শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
মৃত্যুর আগে হাজী সাহেবের শেষ পয়গাম

মৃত্যুর আগে হাজী সাহেবের শেষ পয়গাম

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম। চলে গেলেন উম্মতের অন্যতম কাণ্ডারি হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেব রহিমাহুমুল্লহ। আমাদের জানা মতে ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহির সাথীদের মধ্যে এখন শুধুমাত্র নূহ মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা ইয়াকুব সাহেব মেওয়াতীই বাকি রইলেন।

হাজী সাহেব আর আমাদের মাঝে নেই। চলেন গেলেন মহান রব, রফিকে আলার সান্নিধ্যে। রেখে গেলেন অসংখ্য রাহবারী। তিনি আজীবন নিজামুদ্দিনের তারিফ করে গেছেন। নিজামুদ্দিনের জন্য তাশকীল করে গেছেন। নিজামুদ্দিনের চার দেয়ালের মধ্যে নিঃশ্বাস নিলেও ঈমান বাড়ে, এমনই ছিল তাঁর বিশ্বাস। ২০১৬ সালের জুন মাসেও আমাদের মাওলানা ওমর ফারুক সাহেব এমনই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই কথাগুলো মৃতের পূর্বে সকল সাক্ষাৎপ্রার্থীদের বলতেন। এরকম বেশ কিছু অডিও আমাদের হাতে এসেছে।

নিজামুদ্দিন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা মারকাজ করতে বলেছেন, বা অন্য কোন মারকাজে জুড়তে বলেছেন এমন সাক্ষ্য আজ পর্যন্ত কেউ দেয় নি।
তিনি ছিলেন মেওয়াতীদের আজীবন ভক্ত। মেওয়াতের পথে প্রান্তরে এই মেহনতের নূর ছড়িয়ে আছে এ কথা বহুবার তাঁর মুখ থেকে শুনেছি। তাই তিনি মেওয়াতের জন্য তাশকীল করতেন। কেননা সেখান থেকেই এই মেহনতের শুরু। যেখানে মেহনত শুরু হয় সেখানে সেই মেহনতের কুরবানীর আসরাত বাকি থাকে। তাই তিনি মেওয়াত ও মদীনা সফর করতে বলতেন খুব।
মাওলানা যুবায়েরুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহির ইন্তেকালের পরে তিনি নিজামুদ্দিনে ছুটে গিয়েছিলেন নিজামুদ্দিনের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করতে। অথচ তিনি নিজেই তখন গুরুতর অসুস্থ।

শেষবার যখন বাংলাদেশে আসেন, মাওলানা সাদ সাহেবের বয়ানের আগে মজমা জুড়ানোর কাজ তিনি নিজেই করেন। বুজুর্গরা হয়ত বুঝতে পারেন তাঁদের সময় শেষ হয়ে আসছে। তিনিও হয়ত বুঝতে পেরেছিলেন যে টঙ্গীতে হয়ত আর আসা হবে না। মাওলানা সাদ সাহেবের বয়ানের মজমা জুড়িয়ে তিনি কিসের দিকে ইঙ্গিত করে গেলেন? উম্মতকে কি মাওলানা সাদ সাহেবের দিকে ডাকলেন? মাওলানা সাদ সাহেব থেকে রাহবারী নেয়ার জন্যই কি ডাকলেন?
শেষের দিকে তাঁর অসুস্থতার সুযোগে অনেকেই অনেক রকম ষড়যন্ত্র করেছে। কথিত আলমী শূরার চিঠি তাঁর নামেই বিতরণ করা হয়। কিন্তু তিনি একাধিকবার দৃঢ়তার সাথে বলেছেন তিনি এই শূরা বানান নি। আলমী শূরার অন্যতম ভোকাল মাওলানা তারিক জামিল সাহেবও সাক্ষী দিয়েছেন তাঁরা আলমী শূরা বানিয়ে দস্তখতের জন্য নিয়ে যান হাজী সাহেবের কাছে। তিনি স্বাভাবিক ভাবে সেখানে দস্তখত করেন নি। ১০১ বার ইস্তিখারার দুআ পরে দস্তখত করেন। এরপর মাওলানা সাদ সাহেবের কাছে পাঠান অনুমোদনের জন্য। স্বাভাবিক মাসোয়ারাকৃত কোন পর্চায় এভাবে ইস্তিখারার দুআ পড়ে দস্তখত করা হয় না। কোন নজীর নেই। বরং মাসোয়ারার ফয়সালা যেহেতু, তাই নিশ্চিন্তেই দস্তখত করা হয়।

যারা ইস্তিখারার হুকুম জানেন, ইস্তিখারা করে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল যা আসে তাতেই খায়ের। ঘটনা উল্লেখ না করে যে কোন অভিজ্ঞ আলেমের সাথে আলোচনা করে দেখতে পারেন। হাজী সাহেবের সেই ইস্তিখারার ফলাফল ছিল কথিত আলমী শূরা প্রত্যাখ্যাত হওয়া। এর মধ্যেই মঙ্গল ছিল। কিন্তু আলমী শূরার বন্ধুগণ তাঁদের রায়ের উপরে জোরাজুরি করে সারা দুনিয়াতে ফিৎনা ও মিথ্যার সয়লাব বইয়ে দিলেন।

আজ হাজী সাহেব আমাদের মাঝে নেই। আমাদের অভিভাবক শূন্য করে চলে গেলেন মহান রবের সান্নিধ্যে। এটাই জগতের নির্ধারিত নিয়ম। সাহাবা রদ্বিয়াল্লহু আনহুদের মত পূত পবিত্র ও মকবুল ব্যক্তিত্বও পারেন নি তাঁদের পেয়ারে হাবীবকে ধরে রাখতে। সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা এটাই আরশের মালিকের অলঙ্ঘনীয় বিধান। কেউ রেহাই পাবে না। কিন্তু আমরা আরো এক দফা এতীম হলাম। সবচেয়ে বেশি সাহারা শূন্য হলেন হযরতজী মাওলানা সাদ সাহেব দামাত বারকাতুহুম। একমাত্র হাজী সাহেব সুস্থ হয়ে উম্মতের মাঝে ফিরে আসতে পারলেই তিনি চলমান হালতের সবচেয়ে সুন্দর সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ পাকের ইচ্ছা। মহান পালনকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই উম্মতকে হয়ত আরো পরীক্ষা করতে চাচ্ছেন, আরো ছাঁটাই বাচাই করতে চাচ্ছেন। তাই সর্বশেষ ভরসা যিনি ছিলেন তাঁকেও তুলে নিলেন।
হাজী সাহেবের জন্য দুআ করি। সকল সাথী কমপক্ষে ২ রাকাত নামাজ আদায় করে দুআ করি। ফাজায়েলে নামাজে যেমন পড়েছি। হাজী সাহেব চলে গেছেন এরচেয়ে বড় মুসিবত এই উম্মতের জন্য আর কি হতে পারে। কমপক্ষে একবার ইয়াসীন শরীফ তিলাওয়াত করি সকলে। আর উত্তম হয় তাঁর ইসালে সাওয়াবের নিয়তে আল্লহর রাস্তায় কিছু সময় দিই।

তিনি আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু যে নিজামুদ্দিনের জন্য তিনি তাঁর প্রায় সকল বয়ানে তাশকীল করেছেন সেই নিজামুদ্দিনের সাথে জুড়ে থাকলেই বলা যাবে তাঁর আদর্শ আমরা ধারণ করেছি। তাঁর রাহবারী আমরা সঠিক ভাবে অনুসরণ করেছি। নিজামুদ্দিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজেদের মন মত মারকাজ বানিয়ে মেহনত করলে হাজী সাহেবকে প্রত্যখ্যান করা হবে। তাঁর আদর্শ ও রাহবারী অপমানিত করা হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।লিখেছেম,শামীম হামিদী

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com