রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ থেকে মাহমূদ মাদানীর পদত্যাগ।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ থেকে মাহমূদ মাদানীর পদত্যাগ।

নিজস্ব রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম। আজ আকষ্মিকভাবে ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ থেকে পদত্যাগ করেছেন (একাংশের) চেয়ারম্যান সাইয়েদ মাহমূদ মাদানী। প্রাথমিকভাবে পদত্যাগের কোন কারণ জানা যায় নি। তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম সাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ জমিয়তকর্মী নেতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কয়েকজন জমিয়তকর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংবাদটি শোনার সাথে সাথে তারা খোঁজ-খবর নিয়ে সত্যতার ব্যপারে নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত, সে ব্যপারে এখনো কোন কিছু স্পষ্ট নয়। প্রকৃত ঘটনাটি উদঘাটন করতে তারা উপর মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ভারতবর্ষে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের পরে ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’কে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী সংগঠন বিবেচনা করা হয়। প্রথমদিকে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় ক্ষেত্রে সার্বজনীন অবদান রাখলেও বেশিদিন ‘ঐক্য’ ধরে রাখতে পারে নি ‘জমিয়ত’। ‘অদৃশ্য কোন ইশারা’য় ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি দু’টুকরো হয়ে যায়। একভাগের হাল ধরেন চাচা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী। অপরভাগের দাঁড় টানেন ভাতিজা সাইয়েদ মাহমূদ মাদানী। চাচা-ভাতিজার এই বিভাজনে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ভারতের মুসলিম সমাজ।

মাহমূদ মাদানীর পদত্যাগের ঘটনায় ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরণের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মাহমূদ মাদানীর ভক্তরা পদত্যাগের পিছনে চাচার হঠকারিতাকেই দায়ী করছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কোন কোন নেতাকর্মীকে উত্তেজিত হয়ে মন্তব্য করতেও দেখা গেছে। আবুল খায়ের নামে একজন বলছিলেনঃ বয়সে সাইয়েদ আরশাদ মাদানী বড় হলেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন সাইয়েদ মাহমূদ মাদানী। একই পরিবারের দু’জনের দু’মেরুতে টানাটানির ফলে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছিলো। হয়তো একজনের সরে পড়ায় কিছুটা স্বাভাবিকতা ফেরত আসতে পারে। আবার উল্টোটাও হতে পারে।

জমিয়তভক্ত এক মুবাল্লিগ বলেনঃ শুধু জমিয়তকে কেন্দ্র করেই নয়। পারষ্পরিক দূরত্বের কারণে যেকোন বিষয়েই দু’জন দু’ভাগে চলে যেতেন। বর্তমানে দাওয়াত ও তাবলীগের চলমান সঙ্কটের গোঁড়ায় আরশাদ মাদানী থাকায় নিযামুদ্দীনের সমর্থন দিয়ে আসছিলেন মাহমূদ মাদানী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেনঃ মাহমূদ মাদানী বারবার ঐক্যের জন্য চেষ্টা করলেও চাচা আরশাদ মাদানীর অবহেলা ও অনিচ্ছার কারণে তিনি বারবার ব্যর্থ হোন। না বলে পারছি না, মাওলানা আরশাদ মাদানীর রক্তের মাঝে বিভাজনের বিষ মিশে আছে। দেওবন্দ দু’টুকরো হওয়া, জমিয়ত দু’টুকরো হওয়া, তাবলীগ দু’টুকরো হওয়া ইত্যাদি সবগুলোর পিছনে সন্তোর্পণে এই আরশাদ মাদানীই কাজ করে যাচ্ছে। একা নয়। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়েই। তবুও তার সংশ্লিষ্টতা সবচে’ বেশি। এতকিছু করার পরও তিনি আবার সবার কাছে সাধু হয়ে থাকতে চান। যদি কেউ ফোন করে তাবলীগের চলমান সঙ্কট নিয়ে কিছু জানতে চায় তাহলে তিনি কৌশলে ফোনকারীর অবস্থান আঁচ করে তাল মিলিয়ে কথা বলতে থাকেন। মাওলানা সা’দের অনুসারীরা ফোন দিলে তিনি বলেন, “দেওবন্দের মামলা খতম হয়ে গেছে। সা’দ সাহেবের আমীরী নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তিনিই আমীর।” আবার শূরাওয়ালাদের কেউ ফোন করলে বলেন, “মাওলানা সা’দই ফেতনা লাগিয়ে রেখেছেন। তিনি চাইলে এক মিনিটেই সব সমাধান করে দিতে পারেন। আমীরী ছেড়ে শূরা মেনে নিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” মুখে মুখে মিষ্টি কথা বললেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের কাছে মিথ্যা বলেছেন। দু’মাস আগে বাংলাদেশে বসে কারী জুবায়েরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদল দেওবন্দ গেলে তারা কোন লিখিত পত্র দিবে না। আরো একটা কথা না বলে পারছি না। সা’দ সাহেবের রুজুনামা দেওবন্দে পৌঁছলে সর্বসম্মতিক্রমে দেওবন্দ রুজু কবুল করে সেটার ‘লিখিত’ নিযামুদ্দীনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। পত্রবাহক দেওবন্দের ‘রুজু গ্রহণপত্র’ নিয়ে নিযামুদ্দীন মারকাযের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে মাঝপথ থেকে এই আরশাদ মাদানীই ফোন করে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কারণ জানতে চাইলে আরশাদ মাদানীর জবাব ছিলো, “আমাকে একজন ফোন করে বলেছে, যেসব কথা থেকে সা’দ সাহেব রুজু করেছেন সেই কথাগুলোই আজ বয়ানে তিনি আবার বলেছেন। তাই তার রুজু অগ্রহণযোগ্য।” আজো পর্যন্ত জানা যায় নি, কে ফোন করে এগুলো বলেছিলো। তার মোবাইল নাম্বার কত? কোন কোন কথা রুজু করার পরও সা’দ সাহেব সেদিনের বয়ানে বলেছিলেন। আসল কথা হলো, এই সবই আরশাদ মাদানীর চক্কর। গোল পাগড়ীর নিচে কতকিছু খেলা করে সেটা আমরা জানি না। পক্ষান্তরে মাহমূদ মাদানী সম্পূর্ণ বিপরীত। চাচার মত ‘ক্লিকবাজি’ জানেন না। সহজ সরল হাসিখুশি দ্বীনদার মানুষ। তিনি ঐক্য চান। সর্বপ্রকার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই হয়তো ‘ঐক্য’ ফিরিয়ে আনতে তিনি আজ পদত্যাগ করেছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com