সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

মাঠে কি টয়লেটের পানি ছেড়েছিলেন জুনাইদ আল হাবীব? (ভিডিও সহ)

মাঠে কি টয়লেটের পানি ছেড়েছিলেন জুনাইদ আল হাবীব? (ভিডিও সহ)

ষ্টাফ রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডি.কম

আলেমদের জন্য নির্মিত খাস কামরা সংলগ্ন ৭নং টয়লেটের পাইপ ফেটে ময়দানের মিম্বরের চারপাশ এবং আলেমদের বিশেষ খিত্তা রহস্যজনকভাবে প্লাবিত হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এটি কি কোন দুর্বৃত্তের পরিকল্পিত কারসাজি নাকি খাস কামরায় থাকা কোন বিপথগামী আলেমের কাজ? এসব নানান জল্পনা-কল্পনার মাঝেই একটি ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় ব্যপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সরকারবিরোধী ২০দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা বক্তা জুনাইদ আল হাবীব এই ঘটনার মাত্র ৪দিন পূর্বে এক ওয়াজে অনুরূপ অঘটনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, এদেশে ইজতেমা একটাই হবে। পরে কিছু লোক ময়লা ও মলমূত্র পরিষ্কার করার জন্য আসতে পারে।

পুরো পরিস্থিতিটি অনুধাবন করার জন্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে ভিডিওটি দেওয়া হলো।

টয়লেটের পানিতে খাস কামরায় ঘুমন্ত আলেমরা রাতেই ভিজে যান

উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সচেতন মহল এখন ভাবতে শুরু করেছেন, তাহলে কি পরোক্ষভাবে হলেও জুনাইদ আল হাবীবের ইন্ধনেই এমনটি ঘটেছে? ময়দানের কোনায় কোনায় অর্ধশত টয়লেটের মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন পাইপ গভীর রাতে ছুটে যাওয়ার রহস্য উক্ত সন্দেহকে আরো উগড়ে দিয়েছে।

মাঠ শুকিয়ে গেছে; বুঝে নিয়েছেন মূলধারার মুরুব্বীরা (ভিডিওসহ)

প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা আলেমদের খাস কামরায় একাধিকবার জুনাইদ আল হাবীবকে দেখেছেন। এটি তার সৃষ্ট সরকারবিরোধী কোন ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন অনেকেই।

চিন্তাশীল আলেমরা মনে করছেন, জুনাইদ আল হাবীবের দ্বারা এমন কাজ অসম্ভব নয়। কারণ, ৫মে শাপলা চত্বরে বিএনপি-জামাতকে সাথে নিয়ে সরকার পতনের নীলনকশার নেপথ্য নায়কদের অন্যতম ছিলো এই লোকটি। সেদিন বিকালে ক্ষমতা দখলের উগ্র ভাষণ দিয়ে নিরীহ মাদরাসার ছাত্রদেরকে ফেলে রেখে রাতের আঁধারে লণ্ডনে পালিয়ে গিয়েছিলো এই জুনাইদ আল হাবীব। সচেতন মহল তার আলোচিত বক্তব্যটি শুনে মন্তব্য করছেন যে, কোন ধার্মিক ও সভ্য পরিবারের সন্তান এভাবে কথা বলতে পারে না। তাই তারা মনে করছেন, বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে গোটাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে এই মলমূত্রসহ পানি ছাড়ার ঘটনাটি জুনাইদ আল হাবীদের পূর্বপরিকল্পিত কাজ কিনা, সেটা যাচাই করার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তবে তাবলীগের মূলধারার অনেক সাথীই মনে করছেন, ঘটনার সাথে জুনাইদ আল হাবীব সরাসরি জড়িত না থাকলেও তার সেই উগ্রবক্তব্যে কেউ প্ররোচিত হয়েও এমনটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।

নবীর ওয়ারিশ দাবিদারগণের জন্য এমন উগ্র আচরণ ও হিংস্র বক্তব্য কতটা ইসলাম সমর্থিত, এমন প্রশ্নের জবাবে দারুল উলূম উত্তরার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মুফতি মু’আজ বিন নূর বলেন, আমরা ‘কিতাবুল ফিতান’-এর হাদীস অনুসারে পৃথিবীর একেবারে জীবনসায়াহ্নে উপনীত হয়েছি। এই আখেরী যামানায় এমন ঘটনা নিতান্তই স্বাভাবিক। তিরমিযী শরীফের ২৪০৪ নং হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেছিলেন “يخرج في آخر الزمان رجال يختلون الدنيا بالدين يلبسون للناس جلود الضأن من اللين، ألسنتهم أحلى من السكر، وقلوبهم قلوب الذئاب” অর্থাৎ আখেরী যামানায় এমনকিছু লোক প্রকাশ পাইবে যারা দ্বীনের আড়ালে দুনিয়া শিকার করবে। বাঘের নরম চামড়ার মত পাতলা পোশাক পরিধান করবে (যার কারণে জনসাধারণ তাদেরকে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি মনে করে বসবে।) তাদের জিহ্বা চিনির চাইতেও মিষ্ট হবে। কিন্তু তাদের অন্তর হবে বাঘের মত হিংস্র। (এসব লোকদের ব্যপারে) আল্লাহ তা’আলার হুশিয়ারসূলভ ঘোষণা হলো, এরা কি আমার ঢিল দেওয়ার কারণে ধোঁকায় পড়ে রয়েছে? নাকি আমার ব্যপারে নির্ভীক হয়ে আমার মুকাবেলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে? আমি আমার কসম করে বলছি, আমি তাদের মাঝে তাদের মধ্য থেকেই এমন ফেতনা খাড়া করবো, যা তাদের জ্ঞানী, শান্ত ও সহনশীলদেরকেও দিশাহারা (ও পেরেশান) করে ছাড়বে। (অর্থাৎ তাদেরই মধ্য থেকেই তাদের উপর এমন এমন লোক নিযুক্ত করে দিবো যারা তাদেরকে বিভিন্ন প্রকারে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকবে।)

মুফতি মু’আয বিন নূর আরো বলেন, উক্ত হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী বর্তমানের ওয়াজব্যপারীরা চিনির মত মিষ্টি করে কথা বললেও কথার ভাজে ভাজে তাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকা বাঘের মত হিংস্রতাও প্রকাশিত হয়ে যায়। অতএব, এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। এদের পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে সেটা হাদীসের শেষাংশে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা কসম খেয়ে ঘোষণা করেছেন।

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com