রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

দাওয়াতের মেহনত উম্মাহর ঐক্যের অনন্য নজির

দাওয়াতের মেহনত উম্মাহর ঐক্যের অনন্য নজির

শায়খুল ইসলাম মাওলানা সা’দ কান্দালভীর বয়ান

আমরা একবার মক্কা মুকাররামার এক বড় আলেমের জিয়ারতে যাই। তিনি তাবলীগের কাজকে ঘৃণার চোখে দেখতেন। তাবলীগের বিরুদ্ধে তিনি ফতুয়া দিয়ে গ্রন্থও লিখেছিলেন। আমি বললাম তাঁর কাছে গিয়ে দেখা করা দরকার। মতবিনিময় হওয়া প্রযোজন। স্থানীয় সাথীরা আমাকে বললেন, না, তিনি খুব বিরোধীতা করেন তাবলীগের। আমি বললাম আমি তো মুওাফেক্ব(পক্ষীয়) মুয়ারেয (বিরোধী) বুঝি না। আমি তো আলেমের জিয়ারতে যাব তিনি পক্ষের হোক বা বিপক্ষের এটা দেখার বিষয় নয়। একজন মুসলমানের যিয়ারতেরই তো হাদীসে অনেক আজর (নেকী) এসেছে। তাহলে আলেমের যিয়ারতের নেকী কত হবে!!!

যারা বিরোধীতা করবে তাদের নিয়ে কাজ করাই তো নববী মেহনতের ত্বরীকা। তাবলীগ সমালোচনা ও বিরোধীতা সহ্য করে পথ চলে বলেই তো পুরো উম্মত আজ এক ছাতার নিছে সমবেত হচ্ছে। বরং যারা এমেহনতের বেশি বিরোধীতা করবে, বেশি সমালোচনা করবে, তাদের কাছে গাশত বেশি হওয়াই আমাদের মেজাজ। তারা দূর থেকে দেখছেন বলে এমন ভাবছেন। তাদের কাছে নিয়ে এলে দেখবেন তার মনের সংকোচতা ও বৈর মনোভাব খতম হয়ে যাবে। দাওয়াতের মেজাজই হলে বিরোধীদের সাথে নিয়ে কাজ করা। তাদের সমালোচনা ও অপপ্রচার সহ্য করা। নবীরা কত অপপ্রচারে শিকার হয়েছেন। তারা বরদাশত করে দাওয়াতের ময়দানে কাজ করেছেন। যারা বিরোধীতা করে তাদের কাছে বেশি করে আসা যাওয়া করা। এতে নিজের তরক্বী হবে। সংশোধন হবে। রবদাশতের মেজাজ তৈরি হবে।

আমরা আরব শায়খের কাছে গেলাম। তাঁর কাছে যাবার পর জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কোথা থেকে এসেছেন?? আমরা বললাম ইন্ডিয়া থেকে এসেছি। তাবলীগের মার্কাজ নিযামুদ্দিনের (তাবলীগের প্রধান মারকায, দিল্লীতে অবস্থিত) সাথী । এতটুকু শুনেই তিনি কান্না শুরু করে দিলেন। এত কাঁদলেন যে আমরা ঘাবড়ে গেলাম। আমরা তাঁর কান্না থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম শায়েখ কি ব্যাপার?? আপনি এভাবে কাঁদছেন কেন??

তিনি বলতে লাগলেন, আমি সব সময় এই কাজের বিরুদ্ধে ফতুয়া দিয়েছি। কাতারে একটি কনফারেন্স ছিল। আমি সেখানে অতিথি ছিলাম।
আমি এয়ারপোর্টে নামলাম। তারপর সেই কনফারেন্সের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। রাস্তায় মাগরিবের নামযের জন্য একটি মসজিদে গেলাম।দেখলাম মসজিদের ভেতর একটি মজলিস চলছে। একজন দাড়িয়ে বয়ান করছে। হাতে বেশ সময় ছিল আমি সেখানে বসে গেলাম।

সেখানে আরব আজমের লোক বসে ছিল !
আমি আমার সামনে বসা ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কোথা থেকে এসেছ??
তিনি বললেন, ইয়ামান থেকে। আমি বললাম আপনি কোন মাযহাবের?? তিনি বললেন আমি শাফেঈ মাযহাবের। আমার ডান দিকের লোককে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কোন দেশের?তিনি বললেন আমি কাতারের। আমি বললাম আপনি কোন মাযহাবের?? তিনি বললেন আমি হাম্বলী মাযহাবের। আমার আরেকটু সামনে একজন সাদা কাপড় পরিহিত লোক ছিল। আমি তাঁকে বললাম আপনি কোন দেশী। তিনি বললেন আমি ইন্ডিয়ান
আমি বললাম আপনি কোন মাযহাবের? তিনি বললেন আমি হানাফী মাযহাবের। আমি সামনে আরেকজন কে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কোন মাজহাবের? তিনি বললেন আমি সালাফি। পাশের জন বললেন, আমি মালেকী।

সেই শাইখ বলতে লাগলেন, আমার মাথা ঘুরতে লাগল, আমি খুবি আশ্চর্যবোধ করলাম,যে আমাদের হারাম শরীফের দরসে এক মাযহাবের মজলিসে আরেক মাযহাবের ছাত্র বসতে পারে না।
অথচ এটা কেমন কাজ যেখানে শাফেঈ , হানাফী, হাম্বলী, মালেকী, সালাফি সবাই একত্রে বসে মনমোগ্ধের মতো দ্বীনী আলোচনা শুনছে, কিন্তু কোন বির্তক হচ্ছে না।

তিনি বললেন দুনিয়ায় এর নজির পাওয়া যাবে না।
আমি ২০ বছর বয়েস থেকে মসজিদে হারামে দরস দিচ্ছি। আমার মজলিসে শুধু তারা বসে যারা আমার মাযহাবের অনুসারী। আমি উঠে সোজা তাঁর কাছে গেলাম যে বয়ান করছিল? আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে এটা কোন কাজ? তিনি বললেন, এটা তবলীগের কাজ। আমি তখনই বুঝে গেলাম যে, উম্মতকে যদি কোন মেহনত, সারা দুনিয়াতে একত্র করতে পারে তাহলে এই তাবলীগের কাজই করতে পারবে। অতঃপর আমার সমস্ত প্রশ্ন সমস্ত অভিযোগ শেষ হয়ে গেল, যা এতদিন আমার মধ্যে ছিল!!
অনুলিখন, সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com