শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে কিভাবে দেখছেন দেশের শীর্ষ আলেমরা

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে কিভাবে দেখছেন দেশের শীর্ষ আলেমরা

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয়ে সরকারের অধিনে গঠিত সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড আল হাইআতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর অধিনে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর অধিনে মেশকাত (স্নাতক) পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চিত ১৭৭জন শিক্ষার্থীর যথাসময়ে নিজ মাদ্রাসার নামে পরিক্ষা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছে মহামান্য হাইকোর্ট। আগামী রোববারের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রদান করে পরিক্ষা নিতে মহামান্য আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক যুগান্তকারী রায়কে দেশের শীর্ষ আলেমসমাজ কিভাবে দেখছেন এবং কী ভাবছেন, এ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু ইলিয়াস।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহজ সভাপতি ও হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশে এর কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। হাইকোর্ট থেকে লিখিত পাওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিব। এ বিষয়ে আমি আর বেশি কিছু বলতে নারাজ।

কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতির রূপকার, বেফাকুল মাদরিসিদ দ্বীনিয়া (জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড) এর চেয়ারম্যান শায়খুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার প্রত্যেক ছাত্রেরই রয়েছে। যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছাত্রদের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিৎ। আমাদের কোন সিদ্ধান্তের কারণে যেন ছাত্রদের জীবন হুমকির মুখে না পড়ে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। ১৬ বছর পড়ার পরও কোন কারণে যদি একটি ছাত্র সমাপনী পরীক্ষা দিতে না পারে তাহলে তার পুরো ছাত্রজীবনের উপরে একটি কালো দাগ লেগে যাবে। যা খুবই দুঃখজনক। তাই সবকিছুর সাথে শিক্ষাবোর্ডকে জড়ানো বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়। হাইকোর্টের এই রায়টি আমি যথার্থ মনে করি।

হাইয়া-বেফাককে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা! এ লজ্জা গোটা কওমী অঙ্গনের।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালখান বাজার মাদরাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতী ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি হাইকোর্টের রায়ের খবরটি গতকালই পেয়েছি। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অনিয়মের বিরুদ্ধে এটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। উলামায়ে কেরামের নিয়ন্ত্রিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ছাত্রদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত কোনভাবেই কাম্য নয়।

আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হাইয়াতুল উলয়ার অন্যতম সদস্য মাওলানা আবদুল হালীম বুখারী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ ব্যপারে হাইয়াতুল উলয়া যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটার সাথে আমি একমত থাকবো। তবে এমন কিছু করা উচিৎ হবে না, যার ফলে ছাত্রদের ক্ষতি হয় কিংবা আমাদেরকে আইনী জটিলতায় পড়তে হয়।

বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। আইনি নোটিশ হাতে পেলে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

মাদরাসার নাম না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেফাক ও হাইয়াতুল উলয়া আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বোর্ড। যারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতাদর্শে বিশ্বাসী নয় তাদের এই বোর্ডে থাকা উচিৎ হবে না, রাখাও উচিৎ হবে না। যদিও আমরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিনি।

এ বিষয়ে আল মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলাম বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতী আতাউর রহমান বলেন, মহামান্য আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আমাদের ন্যায্য ও আইনসম্মত অধিকার ফিরে পেয়েছি। হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। বোর্ডে কেউ আগামীতে এমন অন্যায় ও নিয়ম বহির্ভূত কাজ করার সাহস করবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কওমী শিক্ষাবোর্ডের অনিয়মঃ হাইকোর্টের ভর্ৎসনা | তাবলীগের মাদরাসাগুলোর নিরঙ্কুশ বিজয়

জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলূম, চাঁদপুর এর মুহতামিম বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুর রশীদ বলেন, কোন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো নোটিশের মাধ্যমে আমাদেরকে জানানো হয়নি। সে জন্য আমরা এ সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করে হাইকোর্টে রীট করেছিলাম। মহামান্য আদালতের এই রায়ের ফলে ছাত্ররা এখন সুষ্ঠুভাবে পরিক্ষা দিতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।

মারকাজুল উলুম আশ শরিয়া সাভার এর মুহতামিম মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন, আমাদের মাদরাসাগুলো বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের অন্তর্ভূক্ত। বেফাকের মাধ্যমে আমরা হাইয়াতুল উলয়ার অংশ। কিন্তু এবার যখন প্রবেশপত্র এলো, আমরা দেখলাম আমাদের প্রবেশপত্রে মাদারাসার নাম নেই। মাদরাসার নামের স্থানে বেফাক লেখা এবং নিচে প্রিন্সিপালের স্বাক্ষর। বেফাক কীভাবে মাদরাসা হলো সেটা আমাদের বোধগম্য ছিলো না এবং তার প্রিন্সিপাল কে সেটাও আমরা বুঝতে পারিনি। বেফাকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার পরও তারা আমাদের প্রবেশপত্র সংশোধন করে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে গিয়েছি এবং মহামান্য আদালত যথা নিয়মে আমাদের পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

দারুল উলূম উত্তরার মুহতামিম মাওলানা মু’আয বিন নূর বলেন, মযলূমের দু’আ কখনো প্রত্যাক্ষাত হয় না। আমরা মযলূম ছিলাম। আশা করি, হাইয়াতুল উলিয়া ও বেফাক এই ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিবে। ‘দায়িত্ব’ একটি আমানত। এটি কোন স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা কর্তৃত্ব প্রদর্শনের হাতিয়ার নয়। হাইয়াতুল উলিয়া ও বেফাকের কর্তৃপক্ষগণ প্রতিবছর প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। আশা করি, হাইকোর্টের আজকের সিদ্ধান্তের পরে তারা ‘আমানত’ রক্ষার ব্যপারে আরো যত্নবান হবেন।

এবার জমহুরদের হাইকোর্ট দেখালো তাবলীগীরা

এ ব্যাপারে রীটের আবেদনকারী সুপ্রিমকোর্টের আইনজিবী এডভোকেট আবদুল কদ্দুস বাদল বলেন, বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার মতো জাতীয় শিক্ষাবোর্ড কোন প্রকার লিখিত নোটিশ ছাড়া এই মাদরাসাগুলোর সাথে এমন আচরণ করার কোন আইনী অধিকার রাখে না। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পাশাপাশি ছাত্ররা পরিক্ষা দিতে না পারলে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। যা সম্পূর্ণ অমানবিক, অন্যায়, বৈষম্যপূর্ণ ও বেআইনি। হাইয়াতুল উলিয়া সংসদে কওমী স্বীকৃতির আইন পাশের পরই প্রথম পরিক্ষায় এমন অনিয়ম দেখে মহামান্য আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালত কওমী শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে ভর্ৎসনাও করেন। পরিক্ষার আগেই যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মহামান্য আদালত

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com