শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ন

হাইয়া-বেফাককে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা! এ লজ্জা গোটা কওমী অঙ্গনের।

হাইয়া-বেফাককে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা! এ লজ্জা গোটা কওমী অঙ্গনের।

মাওলানা আহমদ জামিল, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, হাইয়াতুল উলিয়া, কওমী মাদরাসা কিংবা কওমী শিক্ষাবোর্ডের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ালো। কওমী মাদ্রাসার বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মাদরাসাগুলোর সাথে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার বৈষম্যমুলক আচরণের কারণে হাইকোর্টে রীট করে নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে এনেছেন কয়েকটি মাদরাসা।

কিছু অসাধু ব্যক্তি (যারা কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা করে না তারা) বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ও হাইয়াতুল উলয়ার নীতিনির্ধারক হয়ে বসে আছে। নিজেদের সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য তারা বয়োবৃদ্ধ মুরুব্বীদের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে মনগড়া আইন বানিয়ে নেয়। তাদের হাতে আজ গোটা কওমী অঙ্গন জিম্মি। সব নষ্টের মূল মাত্র কয়েক সাহেবজাদা ও তাদের সমমনা দোসররা।

তাদের অন্যায় আচরণ, নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত, একগুঁয়েমি ও নিজেদের স্বার্থবাজির কারনে আজ চরম মানহানিকর পরিস্থিততে পড়তে হচ্ছে গোটা কওমী সমাজ। এরাই বারবার ভুল পথে পরিচালিত করছে আমাদের মুরুব্বী আলেমদেরকে। চিহ্নিত এই লোকদের ব্যাপারে এখনি সর্তক হওয়া সময়ের দাবী।

আরো পড়ুনঃ হাইয়া-বেফাককে হাইকোর্ট দেখালো তাবলীগীরা। জুমহুরদের পরাজয়ে কোণঠাসা কওমী শিক্ষাবোর্ড।

মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে ৫মের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, নাস্তিকবিরোধী আন্দোলনের নাম দিয়ে ছাত্রদের ব্যবহার করে ক্ষমতা দখলের নীল নকশা ও আল্লামা আহমদ শফীকে প্রেসিডেন্ট এবং জুনাইদ বাবুনগরীকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করার মত কাঁচা কাজ করেছিলো এই চিহ্নিত দালালগোষ্ঠী। পরবর্তীতে নানান কলঙ্কজনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গোটা কওমী অঙ্গনকে মেরুদন্ডহীন করার পেছনে মূল কলকাঠি এই গোটা কয়েক ব্যাক্তিই চালিয়ে যাচ্ছে।

শাপলা চত্তরে হাজার হাজার লাশ পড়ার মিথ্যা দাবী করে সকল মিডিয়ায় আলেমদের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আজ শুকরিয়া মাহফিলে গিয়ে ৫মে শাপলা চত্তরে কেউ হতাহত হয়নি বলে কওমী শিক্ষাবোর্ড নেতাদের নিরব স্বীকৃতি কি কথিত শাপলা শহীদদের সাথে গাদ্দারী নয়? আর এই দাবী সত্য হলে ৫মে পরবর্তী জুমহুর আলেমদের প্রপাগান্ডা ভুল নয় কি?

যারা ফাঁকা বুলি আওড়িয়ে সহজ সরল উলামায়ে কেরামকে বারবার মাঠে নামিয়ে একটি স্বাধীনচেতা অঙ্গনকে মেরুদণ্ডহীন করে দিয়েছে তাদের ব্যপারে বহু আগেই সতর্ক অবস্থান নেওয়া উচিৎ ছিলো। তা করার পরিবর্তে তাদের হাতের মুঠেই গুঁজে দিয়েছে সকল চাবিকাঠি। তাই এখন বয়োজৈষ্ঠ সাদামাটা আলেমদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার নেই। এরাই মাঠ গরমের আওয়াজ দিয়ে মুরুব্বীদেরকে কুপোকাত করে রাখার নীতিতে চোখে ধুলা দিয়ে বিভ্রান্ত করে স্বাধীনচেতা কওমী অঙ্গনকে আজ ক্ষমতাশীনদের তল্পীবাহকে পরিণত করেছে। এক সময় যারা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে আওয়ামীলীগের দালাল বলে হরহামেশা চিৎকার করতেন তারাই আজ আওয়ামীলীগের কেবল দালালই নয়, বরং চাটুকারে পরিণত হয়েছে। তাদের ব্যাপারে সর্তক না হওয়ার কারণেই আজ কওমী শিক্ষাবোর্ডকে ভুল পথে পরিচালিত হয়ে গিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের ভর্ৎসনা শুনতে হলো। যার খেসারত গুণতে হবে দীর্ঘকাল।

আরো পড়ুনঃ কওমী শিক্ষাবোর্ডের অনিয়মঃ হাইকোর্টের ভর্ৎসনা | তাবলীগের মাদরাসাগুলোর নিরঙ্কুশ বিজয়

উল্লেখ্য যে, তাবলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফিস জমা নেওয়ার পরও শিক্ষাবোর্ডের এমন আচরণ ছিলো বিষ্ময়কর। তারা কোন নিয়মনীতির পরোয়া করছিলেন না। একই ছাত্রকে বাগিয়ে নিয়ে ৩ মাদরাসা থেকে প্রবেশপত্র দেওয়ার মত অনৈতিক কাজও করেছেন বেফাক নেতারা। যার মূলকপি গতকাল হাইকোর্টে দেখানো হয়। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা মনে হয় কেবল কওমী শিক্ষাবোর্ডেই সম্ভব। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নামের স্থলে লিখে দিয়েছে বেফাকের নাম। আবার নিচে লিখেছে ‘মুহতামিমের সীল ও স্বাক্ষর’। বেফাকের মুহতামিম পদ কবে থেকে সৃষ্ট হলো, সে আরেক নতুন রহস্যের দ্বার উম্মোচন করে দিয়েছে। ফলে অসংখ্য ছাত্রদের ভুল প্রবেশপত্র পাওয়ার পরও পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আরো কিছু মাদরাসার ফিস গ্রহণ করলেও প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয় নি। এসব নাটকীয়তার কারণে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর মুহতামিমগণ গতকাল হাইকোর্টে রীট করতে বাধ্য হোন। দেখা করেন শিক্ষা সচিব, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সাথে।

আরো পড়ুনঃ বাহাসে পরাজিত হয়ে হেফাজতপন্থীদের হামলা (ভিডিও সহ)

বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার মতো জাতীয় শিক্ষাবোর্ড কোন প্রকার লিখিত নোটিশ ছাড়া এই মাদরাসাগুলোর সাথে এমন আচরণ কোনভাবেই আইনসম্মত ছিল না। এতে করে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পাশাপাশি ছাত্রদের পরিক্ষা দিতে না পারলে ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেত। যা অমানবিক, অন্যায়, বৈষম্যপূর্ণ ও বেআইনি। সংসদে কওমী স্বীকৃতির আইন পাশের পরই হাইয়াতুল উলিয়ার অধীনে প্রথম পরিক্ষায় এমন অনিয়ম দেখে মহামান্য আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদালত কওমী শিক্ষাবোর্ড দুটির কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে ভর্ৎসনাও করেন। পরিক্ষার আগেই যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহন করতে মহামান্য আদালত কওমী মাদ্রাসার এই দুটি শিক্ষাবোর্ডকে অতিদ্রুত জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

হাইকোর্ট থেকে কওমী শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও হাইয়াকে ভর্ৎসনা। এটি গোটা কওমী অঙ্গনের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।

 

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com