘাত শুরু হয়ে গেছে।

* সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী দামাত বারকাতুহুম এক মজলিসে সাদ সাহেবের ব্যাপারে বলেন যে আপনিই আমীর। এছাড়া সাইয়্যেদ মাদানী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মজলিসে খুবই সম্মানের সাথে সাদ সাহেবের নাম উচ্চারণ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে সতর্ক করেন যে এর দ্বারা উম্মতের কোন ফায়দা হবে না, বরং ক্ষতিই বৃদ্ধি পাবে।

* আল্লামা ইউসুফ মুত্বলা দামাত বারকাতুহুম, দেওবন্দের অন্যতম প্রবীণ মুহাদ্দিস। সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় নিজামুদ্দিনের বিরোধীতাকারীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন। তিনি মাওলানা সাদ সাহেবের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে নিয়মিত বয়ান করছেন।

* মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দামাত বারকাতুহুম।

তিনি ভারতে দাঈ-এ-আকবর, দাঈ-এ-আযম নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় তাঁর হাতে কমপক্ষে দশ হাজার কাফের মুসলমান হয়েছে। এদের মধ্যে বাবরী মসজিদ শহীদকারী সহ অসংখ্য কট্টর হিন্দুত্ববাদী লোকও রয়েছে। তিনি নদভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির খলিফা। তিনি ২০১৮ সালের ইজতেমার সময় মাওলানা সাদ সাহেবের প্রতি বাংলাদেশের কিছু আলেমদের আচরণে খুবই দুঃখিত হন। এবং তাদের এই আচরণকে দ্বীনি খেদমত হিসাবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন। এসময় তিনি সাদ সাহেবকে আল্লাহওয়ালা হিসাবে আখ্যায়িত করেন।মাওলানা কালিম সিদ্দিকী (দা.বা.) বলেন, এদেশে কি একজন আলেমও ছিলেন না! যিনি বলবেন, এই তোমরা থাম, এভাবে গালিগালাজ করো না, সে তোমাদের ভাই। রুজু করার পরেও এভাবে কথা বলা দ্বীন নয়। এটা সমালোচনার প্রদ্ধতি নয়। এরকম কথা বলা সুন্নাহ ও শরিয়তের খেলাপ। তোমরা তোমাদের ভাইর বিরোধীতা করার ক্ষেত্রে ইনসাফ কর। কথা বলতে আল্লাহকে ভয় কর। এভাবে কথা বলা ইসলাহের ত্বরিকা নয়।

তোমরা কাকে ইহুদীদের দালাল , বাতিলের গুপ্তচর বলছ? কুলাঙ্গার আর বদমায়েশ বলছ! তিনি তো আমাদেরই সন্তান। আমাদেরই ভাই। হযরতজি ইলিয়াস রহ প্রপৌত্র, মাওলানা ইউসুফ কান্ধালভীর নাতি, শায়খুল হাদিস রহ মেয়ের ঘরের নাতি। হযরতজিএনামুল হাসান রহ ভাগনে। আলী মিয়া নদভী রহ খলিফা। শাহরানপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সালমান সাহেবের জামাতা। যাদের দ্বারা আল্লাহ গোটা দুনিয়াতে দ্বীনের মকবুল কাজ নিয়েছেন।সর্বোপরি হযরত আবুবককর সিদ্দিক রা এর রক্তের মুবাল্লিগ আলেম তিনি।

* আল্লামা ইউসুফ তাওলি দামাত বারকাতুহুম। তিনি শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির একজন প্রবীন খলিফা। সম্প্রতি এক দরসে তিনি মাওলানা সাদ সাহেবের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির একটি চিঠির উল্লেখ করেন। তিনি নিজেই ঐ চিঠির কাতেব ছিলেন বলে দাবি করেছেন। ঐ চিঠিতে তিনি তিনি সাদ সাহেবের মাতামহ মাওলানা ইজহারুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে মাওলানা সাদ সাহেবকে নিবিড় ভাবে তরবীয়তের নির্দেশ দেন যাতে কিনা সাদ সাহেব পরবর্তী আমীর হিসেবে যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন। তিনি নিয়মিত হযরতজীর পক্ষে কথা বলছেন।

* আল্লামা মাওলানা ড. তক্বী উদ্দীন নদভী। তিনি কয়েক যুগ যাবৎ আবুধাবিতে এক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীসের অধ্যাপক। শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির একজন অন্যতম খলীফা। মাওলানা আহমদ লাট সাহেবের উস্তাদ। তিনি সম্প্রতি এক মজলিসে বর্তমান ফিৎনা নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। হতাশায় তিনি হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেব ‘জাহেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এবং মাওলানা আহমদ লাট সাহেবকে নিজামুদ্দিনে ফিরে যাবার উপদেশ দিয়ে বলেছেন আর কখনো নিজামুদ্দিন ত্যাগ না করতে। পরবর্তীতে তিনি মাওলানা এহসান সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর আপত্তির প্রেক্ষিতে হাজী সাহেবের ব্যাপারে তাঁর পূর্বের বক্তব্যের রুজু করেন। এসময় তিনি আহমাদ লাট সাহেবের ব্যাপারে স্নেহ প্রকাশ করেছেন কিন্তু আগের কথা রুজু করেননি। শুধুমাত্র হাজী সাহেবের ব্যাপারে রুজু করেছেন।

*মুফতী যার আলী খান দামাত বারকাতুহুম

তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ আলেম ও ফকীহ হিসাবে পরিচিত। তিনি আল মী শু রা অবৈধতা ও ইমারত নিয়ে বারবার কথা বলেছেন। ইমারত ছাড়া শুরাই নেজাম যে হারাম এটি বারবার কুরআন হাদীসের দলীল দিয়ে মিডিয়ার সামনে পেশ করছেন। মাওলানা সাদ সাহেবের ইমারত নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন,আমি উলামাদের কাছে দরখাস্ত করছি তাবলিগের কাজকে সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাওলানা সাদ হাফিজল্লাহকে সবার সহযোগিতা করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন সময় বিভিন্নরূপে এখানে মোদির ফেতনা আস ছে, মোসাদ, সিআই এবং ‘র’-এর ফেতনা আসছে। আমাদেরকে তা খতম করতে হবে। এই ফেতনাগুলো ইসলামের ক্ষতি করছে, দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি করছে। আমাদের খুঁজে বের করতে, আকাবিরদেরকে কোন পথে, কীভাবে মিথ্যা দিয়ে পথভ্রষ্ট করা হচ্ছে, এবং কারা পথভ্রষ্ট করছে। আমাদেরকে এই বিভ্রান্তির পথ বন্ধ করতে হবে।
আমি মাওলানা আরশাদ মাদানি হাফিজাল্লাহ, মাওলানা আবুল কাসেন নোমানী হাফিজাল্লাহ এর কাছে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের ওই উলামাদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেনো তাদের চিন্তার পরিবর্তন করে দ্বীনি কাজকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন। দরখাস্ত করছি, আপনারা আপনাদের চিন্তা মধ্যে পরিবর্তন আনুন, দ্বীনি ফিকিরকে গুরুত্ব দিন।

* শেইখ আব্দুল ওয়াহিদ মালিক মাদানী দামাত বারকাতুহুম। তিনি আব্দুল হাফিজ মাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ভাই ও খলীফা। তিনি সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় মাওলানা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে লেখা এক কিতাবের লেখকের প্রতি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশে তিনি একটি চিঠি ইস্যু করেন।

* সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী দামাত বারকাতুহুম। তিনি মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহির ঘনিষ্ঠ সুহৃদ সাইয়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর রহমাতুল্লাহি আলাইহির পৌত্র। সাইয়্যিদ আসআদ মাদানীর রহমাতুল্লাহি আলাইহির পুত্র। তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে তাবলীগের সংকটকে পুরাপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

* দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত প্রথম সতর্কবাণীতে স্বাক্ষরকারী মুফতী আসাদুল্লাহ সাহেব দামাত বারকাতুহুম বর্তমানে (জুন ২০১৮) ১২ জন আলেমের এক জামাত নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। উল্লেখ দেওবন্দের সতর্কতা নির্দেশনা ভুল ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি দেওবন্দ থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়ে এই মহান মেহনতকে ফিৎনা থেকে হেফাজতের নিয়তে দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন।

* শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির সিলসিলার আরেক বুযুর্গ লাল দীন থানভী দামাত বারকাতুহুম, তিনি অবশ্য সরাসরি খলীফা নন। তিনি থানভী সিলসিলারও সুহাবত প্রাপ্ত। তিনি তাবলীগের মধ্যে কোন গ্রূপিংএর অস্তিত্ব স্বীকার করতেই রাজি হননি। যারা নিজামুদ্দিনের বিরোধিতা করছে তিনি তাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

* মাওলানা ইফতেখারুল হাসান সাহেব দামাত বারকাতুহুম। তিনি রায়পুরী সিলসিলার একজন বুযুর্গ। তিনি তলহা বিন যাকারিয়া দামাত বারকাতুহুম এর শ্বশুর। মাওলানা ইজহারুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহির ভাই। তিনি মাওলানা সাদ সাহেবের ইসলাহী শায়েখ। তিনি আলমী শূরার ফিৎনা শুরু হবার পর থেকেই মাওলানা সাদ সাহেবকে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মাওলানা সাদ সাহেব কারো সাথে ইসলাহী সম্পর্কে কায়েম করেন নি, এমন একটা মিথ্যা কথা ছড়িয়ে পড়লে তিনি তাঁর দস্তখতসহ তাঁর খলিফাদের তালিকা পুনঃপ্রকাশ করেন। এই তালিকায় মাওলানা সাদ সাহেব দামাত বারকাতুহুম এর নাম সাত নম্বরে রয়েছে।

* মাওলানা সালমান সাহেব দামাত বারকাতুহুম। তিনি শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির জামাতা, খলিফা এবং তাঁরই প্রতিষ্ঠিত মাজাহেরুল উলুমের বর্তমান মুহতামিম। তিনি মাওলানা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে অব্যাহত মিথ্যা প্রোপাগান্ডার বিপরীতে কলম ধরেন। পরবর্তীতে তাঁর বইয়ের উত্তর লেখা হলে তিনি প্রত্যুত্তর লিখতে উদ্যত হন। কিন্তু মাওলানা সাদ সাহেব এই বলে নিষেধ করেন যে এভাবে উত্তর, পাল্টা উত্তরে উম্মতের মধ্যে ফাটল বৃদ্ধি পাবে। উম্মতের স্বার্থে মাওলানা সাদ সাহেব নিজেকে কুরবানী দিয়ে দেওবন্দের শর্ত মেনে, দেওবন্দের আপত্তিকৃত বিষয় গুলোর উপরে নিঃশর্ত রুজু করেন। এবং রুজুকৃত বিষয়ে তিনি কখনোই আর কথা বলেন নি।

* এছাড়া শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির সিলসিলার অনেক বুযুর্গ, সাহারানপুরী মাদ্রাসার সিংহভাগ উস্তাদগণ মাওলানা সাদ সাহেব এবং নিজামুদ্দিনের উপর সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

* আল্লামা সুফিয়ান কাসেমী দামাত বারকাতুহুম। মুহতামিম, দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ)। দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা কাসেম নানুতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহির বংশের পঞ্চম পুরুষ। তিনি সাদ সাহেবকে দিয়ে দারুল উলুমের মসজিদ উদ্বোধন করান এবং দুআ করান।

* মাওলানা খিজির ইবেন আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি, মাওলানা সাজ্জাদ বিন মনজুর নোমানী। দামাত বারকাতুহুম। তাঁরা উভয়ে মুহাদ্দিস দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ)। তাঁরা সুযোগ মত বিভিন্ন ইজতেমায় সাদ সাহেবের সাথে অংশগ্রহণ করে থাকেন। আওরঙ্গবাদ ইজতেমায় তাঁরা ছিলেন।

* সম্পূর্ণ দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ) সাদ সাহেবের পাশে আছেন। সম্প্রতি তাঁরা সাদ সাহেবের ইমারতের পক্ষে ফতোয়া ইস্যু করেন।

* নদওয়াতুল উলামারও অনেক উস্তাদ সরাসরি মাওলানা সাদ সাহেবের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

* ইউরোপের ইলমে মাদারী নামে খ্যাত ম্যানচেস্টার মাদ্রাসা পুরাপুরি মাওলানা সাদ এবং নিজামুদ্দিনের উপর সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

* ইউরোপে হানাফীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং দক্ষ আলেম মুফতি মেহবুব সাহেব দামাত বারকাতুহুম সাদ সাহেবের বিরোধীদের ওপেন চ্যালেঞ্জ করেছেন।

* এছাড়া পাকিস্তানের বিন নুর টাউন মাদরাসা, জামেয়া ফারুকী জয়ার মতো বড়বড় মাদীাসা , দক্ষিণ আফ্রিকার দারুল উলুম জাকারিয়ার মতো বৃহৎ মাদরাসাসহ সেখানেও অনেক মাদ্রাসা মাওলানা সাদ সাহেবের উপর পুরাপুরি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com