রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

দুদিনের মাথায় কারী জুবায়ের ভেঙে দিলেন তাবলীগের ঐক্য

দুদিনের মাথায় কারী জুবায়ের ভেঙে দিলেন তাবলীগের ঐক্য

ষ্টাফ রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তাবলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের ঐক্য প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে ফ্যাসিবাদী আচরণের মাধ্যমে তাবলীগের প্রক্রিয়াধীন ঐক্য ভেঙ্গে দিলেন মাওলানা জুবায়ের।

তাবলীগের দু’পক্ষের চার আহলে শূরা মিলে ধর্মমন্ত্রীর তত্বাবধানে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার যাবতীয় কাজ করার কথা থাকলেও মাওলানা জুবায়ের তার একক নামে কোন প্রকার পরামর্শ ছাড়াই বিদেশে চিঠি ছেঁড়ে দিলেন। এই চার আহলে শুরা ছাড়া বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে অন্য কারো হস্তক্ষেপের কথা না থাকলেও মাওলানা জুবায়েরের চিঠিতে বিদেশী মেহমানদের যোগাযোগের জন্য ই-মেইল দেওয়া হয়েছে বিতর্কিত মাহফুজ হান্নানের। জ্যামার মামলার আসামি ও তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই মাহফুজ হান্নানের সম্পৃক্ততা দেখে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে পাকিস্তানী ষড়যন্ত্রের আশংকা করছেন অনেকেই।

মাওলানা জুবায়েরের এই চিঠি নিঃসন্দেহে তাবলীগের চলমান ঐক্যে বড়ধরনের ফাটল তৈরি করেছে বলে মনে করছেন তাবলীগের সাথী ও পর্যবেক্ষক মহল।

তারা মনে করছেন, ঐক্যের দুদিন না যেতেই তার এমন অসৌজন্যমূলক একক হস্তক্ষেপ তাবলীগের ঐক্যকে খান খান করে দিয়েছে। বিষয়টি কেন হল, তা প্রসাশনকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা। আজ সন্ধ্যায় তার এই চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই সারাদেশে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম অসন্তুোষ ও ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়।

বিদেশী মেহমানদের উদ্দেশ্যে ইংলিশে লেখা তার এই চিঠিতে পাকিস্তানী আলমি শুরার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কী পরিমাণ মিথ্যাচার করা হয়েছে তা পড়ে সবাই বিস্মিত হয়েছেন। সরকার থেকে বারবার বলা হয়েছে, মাওলানা সাদ কান্ধলভী সহ বিদেশি সকল মেহমান ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এতে কোন বাঁধা নেই। এই ঘোষণার মাত্র দুদিনের মাথায় এ ধরণের একক সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানী আলমী শুরার এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুগভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন সচেতন তাবলীগীরা।

মাওলানা জুবায়ের তার চিঠিতে লিখেছেন “মাওলানা সাদ সাহেব আসতে পারবে না এটাই সরকারের সিদ্ধান্ত”

অথচ সেদিনের চূড়ান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলেনঃ (সংযুক্ত ভিডিওর ১:২৮মিনিট) যদি কেউ আসলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা হয় তাহলে আমরা তাকে স্বসম্মানে অবশ্যই আনবো। আবার যদি দেখা যায়, কোন লোক এখানে আসলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে তাহলে সেই ব্যপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই সিন্ধান্ত নেবে। এতে সরকারের কোন বাঁধা বিপত্তি নেই। (আবার পড়ুন, এতে সরকারের কোন বাঁধা বিপত্তি নেই।)

(সংযুক্ত ভিডিওর ১:৫৭মিনিট) তাবলীগের পক্ষ থেকে কাকরাইলের বিদেশী নযমের জিম্মাদার ভাই রেজা আরীফ সাংবাদিকদেরকে গতকালের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেনঃ মাওলানা সা’দ সাহেবকে যদি আনা যায়, জটিলতা নিরসন হয়, তিনি যদি আসেন তাহলে তো ভালো। কিন্তু তিনি যদি আসতে না চান বা জটিলতা নিরসন না হয় তাহলে ঐ পক্ষ থেকে ইবরাহীম দেওলা ও আহমদ লাট সাহেব আসবেন না, এইটুকু ফায়সালা হয়েছে।

উপরোক্ত দু’জনের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে, মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর আসা/না আসা নির্ভর করছে তার স্বদিচ্ছার উপর। তিনি যদি রাজী থাকেন তাহলে প্রশাসনের কোন আপত্তি, বিপত্তি বা বাঁধা নেই।

এরপরও মাওলানা জুবায়েরের একক সিদ্ধান্তে লিখিত এই চিঠিকে সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন ঐক্যকামী তাবলীগীরা।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com