শুক্রবার, ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

আবারো দেওবন্দে তাবলীগ নিয়ে এলান

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, দেওবন্দ থেকে । আজ ১৭ই জানুয়ারী ২০১৯ ইং মুতাবিক ১০ জুমাদাল ঊলা ১৪৪০ হিজরী তারিখে দ্বিতীয় বারের মত মাদরাসার চৌহদ্দির ভিতরে তাবলীগী কার্যক্রমে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো দারুল উলূম দেওবন্দ। হঠাৎ করে কেন আজ এমন আকষ্মিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো তা জানা যায় নি। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন শিক্ষকের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তারাও বিষ্ময় প্রকাশ করেন। দেওবন্দের মূল ফটক ‘বাবুয যাহের’ এর নোটিশবোর্ডে সকাল থেকেই ‘নিষেধাজ্ঞা পত্র’টি সাঁটানো আছে।

তাবলীগ নিষেধাজ্ঞাপত্রের অফিসিয়াল কপি

যা রয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা পত্রে

প্রিয় ছাত্রবৃন্দ, দ্বীনের প্রচার-প্রসারের কাজ আমাদের উপর ফরজ। তবে তাবলীগ জামাতের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দের কারণে সৃষ্ট ফেতনা থেকে দারুল উলূমকে বাঁচানো জন্য দারুল উলূমের কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন যে, দারুল উলূমের কোন ব্যক্তি (তাবলীগের) দুই পক্ষের কারো সাথে সম্পর্ক রাখবে না।

এই জন্য প্রিয় ছাত্রবৃন্দ দারুল উলূমের চৌহদ্দীর ভিতর ও বাহিরে তাবলীগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিয়ে মাথা ঘামাবে না। যদি দারুল উলূমের কোন ছাত্র কিংবা বহিরাগত কেউ দারুল উলূমের চৌহদ্দীর ভিতর এই ব্যপারে মাথা ঘামায় তাহলে অন্য ছাত্ররা এতে না জড়িয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করবে।

যদি কোন ছাত্র আইন অমান্য করে কোন নিষিদ্ধারোপিত কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আবুল কাসেম নু’মানী
মুহতামিম, দারুল উলূম দেওবন্দ
১০/৫/১৪৪০হি.

কেন আজ এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলো?

দেওবন্দের কয়েকজন বাঙ্গালী ছাত্র এবং পার্শবর্তী এলাকার মুবাল্লিগ সাথীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের আসাকে কেন্দ্র করে দেওবন্দের নীতিনির্ধারকদের উপর এক ধরণের গোমট চাঁপ ক্রমশঃ বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের তাবলীগের সংকট নিয়ে দেওবন্দের শীর্ষ আলেমরা কী ভাবছেন? শিরোনামে তাবলীগ নিউজ বিডিতে দেওবন্দের শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে পড়লে চাঁপ আরো বাড়তে থাকে। এছাড়াও প্রতিদিনই বাংলাদেশ ও ভারতের অসংখ্য জায়গা থেকে উলামায়ে কেরাম ও সাধারণের মুবাল্লিগদের যাতায়াতও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসেছেন মিডিয়া কর্মীরা।

সবাই অগ্রিম জানতে চাচ্ছেন, প্রতিনিধিদলের কাছে দেওবন্দের আনুষ্ঠানিক বার্তা কী হবে? যদিও দেওবন্দ বরাবরই উভয় গ্রুপ থেকে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করার চেষ্টা করছে, তবুও প্রথম সারীর কয়েকজন জিম্মাদারের সংশ্লিষ্টতা দ্বিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। আগন্তুকদের অনেকেই দেওবন্দের উস্তাদ ও ছাত্রদের সাথে কথা বলে ভিন্ন রকম বার্তা পাচ্ছেন। যা দেওবন্দের প্রথম সারীর কয়েকজন ‘সংশ্লিষ্ট’কে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্তটি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেওবন্দের একজন ছাত্র জানান, যদিও এই পত্রটি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, কিন্তু এতে মূলতঃ সম্বোধন করা হয়েছে উস্তাদদেরকে। কারণ, দেওবন্দের অধিকাংশ উস্তাদ নিযামুদ্দীনের অনুসারী।তাদের মুখ বন্ধ করতেই এই আকষ্মিক উদ্যোগ গৃহিত হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের আগমনের সংবাদে যে হারে এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে মূলধারার সাথীরা এসে ছাত্র ও উস্তাদদের সাথে কথা বলে বাস্তবতা জানতে চাচ্ছে তা ‘সংশ্লিষ্ট’দের জন্য রীতিমত উদ্বেগজনক। তাই তড়িঘড়ি করে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com