শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

অপবাদের ভয়াবহ পরিণাম: মাওলানা জিয়া বিন কাসেম

অপবাদের ভয়াবহ পরিণাম: মাওলানা জিয়া বিন কাসেম

إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ ۚ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم ۖ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۚ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُم مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ ۚ وَالَّذِي تَوَلَّىٰ كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ
নিশ্চয় যারা এ অপবাদ (১) রচনা করেছে, তারা তো তোমাদেরই একটি দল (২); এটাকে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না; বরং এটাতো তোমাদের জন্য কল্যাণকর; তাদের প্রত্যেকের জন্য আছে তাদের পাপকাজের ফল (৩) এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য আছে মহা শাস্তি।
তাফসীর
সূরা আন-নূরের অধিকাংশ আয়াত চারিত্রিক নিষ্কলুষতা ও পবিত্ৰতা সংরক্ষণের জন্য প্রবর্তিত বিধানাবলীর সাথে সম্পর্কযুক্ত। এর বিপরীতে চারিত্রিক নিষ্কলুষতা ও পবিত্রতার উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ, অপবাদ রটানো ও সৎ চরিত্রের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর জাগতিক শাস্তি ও আখেরাতের মহা বিপদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। ষষ্ট হিজরীতে কতিপয় মুনাফেক উন্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার প্রতি এমনি ধরণের অপবাদ আরোপ করেছিল যার গুজবে মদিনার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। কোন কোন সরলমনা সাহাবীও মুনাফিকদের চাক্রান্তে পড়ে এই অপবাদের গুজব ছড়ানোর কাজে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাদের অনুসরণ করে আসহাব বদরীনদের মতো জলিলুল কদর বড় মাপের সাহাবীও এ আলোচনায় জড়িত হয়ে পড়েছিলেন। রাসুল সা: একপর্যায়ে আম্মাজান আয়শা রাযি এর সাথে কথাবার্তা বন্দ করে দিয়ে তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যাপারটি সাধারণ মুসলিম সচ্চরিত্রা নারী ও রাসুলের পরিবার হিসাবে অত্যাধিক গুরুতর ছিল। তাই কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্ তা‘আলা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পবিত্ৰতা বর্ণনা করে এ স্থলে উপরোক্ত দশটি আয়াত নাযিল করেছেন। [ইবন কাসীর] এসব আয়াতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পবিত্ৰতা ঘোষণা করতঃ তার ব্যাপারে যারা কুৎসা রটনা ও অপপ্রচারে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের সবাইকে হুশিয়ার করা হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের বিপদ বর্ণনা করা হয়েছে। এই অপবাদ রটনার ঘটনাটি কুরআন ও হাদীসে ‘ইফকের ঘটনা’ নামে খ্যাত। ইফক শব্দের অর্থ জঘন্য মিথ্যা অপবাদ। [বাগভী] এসব আয়াতের তাফসীর বুঝার জন্য অপবাদের কাহিনীটি জেনে নেয়া অত্যন্ত জরুরী।
তাই প্ৰথমে সংক্ষেপে কাহিনীটি বর্ণনা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে এই ঘটনাটি অসাধারণ দীর্ঘ ও বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এই যে, ষষ্ঠ হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী মুস্তালিক নামান্তরে মুরাইসী যুদ্ধে গমন করেন, তখন স্ত্রীদের মধ্য থেকে আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সাথে ছিলেন। ইতিপূর্বে নারীদের পর্দার বিধান নাযিল হয়েছিল। তাই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার উটের পিঠে পর্দাবিশিষ্ট আসনের ব্যবস্থা করা হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রথমে পর্দাবিশিষ্ট আসনে সওয়ার হয়ে যেতেন। এরপর লোকেরা আসনটিকে উটের পিঠে বসিয়ে দিত। এটাই ছিল নিত্যকার নিয়ম। যুদ্ধ সমাপ্তির পর মদীনায় ফেরার পথে একদিন একটি ঘটনা ঘটল। এক মনযিলে কাফেলা অবস্থান করার পর শেষ রাতে প্রস্থানের কিছু পূর্বে ঘোষণা করা হল যে, কাফেলা কিছুক্ষণের মধ্যেই এখান থেকে রওয়ানা হয়ে যাবে। তাই প্ৰত্যেকেই যেন নিজ নিজ প্রয়োজন সেরে প্রস্তুত হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রয়োজন সারতে জঙ্গলের দিকে চলে গেলেন। সেখানে ঘটনাক্রমে তার গলার হার ছিঁড়ে কোথাও হারিয়ে গেল। তিনি সেখানে হারটি খুঁজতে লাগলেন। এতে বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। অতঃপর স্বস্থানে ফিরে এসে দেখলেন যে, কাফেলা রওয়ানা হয়ে গেছে। রওয়ানা হওয়ার সময় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার আসনটি যথারীতি উটের পিঠে সওয়ার করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বাহকরা মনে করেছে যে, তিনি ভেতরেই আছেন। এমনকি উঠানোর সময়ও সন্দেহ হল না। কারণ, তিনি তখন অল্পবয়স্কা ক্ষীণাঙ্গিণী ছিলেন। ফলে আসনটি যে শূণ্য এরূপ ধারণাও কারো মনে উদয় হল না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ফিরে এসে যখন কাফেলাকে পেলেন না, তখন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও স্থিরচিত্ততার পরিচয় দিলেন এবং কাফেলার পশ্চাতে দৌড়াদৌড়ি করা কিংবা এদিক-ওদিক খুঁজে দেখার পরিবর্তে স্বস্থানে চাদর গায়ে জড়িয়ে বসে রইলেন। তিনি মনে করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সঙ্গীগণ যখন জানতে পারবেন যে, আমি আসনে অনুপস্থিত তখন আমার খোঁজে তারা এখানে আসবেন। কাজেই আমি এদিক-সেদিক চলে গেলে তাদের জন্য আমাকে খুঁজে বের করা মুশকিল হয়ে যাবে। সময় ছিল শেষ রাত, তাই তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই নিদ্রার কোলে ঢলে পড়লেন।
অপরদিকে সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজের জন্য নিযুক্ত করেছিলেন যে, তিনি কাফেলার পশ্চাতে সফর করবেন এবং কাফেলা রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর কোন কিছু পড়ে থাকলে তা কুড়িয়ে নেবেন। তিনি সকাল বেলায় এখানে পৌঁছলেন। তখন পর্যন্ত প্রভাত-রশ্মি ততটুকু উজ্জ্বল ছিল না। তিনি শুধু একজন মানুষকে নিদ্রামগ্ন দেখতে পেলেন। কাছে এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে চিনে ফেললেন। কারণ, পর্দা সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বে তিনি তাকে দেখেছিলেন। চেনার পর অত্যন্ত বিচলিত কণ্ঠে তার মুখ থেকে ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজি‘উন’ উচ্চারিত হয়ে গেল। এই বাক্য আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার কানে পৌছার সাথে সাথে তিনি জাগ্রত হয়ে গেলেন এবং মুখম-ল ঢেকে ফেললেন। সফওয়ান নিজের উট কাছে এনে বসিয়ে দিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাতে সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সফওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে উটের নাকের রশি ধরে পায়ে হেঁটে চলতে লাগলেন। অবশেষে তিনি কাফেলার সাথে মিলিত হয়ে গেলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল দুশ্চরিত্র, মুনাফেক ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শত্রু। সেও সাহাবী বেশে মুসলমানদের এই কাফেলা সাথে ছিল এবং যুদ্ধেও শরীক হয়েছিল। সে একটা সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেল। সফওয়ান রাযি কাফেলার কাছে এসে নবিজীকে ঘটনা বলার পরিবেশ তার শুনে আব্দুল্লাহ বিন উবাই নানান কুৎসা রটাতে থাকল আম্মাজান ও সফওয়ান রাযি করে নিয়ে। কিছুসংখ্যক সরল-প্রাণসাহাবীওও কানকথায় সাড়া দিয়ে এ আলোচনায় মেতে উঠলেন। পুরুষদের মধ্যে হাসসান ইবনে সাবিত, মিস্তাহ ইবনে আসাল এবং নারীদের মধ্যে হামনাহ বিনতে জাহাশ ছিল এ শ্রেণীভুক্ত।
যখন এই মুনাফেক-রটিত অপবাদের চর্চা হতে লাগল, তখন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে খুবই মর্মাহত হলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার তো দুঃখের সীমাই ছিল না। সাধারণ মুসলিমগণও তীব্রভাবে বেদানাহত হলেন। একমাস পর্যন্ত এই আলোচনা চলতে লাগল। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা উন্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার পবিত্রতা বর্ণনা এবং অপবাদ রটনাকারী ও এতে অংশগ্রহণকারীদের নিন্দা করে ৩০দিন পর উপরোক্ত আয়াতসমূহ নাযিল করলেন। অপবাদের হদ-এ বর্ণিত কুরআনী-বিধান অনুযায়ী অপবাদ আরোপকারীদের কাছ থেকে সাক্ষ্য তলব করা হল। তারা এই ভিত্তিহীন খবরের সাক্ষ্য কোথা থেকে আনবে? ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীয়তের নিয়মানুযায়ী তাদের প্রতি অপবাদের হদ প্রয়োগ করলেন। আসহাব বদরীনের মতো সাহাবীসহ প্রত্যেককে আশিটি বেত্ৰাঘাত করা হল। [আবু দাউদের বর্ণনায়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন জন মুসলিম মিসতাহ, হামানাহ ও হাসসানের প্রতি হদ প্রয়োগ করেন। [আবু দাউদঃ ৪৪৭৪] অতঃপর মুসলিমরা তাওবাহ করে নেয় এবং মুনাফেকরা তাদের অবস্থানে কায়েম থাকে। তবে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাস্তি দিয়েছেন প্রমাণিত হয়নি। যদিও তাবরানী কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাস্তি দিয়েছেন। [দেখুন- মু‘জামুল কাবীরঃ ২৩/১৪৬(২১৪), ২৩/১৩৭(১৮১), ২৩/১২৫(১৬৪), ২৩/১২৪(১৬৩)] এছাড়া মিথ্যা অপবাদে শরীক হওয়ার জন্য কখনো তাদের সাক্ষী গ্রহনযোগ্য হবে না বলে সিদ্ধান্ত দিলেন।
[২] عُصْبَةٌ শব্দের অর্থ দশ থেকে চল্লিশ জন পর্যন্ত লোকের দল। এর কমবেশীর জন্যও এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। [দেখুন-ইবন কাসীর, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]
[৩] অর্থাৎ যারা এই অপবাদে যতটুকু অংশ নিয়েছে, তাদের জন্য সে পরিমাণ গোনাহ লেখা হয়েছে এবং সে অনুপাতেই তাদের শাস্তি হবে। [বাগভী]
[৪] উদ্দেশ্য এই যে, যে ব্যাক্তি অপবাদে বড় ভূমিকা নিয়েছে অর্থাৎ একে রচনা করে চালু করেছে, তার জন্য গুরুতর আযাব রয়েছে। বলাবাহুল্য, এ ব্যক্তি হচ্ছে মুনাফেক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই। [মুয়াসসার]
এখানে কয়েকটি উসুলী কথা হলো,
(১) আম্মাজান আয়শা রাযি এর উপর যদি জঘন্য অপবাদ দিয়ে মদিনার বাতাসকে মুনাফিকরা ভারী করে তুলতে পারে, তাহলে ১৪শত বছর পরে এসে কোন আলেম বা আমীরের বিরুদ্ধে জঘন্য অপবাদ ও গুজব ছড়িয়ে বাতাসকে ভারী করা কি অস্ববাবিক কিছু? কারণ আম্মাজানের পায়ের ধুলোর মর্যাদাও রাখেন না এজামানার কোন আলেম। আম্মাজান আয়শা রাযি: এর এমন দশটি গুন আছে যায় এই উম্মতের করো মাঝে নেই। ১. রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল আল্লাহ পাকের সিদ্ধান্তে। ২. আয়শা রাযি এর বিয়ের উকিল ছিলেন হযরত জিবরাইল আমীন। ৩. আয়শা রাযি রাসুলের একমাত্র কুমারী স্ত্রী। ৪.হযরত আয়শা রাযি উম্মতের সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস ও ফকীহ। ৫. তার কুলে মাতা রেখে রাসুল দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছিলেন। ৬. আম্মাজান আয়শা রাযি এর গৃহে রাসুল রওজা পাকে শুয়ে আছেন। ৭. আম্মাজান আয়শা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযিঃ এর সিদ্দিকা মেয়ে। ৮. আম্মাজান আয়শা রাযি এর পবিত্রতা আল্লাহ বর্নণা করেছেন। ৯. আম্মা জানের উপর কুরআনের দশটি আয়াত নাজিল হয়েছে। ১০. রাসুল এর ইন্তেকালের পর শরিয়ত ও ইমারতের বিষয়ে সাহাবাদের যাবতীয় মালসা মাসাইল ও পরামর্শ দিয়ে তিনি দ্বীনের মহান খাদে মের ভুমিকা পালন করেছেন।
(২) মোনাফিকদের চাক্রান্তে পড়ে অপপ্ররের কাজে যদি আসহাব বদরীনদের মতো কোন কোন সরলমনা মুসলমান শরীক হয়ে পড়তে পারেন, আজকের যুগের মুনাফিকদের চাক্রান্তে পড়ে আজকের যুগের আলমেরা বিভ্রান্ত হয়ে অপপ্রচার শরিক হওয়া কি অস্বাভাবিক কিছু? আসহাবে বদরীন ঐসমস্ত সাহাবী যাদের আগের ও পরের সকল গোনাহ আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। বর্তমান যামানার সকল পীর দরবেশ, ওলী আউলিয়া, আলেম, মুহাদ্দিস, মুফতী জমহুরিয়াত মিলে একজন আদনা সাহাবীর সমান হতে পরেন না, যিনি একদিন বা সামান্য সময় রাসুলের সোহবত পেয়েছেন। আর আম্মাজান আয়শা রাযি এর বিরোদ্ধ রটনা ও অপপ্রচারে আসহাবে বদরের মর্যাদাবান সাহাবী জড়িয়ে পড়েছিলেন।চাক্রান্ত কতোটা ভয়ংকর হলে এমন ঘটতে পারে ভাবা যায়। এই ঘটনা কি প্রমান করে না কেয়ামত পর্যন্ত যেন কেউ এমন বিভ্রান্তিতে শিকার হয়ে অপপ্রচারে নামতে পারেন।
(৪) রাসুল সাথে এর সকল ঘটনা উম্মতের জন্য শিক্ষা। মুনাফিকরা রাসুলের পবিত্র জীবনে কালেমা লাগানোর অনেক চেষ্টা করেও যখন ব্যার্থ হয়েছিল, তখন তার প্রিয়তমা স্ত্রীর উপর জঘন্য অপবাদ দিয়ে নবুওয়তের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নবীর দাওয়াতি কমিশনকে বন্ধ করতে চাচ্ছিল। এই ঘটনা থেকে কেয়ামত পর্যন্ত উম্মত শিক্ষা নিবে দাওয়াতের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এভাবেই মুনাফিকরা আমীর কিংবা তার পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে। আর সেই ষড়যন্ত্রের পাতানো ফাঁদে তোমাদের লোক (তোমাদের একটি দল) জন্য জড়িয়ে যেতে পারেন। এমনকি বড়বড় মর্যাদাবান ব্যাক্তিরাও তাতে শরীক হয়ে গুজব, অপপ্রচার আর অপবাদ দিয়ে বাতাসকে ভারী ও পরিবেশকে কঠিন করে তুলতে পারেন।
(৫) আল্লাহ পাক ইচ্ছে করলে আম্মাজন আয়শা রাযি এর পবিত্রতা বর্ননা করে সাথে সাথেই কোরআনের আয়াত বলা অহি নাজিল করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ পাকের কয়েকটি হেকমতের কারণে ৩০দিন পরে সরায়ে নুরের এই দশটি আয়াত নাজিল করে আম্মাজানের পবিত্রতা বর্ণনা করলেন। রাসুলের দোয়া, আবু বকর সিদ্দিক রাযিঃ এর চোখের পানি, তিনি মসজিদের কোনে বসে তখন ঢেকুর দিয়ে কাঁদতেন আর বলতেন, আমার মেয়ে এমন কাজ করতে পারে না, আমি বিশ্বাস করি না। জাহিলিয়াতের যুগেও আবুবকরের মুখ ও উরু পবিত্র ছিল। আয়শা রাযি এর রোনাজারি, সাহাবাদের দোয়া, কান্নাকাটি কবুল হয়ে আসতে তিশ দিন লেগেছে, আজকের যুগে কোন আল্লাহর বান্দা যদি এমন কোন অপপ্রচারে শিকার হন, তাহলে তার বিষয়ে উম্মতের সামনে সত্য উম্মোচিত হতে তিশ বছরও লাগতে পারে।মুনাফিক দের শেষ ব্যাক্তিটি পোছন থেকে কলেজ কবজা নাড়ছিল। শেষ ব্যাক্তিটি যখন বেড়িয়ে এলো তখন মামাকে খালেছ করতে আল্লাহ পাক আয়াত নাজিল করতেন। নতুবা আগে আয়াত নাজিল হলে সেই পেছন থেকে পরবর্তীতে আরো জঘন্য কাজ করত মুসলমান সেরে, এটি ছিল আল্লাহর একটি হেকমত বটে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com