সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

তাবলীগের ইমারত নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেন! তাদের নিয়ে উম্মাহকে নতুন করে ভাবতে হবে

তাবলীগের ইমারত নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেন! তাদের নিয়ে উম্মাহকে নতুন করে ভাবতে হবে

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | বাংলাদেশে একটি কথা খুব চালানো হচ্ছে যে, মাওলানা সাদ কান্ধলভী নিজামুদ্দিন মার্কাজে জোরেই তাবলীগের বিশ্ব আমীর হয়েছেন। ১২০টি দেশের কাজ নিয়ে চলনেওয়ালা সাথীদের পরামর্শে তাকে দাওয়াতের কাজের বিশ্ব আমির হিসাবে মনোনিত করা হয়। কাজের পুরানো সাথীদের এমন আহাম মাশোয়ারাকে এবাউট করে যারা আজ তার ইমারত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের নিয়ে উম্মাহকে নতুন করে ভাবতে হবে।

পারিবারিক সূত্রে মাওলানা সাদ কান্ধলভি তাবলিগি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শৈশব থেকেই তিনি তাবলিগের কাজে মেহনত করছেন।

আলেম হয়ে দাওয়াতের কাজে লাগার পর তাবলিগের কাজে তার অক্লান্ত মোজাহাদা, শ্রম ও নিষ্ঠার কারণেই হজরত ইনামুল হাসান (রহ.) ১০ সদস্যের শূরা কমিটির অন্তর্ভুক্ত করেন এবং অনেক প্রবীণ ও বিজ্ঞ লোকের উপস্থিতিতে তাকে ৩ জন আমীরে ফায়সালের একজন মনোনীত করেন। হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ আমীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুন্নাতে ফারুকী অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। তাকে এ পরামর্শ দিয়েছেন মাওলানা ওবাইদুল্লাহ সাহেব রহঃ।

তাই আমীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি তাই করলেন, যেমনটি খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে করেছেন দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক রাঃ। হজরত ওমর রাঃ ছয়জনের এক শুরা বানিয়েছিলেন পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য। সেই শুরাই পরামর্শ করে হজরত ওসমান গনি রাঃকে তৃতীয় খলিফা নির্বাচন করে।

হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃও ঠিক সেভাবে পরবর্তী আমীর নির্ধারণ করার জন্য দশজনের শুরা বানিয়ে যান। তাঁর সেই শুরার সদস্য ছিলেন হজরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান সাহেব রহঃ, হজরত ইজহারুল হাসান সাহেব রহঃ, হজরত জোবায়রুল হাসান রহঃ, হজরত মিয়াজি মেহরাব সাহেব রহঃ, হজরত মোহাম্মদ সাহেব রহঃ, হজরত সাদ সাহেব, হজরত আজহার সাহেব রহঃ, ইঞ্জিনিয়ার হাজী আব্দুল মুকিত সাহেব রহঃ, ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দামাত বারাকাতুহু তাঁরা সবাই হজরতজীর ইন্তিকালের পর তিনদিন নিজামুদ্দীনে অবস্থান করেন। কিন্তু একক আমীর নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন। অবশেষে তাঁরা তিনজন ফায়সাল নির্বাচন করেন, যারা পালাক্রমে আমীরে হিসেবে ফায়সালা দেবেন।

লক্ষণীয় বিষয়, হজরতজী রহঃ কিন্তু শুরা বানিয়েছিলেন একজন আমীর নিযুক্ত করার জন্য, কিন্তু তাঁরা তা করতে সক্ষম হন নি। একজনের পরিবর্তে তিন আমীর বা ফয়সাল নির্বাচন করা নিঃসন্দেহে একটা বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। যা হজরত আল্লামা ত্বকী ওসমানী হাফিজাহুল্লাহ মাওলানা মুসা সাহেবকে লিখা পত্রে উল্লেখ করেছেন। যাই হোক, তাঁরা মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ, মাওলানা জোবায়রুল হাসান রহঃ ও মাওলানা সাদ হাফিজাহুল্লাহকে তিন আমীর কাজের জন্য নির্ধারণ করে যান। হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ কর্তৃক বানানো শুরাই এই তিনজনকে আমীরে ফয়সাল হিসেবে নির্ধারণ করে গিয়েছেন। আর সেভাবেই ধারাবাহিকভাবে তারা ফয়সাল হিসেবে ফয়সালা করে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হজরত মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ ইন্তিকাল করেন। আমীর ছাড়া শুধু শুরা প্রদ্ধতি সুন্নতের খেলাফ ও তাবলীগের আকাবিরদের নীতি বিরোধী হওয়ায় এখানে তার স্থলা ভিষক্ত কাউকে করা হয়নি বিগত ১৮বছর। এরপর হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেব ও হজরত সাদ সাহেব পালাক্রমে ফয়সালা দিতে থাকেন। এভাবে ফয়সাল বানানোর পর থেকে আটারো বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। এই প্রদ্ধতি ছিল রাসুল সা এর জঙ্গে তবুকে একের পর এক তিনজন আমীর নির্ধারনের মতো।

যতোদিন যুবায়রুল হাসান রহ জীবিত ছিলেন, বিশ্ব ইজতেমার দোয়া আমিরে হিসাবে তিনিই করতেন। আবার নিজামুদ্দীন মারকাজে পুরো রমজান মাস হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেবের অনুপস্থিতিতে হজরত সাদ সাহেব ফয়সালা করতেন। হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেবের ইন্তিকালের পর থেকে শুধু একজনই আমীরে ফয়সাল বেঁচে আছেন, তিনি মাওলানা সাদ সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। তিনি নিজে নিজে আমীর হন নি। বরং হজরতজী ইনায়মুল হাসান সাহেব রহঃ এর বানানো শুরার নির্ধারিত তিন ফয়সালের একজন। স্বাভাবিকভাবেই ওখানে কোন আলমি শুরা ছিলো না। বরং পরামর্শক্রমে বানানো ফয়সাল বর্তমান থাকায় তিনিই শরঈ দৃষ্টিকোন থেকে বর্তমান আমীর। হজরত ওসমান রাঃকে বিদ্রোহীরা খেলাফতের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেছিলো, কিন্ত তিনি তা ছাড়েন নি। কারণ তিনি তো ছিলেন হজরত ওমর রাঃ এর বানানো শুরার নির্ধারিত খলিফা।

এখানেও বিষয়টি অনুরূপ। আর নিজামুদ্দীনে ঠিক ঐভাবে শুরা আছে, যেভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনেরও শুরা থাকতো। এই শুরার সাথে পরামর্শ করেই খলিফা সিদ্ধান্ত দিতেন। নিজামুদ্দীনের নয়জনের শুরা যা গতবছরের শেষ দিকে তাকমিল করা হয়েছে, সে শুরাও এমনই। কিন্তু ফয়সাল বা জিস্মাদারতো সাদ সাহেবই। এখন যে আলমি শুরার নামে নতুন শুরা তাসলিম করার জন্যে তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে, তা তাসলিম না করার এটিই কারণ। কারণ আগে থেকেও কোন আলমি শুরা ছিলো না, বরং তিন ফয়সালের একজন এখনও জীবিত থাকা অবস্থায় এর কোন যৌক্তিকতাও নেই। তাকে এজন্যই চাপ দেয়া হচ্ছে, যেন প্রস্তাবিত আলমি শুরা থেকে পালাক্রমে আমীর বানানো হয়, অথচ ফয়সাল তো হজরতজী রহঃ কর্তৃক বানানো শুরার নির্ধারিত তিনজনের একজন এখনও জীবিত আছেন। আর এই যে আলমি শুরা তাসলিমের জন্য তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে তাও তিনি এবং ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের অনুপস্থিতিতে নিযামুদ্দীনে উমুর পেশ না করে পাকিস্তানে বসে কিছু লোক চক্রান্তকরে বানিয়েছে। শতবর্ষী বয়েসী বযোবৃদ্ধ ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের সামনে পেশ করার পর একশতবার আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি বলে তিনি তাতে সাক্ষর করেছেন, কিন্তু আমীরে ফয়সাল তা এই বলে গ্রহন করেন নি, আমাদের এখানে তো আলমি শুরা ছিলো না, আর হজরতজীর বানানো শুরার নির্ধারিত ফয়সাল তো এখনও জীবিত আছেন। নীচের ভিডিওতে বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। সবার প্রতি কথাগুলো নিজ কানে শুনে নেয়ার অনুরোধ। https://m.youtube.com/watch?v=UOKppsQ6OfY

একই বিষয়ে শায়খুল হাদীস দারুল উলুম আফ্রিকার বক্তব্য শুনুন।

https://m.youtube.com/watch…

বিশ্ব আমীর যেভাবে
===============
গত ২২জানুয়ারী ২০১৭ রবিবার টঙ্গির বিশ্বইজতেমার ময়দানে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের সারা দুনিয়ার জিম্মাদার সাথীদের আলমী পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়। পরামর্শের শুরুতে কাতার, কুয়েত, জর্ডান, দুবাই, সৌদিআরব, সুদান, মরোক্কস, ওমান, এয়ামান, লেবানন, উগান্ডা, ফিলিস্তিন সহ আরব জাহানের নানা দেশের জিম্মাদারগন সর্ব প্রথম আলাদা আলাদাভাবে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধালভী (দামাত বারাকাতুহুম) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, দাওয়াতের মেহনতের শায়খুল আরব ওয়াল আজম হিসাবে হযরতজির কাছে বাইয়াতের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে এক এক করে ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন সহ সকল দেশের জিম্মাদার হযরতগন সারা দুনিয়ার আমির হিসাবে মাওলানা সাদ কান্ধালভী হাফি: কাছে বাইয়াত গ্রহন করেন। ১২০টি দেশের কাজ নিয়ে চলনেওয়ালা সাথীদের পরামর্শে তাকে দাওয়াতের কাজের বিশ্ব আমির হিসাবে মনোনিত করা হয়। কাজের পুরানো সাথীদের এমন আহাম মাশোয়ারাকে এবাউট করে যারা আজ তার ইমারত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের নিয়ে উম্মাহকে নতুন করে ভাবতে হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com