শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

আল্লাহর হাতেই হেদায়েতঃ দেওবন্দের ফতোয়া ও ভিন্ন ভ্রান্ত দাবী

আল্লাহর হাতেই হেদায়েতঃ দেওবন্দের ফতোয়া ও ভিন্ন ভ্রান্ত দাবী

মাওঃ সা’দ সাহেব সঠিক! আল্লাহর হাতেই হেদায়েতঃ দেওবন্দের ফতোয়া ও ভিন্ন ভ্রান্ত দাবী

প্রশ্নঃ # ৬৯২৬৪, ভারত
এই বয়ান মাওলানা সা’দ করেছেন, নিজামুদ্দিন মারকাজে করেছেন। আর কোন ধারণায় একথা বৈধ মনে করা যেতে পারে- সেই ধারনার কথায় আবাক হয়ে গেলাম) যে আল্লাহর হাতে হেদায়েত নাই নতুবা তিনি নবীদেরকে দুনিয়াতে কেন পাঠাতেন। আমি দেওবন্দের উলামার লেখা পড়ে দ্বীন মেনে চলা শিখেছি। আজ একটা সহজ কথার জবাব না পেয়ে দুঃখ হচ্ছে। এটা এক বয়ানে বলা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা এটাই যে, আল্লাহর হাতে হেদায়েত নাই নতুবা তিনি নবীদেরকে দুনিয়াতে কেন পাঠাতেন। এ কথা আপনাদের নিকট কি ইসলামসম্মত, আর ঐ বয়ানকারীকে এরকম কথা বলা থেকে বিরত রাখার জন্য বর্তমানে উলামা কেরামের কি দায়িত্ব রয়েছে? এই দুইটি কথা জানা উদ্দেশ্য ছিল, বহুত মেহেরবানী হত যদি জবাব পাওয়া যেত।

দেওবন্দের মূল ফতোয়ার লিঙ্কঃ http://www.darulifta-deoband.com/home/…/Dawah–Tableeg/69264

দেওবন্দের ফতোয়ার উর্দু অডিও লিঙ্কঃ https://youtu.be/GMHWDQuxqUM (১০ সেকেন্ড পর থেকে)

জবাবঃ৬৯২৬৪ প্রকাশঃ আগস্ট ০৩, ২০১৬
بسم الله الرحمن الرحيم
ফতোয়ার আইডিঃ ১০৫৮-১১৩৬/এল=১০/১৪৩৭
পূর্বে এক প্রশ্নে আপনি চারটি বাক্য লিখেছিলেন। সেগুলো সম্পূর্ণ বর্ণনা ছিল না। তাই সেটা যাচাই করার দরকার পড়েছে। এজন্য আপনার উচিত ছিল যে বয়ানের ঐ অংশ বিশেষ সম্পূর্ণ লেখা, যাতে উক্ত বাক্যের উদ্দেশ্য নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়ে যেত। প্রেক্ষাপট জানতে চাওয়ার উদ্দেশ্য এই ছিল। আপনি এই প্রশ্নে সেই বাক্যগুলোর মধ্যে শুধু একটি বাক্য লিখেছেন, যা প্রথম প্রশ্নে এমন ছিল “তুমি এই খেয়ালে আছ যে, হিদায়াত আল্লাহর হাতে। যদি আল্লাহর হাতে হত, তাহলে আল্লাহ তায়ালা নবীদেরকে কেন পাঠাতেন” আর এখন এই দ্বিতীয় প্রশ্নেও উক্ত বাক্য এমনঃ “আল্লাহর হাতে হেদায়েত নেই নতুবা তিনি নবীদেরকে দুনিয়াতে কেন পাঠাতেন।” প্রথম বর্ণনাকে যদি এভাবে লেখা যায় “তুমি এই খেয়ালে আছ যে হেদায়েত আল্লাহর হাতে। অতএব, আমাদের মেহেনত করার কি প্রয়োজন? যদি ব্যাপারটি এমনই হত তাহলে আল্লাহ নবীদেরকে কেন পাঠাতেন?” তো আপনি নিজেই চিন্তা করুন যে এই কথায় খারাপের কি আছে? আর যদি কথার উদ্দেশ্য সেটাই হত যেটা আপনার দ্বিতীয় (প্রশ্নের) বর্ণনার দ্বারা বুঝিয়েছেন, তো সেটাকে কে সঠিক মনে করতে পারে? তাই এই ব্যাপারে উত্তম এটাই ছিল যে বয়ান মনোযোগের সাথে শুনে নেওয়া যেত বা বয়ানকারীকেই জিজ্ঞেস করে বুঝে নেওয়া যেত।

আল্লাহ তায়ালাই সর্বোত্তম জানেন, দারুল উলূম, দেওবন্দ।

লক্ষ্যণীয়ঃ
১) বাংলাদেশে ‘আল্লাহ তায়ালার হাতে নেই’ মাওঃ সা’দ সাহেবের উক্তি বলে (মূল…প্রতিবাদ, পৃষ্ঠা-২, মাওলানা মোহাম্মাদ হোসেন, আহলে শুরা , বাংলাদেশ, কাকরাইল মসজিদ তারিখ-১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮) সবচেয়ে বেশি ফেতনা করা হয়েছে। মূল বয়ানে এর পরের বাক্য শুনলেও সবাই বুঝবেন, মাওলানা সা’দ সাহেব দামাত বারকাতুহুম বুঝিয়েছেন, হেদায়েত আল্লাহর হাতে। তাঁর ভাষায়, “ আল্লাহ্‌ হেদায়েত দেওয়ার জন্য, নবীদেরকে মেহনত দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।”
লিঙ্কঃ https://youtu.be/JnPKTlHTJIw

২) দারুল উলুম দেওবন্দ ৩ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে উক্ত ফতোয়ায় ফতোয়ার আইডিঃ ১০৫৮-১১৩৬/এল=১০/১৪৩৭) আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এটি একটি বিকৃত ও খণ্ডিত বক্তব্য। অথচ একাধিক বার এবিষয়ে প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেছেন!

৩) আমাদের দেশে এই ফতোয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পরে ২২ নভেম্বর ২০১৮ ‘মাসিক আদর্শ নারী’ পত্রিকা বেশ ঢাক ঢোল পিটিয়ে তাঁদের ভাষায় ‘এক্সক্লুসিভ প্রবন্ধ’ প্রকাশ করে। সেখানে মুফতী মনসূরুল হক সাহেব, মাওলানা সা’দ সাহেবের ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের অনাস্থার এক নম্বর কারণ উল্লেখ করেছেন– মাওলানা সা’দ সাহেব দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ের মনগড়া ব্যাখ্যা করেন। দৃষ্টান্ত– তিনি বলেছেন, “হিদায়াত যদি আল্লাহর হাতেই থাকতো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা নবীদের পাঠালেন কেন!?” অর্থাৎ তিনি বলতে চাচ্ছেন হিদায়াত আল্লাহর হাতে নেই; বরং নবীদের হাতে।”
https://adarshanari.com/articles/5466/

৪) প্রায় একই রকম বক্তব্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক ‘সা’দ সাহেবের আসল রূপ’ নামক তোহমত দোষারোপ ভিত্তিক, বানোয়াট, রেফারেন্স ও তাহকীক ছাড়া বইয়ের ১২ নং পৃষ্ঠায় লেখেন ‘ভ্রান্ত আকিদা২৪. হেদায়েতের সম্পর্ক যদি আল্লাহর হাতে হতো, তাহলে নবী পাঠাতেন না।” মন্তব্যে তিনি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে লেখেন, কুরআন মজিদের শতাধিক আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যে, হেদায়েত আল্লাহর হাতে এবং ইহা ইসলামের একটি মৌলিক আকিদা, কিন্তু সা’আদ সাহেব তার বিরোদ্ধে (বিরুদ্ধে হবে) অবস্থান নিয়েছেন।”

৬) হায় আফসোস! আলমী শূরাপন্থী (world council) প্রোপান্ডাকারীরা দারুল উলুম দেওবন্দকে ধোঁকা দিতে পারেনি। কিন্তু এদেশের সরলমনা বড় মুফতি, মুহাদ্দিস, ওয়ায়েজীনদের ধোঁকা দিয়ে দিল। উপরের অপবাদটি মুফতী মনসূরুল হক সাহেব হাফিযাহুল্লাহ, ২৮ জুলাই ২০১৮ মোহাম্মাদপুরে ওয়াজাহাতী জোড়েও করেছেন। সেখানে তাঁদের ভাষায় ‘আকাবিরিনে উম্মত’ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উপস্থিত কেউ কোন প্রতিবাদ করেননি। পরেও কখনো করেননি। তাতে বুঝা যায় আসলে তাঁদের এই বিষয়ে কোন তাহকীক (অনুসন্ধান) নেই।

৭) এই সম্মানিত উলামায়ে কেরামের ভুল কখন ভাঙবে! তাঁরাও দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং বর্তমান তাবলীগ জামাতের আমীর হযরতজী মাওলানা সা’দ সাহেব দামাত বারকাতুহুম প্রমুখদের অনুসরণে নিজেদের পূর্বের বক্তব্য থেকে রুজু করবেন। তাছাড়া সর্ব সাধারণ মুসলমানকে ওয়াজাহাতী জোড় এবং অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। যা তরুণ আলেমদের জন্য শিক্ষণীয় ও উদাহরণ হয়ে থাকবে। কেননা এখানে বান্দার হক জড়িত। দাওয়াত ও তাবলীগের শত শত সাধারণ সাথীদের ঈমান, আকিদা, ওলামাদের তাহকীকের ওপর আস্থা জড়িত। আল্লাহ সোশ্যাল মিডিয়ার ফেতনা থেকে সবাইকে রক্ষা করুন।
(সৌজন্যেঃ বরেণ্য উলামায়ে কেরামের উদ্যোগ)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com