রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

মাঠ সম্পূর্ণ পরিস্কার: অপরিচ্ছন্নতায় ৫৫বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে ছিলেন অজাহাতিরা

মাঠ সম্পূর্ণ পরিস্কার: অপরিচ্ছন্নতায় ৫৫বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে ছিলেন অজাহাতিরা

টঙ্গী প্রতিনিধি: তাবলীগ নিউজ বিডি.কম

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বের জন্য টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কোথাও কোন ময়লা বা পানির চিহ্ন নেই। বিগত ৩দিন সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা মিলে ময়দানকে একেবারে পরিচ্ছন্ন করে ফেলেছেন।

আজ বুধবার ময়দান ঘুরে দেখা যায়, দলে দলে মুসল্লীরা দুদিন আগেই ময়দানে চলে আসছেন। বিভিন্ন নজমের মোজাকার চলছে। মাঠ এতোটাই পরিস্কার যে, এখানে তিনদিন আগে কোন ইজতেমা ছিল সেটি বুঝারও কোন উপায় নাই।

এর আগে গত শনিবার রাত থেকে ইজতেমার ১ম পর্বে আলেমদের খাস কামরায় টয়লেট ছুটে আশপাশ নোংড়া পানিতে সয়লাব হয়ে লাখো মুসল্লী ও আলেমদের সীমাহীন ভোগান্তি ও নাপাক হতে হয়েছিল।

এই পবিত্র ময়দানে এমন দুর্ভোগ ৫৫বছরের ইতিহাসে বিরল। এদিকে অনেক দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধের মাঝে দোয়া হলেও গত ৩দিনে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা মিলে ময়দানকে পরিস্কার করে ও পবিত্র করে তোলেন। গাজিপুর সিটি মেয়র ও কর্মকর্তারা মূলধারার সাথীদেরকে এই ময়লা পানি পরিস্কার করতে দেন নি। বলেছেন, এসব সরকারীভাবে নতুন করে সাঁজিয়ে দেয়া হব। আপনাদের হাত দিয়ে এসব নাপাক পরিস্কার করতে দিবো না।

তাবলীগের প্রতি সিটি কর্পোরেশনের এতো সম্মান ও প্রসাশনের শ্রদ্ধা দেখে তাবলীগের মুবাল্লিগরা অভিভূত।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মিডিয়াকে বলেছেন, আমরা প্রতি বছর ময়দানে কাজ করি। ৫৫বছরের ভিতর এতো ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন মাঠ কখনে দেখিনি। ১ম পর্বে উনারা যা করেছেন, তা কোন ভদ্রজনের কাজ হতে পারে না।

এদিকে তাবলীগের সাথীরা বলছেন, কথিত আলেমদের তত্বাবধানে ইজতেমায় ময়দানকে যে নোংড়া করা হয়েছে, আমরা যদি কখনো ১ম পর্বে ইজতেমা করি তাহলে পরবর্তী ইজতেমার জন্য নিজ হাতে পূর্বের চেয়ে সুন্দর মাঠ বুঝিয়ে দিয়ে যাবো।

তবে অনেকেই মনে করছেন, তাবলীগের সাথী ছাড়া কেবল লাখ লাখ ছাত্র দিয়ে মাঠ ভরায় অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ব ছোট ছেলেরা এতো নোংরা করেছে। তারা সিটি কর্পোরেশন ও বিভিন্ন বাহিনীর দ্রুত সময়ে ময়দান পরিচ্ছন্ন করায় তাদের মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

ঐতিহাসিক এই নোংরামির ব্যপারে মূলধারার সাথীরা কী ভাবছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দারুল উলূম উত্তরার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মুফতি মু’আয বিন নূর বলেন, ‘আমাদের উচিত, আক্রান্ত উলামায়ে কেরামের কাছে গিয়ে গিয়ে মাফ চাওয়া। ছোটবেলার সেই ঘটনা বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে। এক ইহুদি পথিক নবীজীর মেহমানদারীর খবর শুনে নবীজীর ঘরে মেহমান হয়েছিলো। নবীজীর অতিথিপরায়ণতা পরীক্ষা করার জন্য একাই ঘরের সব খাবার খেয়ে ফেলে। ক্লান্তশ্রান্ত শরীরে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে তার পেট খারাপ হয়ে যায়। মধ্যরাতে প্রচন্ড তরলচাঁপে সে নবীজীর ঘরের সমস্ত বিছানাপত্র পায়খানা দিয়ে মাখিয়ে ভোর হওয়ার আগেই পালিয়ে যায়।

পথিমধ্যে নবীজীর ঘরে ফেলে আসা তরবারির কথা মনে পড়লে সকালে সে ফিরে এসে দেখে, নবীজী তার ময়লা করে রাখা বিছানাপত্র নিজ হাতে ধুইছেন। তাকে দেখতে পেয়ে নবীজী জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে বললেন, আমাকে মাফ করে দাও। সারারাত তোমার কত কষ্ট হয়েছে। সব মাখিয়ে ফেলেছো। আমি তোমার খোঁজ নিতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করো। তাঁর এমন মহানুভবতায় সেই ইহুদী লোকটি মুসলমান হয়ে যায়।

মুফতি মু’আয বিন নূর আরো বলেন, উপরের ঘটনাবলম্বনে গত সপ্তাহে শেষ হওয়া ইজতেমায় যে সকল জমহুর উলামায়ে কেরাম নিজেদের থাকার জায়গা, বয়ানের মিম্বর ও আশপাশ এলাকা মলমূত্র দিয়ে মাখিয়ে রেখে গেছেন, তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। পাশাপাশি আগামী ইজতেমাগুলোতে “সবার পেটে ঘি হজম হয় না” কথাটি মনে রেখে উলামায়ে কেরামের খাবার প্রস্তুতির ব্যপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com